| বিকাল ৩:০৯ - বৃহস্পতিবার - ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ - ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ - ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বিপুল পরিমান জাল টাকাসহ চক্রের মূল হোতা ময়মনসিংহের সেলিম গ্রেফতার

লোক লোকান্তরঃ  কোরবানির পশুর হাট ও ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকার সংঘবদ্ধ চক্র। আর এই চক্রের মূল হোতা ময়মনসিংহের সেলিম ও সহযোগীরা র‌্যাবের গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েছেন।

 

রোববার (২৮ জুন) ভোর রাতে রাজধানীর মিরপুর ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও ভারতীয় রুপিসহ সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২।

 

র‌্যাব বলছে, এ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা আসন্ন কোরবানি ঈদে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

 

র‌্যাব-২ সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ দল রোববার রাত ১২টা থেকে মিরপুর পল্লবী এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জাল টাকার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে।

 

রাজধানীর মিরপুর থানাধীন ১২/ই ব্লক বাসা নম্বর ৬২ এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা জি ব্লক বাসা নম্বর ১৬১ থেকে মূল হোতা মো. সেলিম (৪০), মো. মনির (৪৫), মো. মঈন (৪০), মোছা. রমিজা বেগম (৪০), মোছা. খাদেজা বেগম (৪০), ও শাহীনুর ইসলাম (১৫) নামে ছয় জাল টাকা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

 

এসময় এক হাজার টাকা নোটের পৌনে চার কোটি জাল টাকা এবং ৫০০ ও দুই হাজার রুপির নোটের আনুমানিক ৪৪ লাখ ভারতীয় রুপি জব্দ করা হয়।

 

 

দুই বাসা থেকেই জব্দ করা হয় জাল টাকা বানানোর জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ডাইস, কাটারসহ প্রায় ৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল টাকা বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল (কাগজ, কালি, জলছাপ দেয়ার সমাগ্রী) উদ্ধার করা হয়।

 

পল্লবীর অভিযানস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, আসন্ন ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের ব্যাপকতা এবং ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর অসাধু চক্র দেশব্যাপী জাল টাকা ছড়িয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

 

বিশেষ করে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটের ব্যাপক লেনদেনকে কেন্দ্র করে জাল টাকা ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এক শ্রেণীর অসাধু চক্র আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জাল টাকা তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে।

 

বিশেষ করে ১০০ টাকার নোটকে সিদ্ধ করে ৫০০ টাকার ছাপ দিয়ে এবং বিশেষ রং, কাগজ ও প্রিন্টার ব্যবহার করে তৈরিকৃত ১ হাজার টাকার জাল নোটগুলো তৈরি করছে। যা দেখে আসল না নকল চেনা সাধারণ জনগণের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

 

প্রতি বছর পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী পশুর হাটগুলোতে জাল টাকার বিস্তার রোধ এবং দেশের জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদেরকে জাল টাকার মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষার জন্য জাল টাকা চক্রকে ধরার পাশাপাশি বাজার থেকে জাল নোট উদ্ধারের লক্ষে র‌্যাব কাজ করছে।

 

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, তারা জাল টাকা তৈরির সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। গ্রেফতার মঈন মো. মনিরকে জাল টাকা ছাপানোর সহযোগিতা করতো এবং প্রিন্ট করা টাকা কাটিং করার পরিকল্পনা করেছিল।

 

রমিজা বেগম সেলিমকে কাগজে আঠা লাগানোর কাজে সহয়তা করত এবং প্রয়োজনীয় ফুটফরমাশ খাটত। মোছা. খাদিজা বেগম এবং শাহীনুর সাদা কাগজে নিরাপত্তা সুতার জলছাপ দেয়ার কাজ করত।

 

গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, এ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা আসন্ন কোরবানি ঈদে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। করোনাকালীন এ সময়ে জাল টাকার এ ছড়াছড়ি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। জাল টাকার একটি বিশাল সিন্ডিকেট দেশের অভ্যন্তরে কাজ করছে।

 

জাল টাকা তৈরির ক্ষেত্রে কারবারি চক্রের কৌশল সম্পর্কে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, এই চক্রের মূল হোতা সেলিম। তিনি থাকেন ময়মনসিংহে। তার সহযোগীদের দিয়ে টাকা তৈরির জন্য কাগজ প্রস্তুত করেন। তারপর তিনি ঢাকা আসেন, ছাপার কাজ সম্পাদনা করেন। কারণ তিনি এই কৌশল অন্য কাউকে শেখাতে চান না।

 

আরেকটি কৌশল হচ্ছে তারা, ঢাকার বিভিন্ন বাসায় এই টাকাগুলো গচ্ছিত রাখেন তিনি। যাতে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সব টাকা উদ্ধার করতে না পারে।

 

তারা মূলত তিনটি ধাপে জাল টাকা তৈরি করে। প্রথম ধাপ হচ্ছে, তারা পুরান ঢাকা থেকে নির্দিষ্ট মাপে কেটে দিস্তা দিস্তা কাগজ কিনে নিয়ে আসে। যাতে করে একটি কাগজে চারটি নোট তৈরি করা যায়।

 

তারা বসুন্ধরাতে একটি বাসা ভাড়া করেছে। যেখানে ওই কাগজে সিকিউরিটি ব্যান তৈরি করার জন্য তারা ফয়েল পেপার দিয়ে দুটো কাগজকে একত্রিত করে জলছাপ দেয়। আর এক পাশে বঙ্গবন্ধুর ছবির জলছাপ দেয়। বসুন্ধরার ওই বাসার কাজ সম্পন্ন করে তারা ওই টাকা পল্লবীর বাসায় নিয়ে যায়।

 

এরপর মূল হোতা সেলিম ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর প্রিন্ট দেয়ার বাকি কাজ তিনি নিজে সম্পাদন করে।

 

দ্বিতীয় ধাপে তাদের কাজ হচ্ছে একেকটা এক লাখ জাল টাকার বান্ডিল সুন্দরভাবে পাইকারদের কাছে পৌঁছে দেয়া। আর কোরবানির সময় বা ঈদের কেনাকাটা ব্যস্ততায় তারা এই টাকাগুলো ব্যবহার করে।

 

সারোয়ার বিন কাশেম আরও বলেন, ২০১৮ সালে এই সেলিম ৫৪ লাখ ভারতীয় মুদ্রা ও ৫ লাখ টাকা দেশি মুদ্রাসহ র‌্যাবের কাছে ধরা পড়েছিল। কিছুদিন জেলে থাকার পর আবার বেরিয়ে এসে একইভাবে জাল টাকার কারবার শুরু করে।

 

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তিনি ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার জাল নোট ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ | জুন ২৯, ২০২০