| রাত ৮:৪০ - শনিবার - ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ - ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ - ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

১০ জেলার ২৭ রেড জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা

লোক লোকান্তরঃ  মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের অতি ঝুঁকিতে থাকায় দেশের ১০ জেলার ২৭ এলাকায় রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

 

রোববার (২১ জুন) মধ্যরাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, যশোর ও মাদারীপুরের ২৭টি রেড জোন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে আদেশ জারি করেছে।

 

আদেশে বলা হয়েছে, রেড জোন ঘোষিত এলাকায় বসবাসরত সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে। এই ছুটির মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

এছাড়া রেড জোন ঘোষিত এলাকায় অবস্থিত সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত ও অন্য এলাকায় বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও এ ছুটি প্রযোজ্য হবে।

 

সাধারণ ছুটি চলাকালে এসব এলাকার লোকজনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবা এ সাধারণ ছুটির বাইরে থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

 

আদেশ অনুযায়ী এসব এলাকায় ২১ জুন থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাধারণ ছুটি থাকবে। কোন কোন রেড জোনে কোন ২১ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে আদেশে তাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

 

করোনা মোকাবিলায় বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড (লাল), অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়েলো (হলুদ) এবং একেবারে কম আক্রান্ত বা আক্রান্তমুক্ত এলাকাকে গ্রিন (সবুজ) জোন হিসেবে চিহ্নিত করছে সরকার।

 

রেড জোনকে লকডাউন করা হচ্ছে, সেখানে থাকছে সাধারণ ছুটি। ইয়োলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।

 

যেসব এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে সেগুলো হল-  চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড নং-১০ উত্তর কাট্টলি (বিসিক শিল্পনগরী ব্যতীত) ২১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ছুটি থাকবে।

 

বগুড়া পৌরসভার চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া, নারুলী, জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর, মালতীনগর, ঠনঠনিয়া, হাড়িপাড়া ও কলোনি ২১ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ছুটি থাকবে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা এজলার দর্শনা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পরানপুর গ্রামের রিফিউজি কলোনি ও ৭নং ওয়ার্ডের থানা পাড়া ২১ জুন থেকে ৮ জুলাই ছুটি থাকবে।

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ক্রাথলিক মিশন রোড, রূপশপুর, সবুজবাগ, মসলিমবাগ, লালবাগ, বিরাইমপুর এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কালীঘাট রোড ও শ্যামলী, কুলাউড়া উপজেলাধীন বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর, কাদিপুর ইউনিয়রে মনসুর এবং কুলাউড়া পৌরসভার মাগুর ও মনসুর এলাকা ২১ জুন থেকে ৫ জুলাই ছুটি থাকবে।

 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন (উত্তরে বালু ব্রিজ, দক্ষিণে কায়েতপাড়া, পূর্বে কায়েতপাড়া এবং পশ্চিমে কাঞ্চন পৌরসভা ২১ জুন থেকে ২ জুলাই ছুটি থাকবে।

 

হবিগঞ্জ পৌরসভার ৬ ও ৯নং ওয়ার্ড, চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়ন, ৭নং উবাহাটা ইউনিয়ন ও ৯নং রানীগাঁও ইউনিয়ন এবং চুনারুঘাট পৌরসভা, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ১নং আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন; মাধবপুর পৌরসভায় ২১ জুন থেকে ৯ জুলাই ছুটি থাকবে।

 

মুন্সীগঞ্জের পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মাঠপাড়া ২১ জুন থেকে ৯ জুলাই ছুটি থাকবে।

 

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত ৩নং ওয়ার্ডের কালিয়াজুরি, রেইসকোর্স, শাসনগাছা; ১০নং ওয়ার্ডের ঝাণ্ডা, কান্দিরপাড়, পুলিশ লাইন, বাদুরতলা; ১২নং ওয়ার্ডের নানুয়ার দিঘীরপাড়, নবাববাড়ি চৌমুহনী, দিগাম্বরীতলা এবং ১৩নং ওয়ার্ডের টমছম ব্রিজ, থিরাপুকুরপাড় ও দক্ষিণ চর্থা এলাকা ২১ জুন থেকে ৩ জুলাই থাকবে।

 

যশোরের অভয়নগর উপজেলাধীন চলিশিয়া, পিযারা ও বাঘুটিয়া ইউনিয়ন এবং অভয়নগর পৌরসভার ২, ৪, ৫, ৬ ও ৯নং ওয়ার্ড এলাকা; চৌগাছা উপজেলাধীন চৌগাছা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এলাকা; ঝিকরগাছা উপজেলাধীন ঝিকরগাছা পৌরসভার ২ ও ৩নং ওয়ার্ড এলাকা; কেশবপুর উপজেলাধীন কেশবপুর পৌরসভার ১ ও ৩নং ওয়ার্ড এলাকা; যশোর সদর উপজেলাধীন যশোর পৌরসভার ৪ ও ৬নং ওয়ার্ড এবং আরবপুর ও উপশহর ইউনিয়ন; শার্শা উপজেলাধীন বেনাপোল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড এবং শার্শা ইউনিয়ন ২১ জুন থেকে ৬ জুলাই ছুটি থাকবে। ঝিকরগাছা উপজেলাধীন বাঁকড়া ইউনিয়ন; যশোর সদর উপজেলাধীন যশোর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড; ২১ জুন থেকে ৭ জুলাই ছুটি থাকবে।

 

অভয়নগর উপজেলাধীন শ্রীধরপর ইউনিয়ন; যশোর সদর উপজেলাধীন যশোর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড এলাকা; ২১ জুন থেকে ৮ জুলাই ছুটি থাকবে। শার্শা উপজেলাধীন বেনাপোল পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড এলাকা ২১ জুন থেকে ৯ জুলাই ছুটির আওতায় থাকবে।

 

মাদারীপুরের সদর উপজেলাধীন মাদারীপুর পৌরসভার ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ড এলাকা এবং বাহাদুরপুর, দুধখালী, ঝাউদি, মস্তফাপুর, রাস্তি ও কেন্দুয়া ইউনিয়ন; শিবচর উপজেলাধীন শিবচর পৌরসভার ১, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ড এলাকা এবং শিবচর, দ্বিতীয় খণ্ড, বহেরাতলা দক্ষিণ, বাঁশকান্দি, ভদ্রাসন, কাদিরপুর, মাদবরেরচর ও পাঁচ্চর ইউনিয়ন; কালকিনি উপজেলাধীন কালকিনি পৌরসভার ১, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড এলাকা এবং ডাসার, গোপালপুর, আলীনগর ও শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন; রাজৈর উপজেলাধীন রাজৈর পৌরসভার ১, ২, ৩, ৫, ৬ ও ৮নং ওয়ার্ড এবং বদরপাশা, আমগ্রাম, কবিরাজপুর ও হোসেনপুর ইউনিয়ন ২১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে।

 

বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন হবে যেভাবে: করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের ‘জোনে’ ভাগ করার পর কীভাবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে একটি রূপরেখা দিয়েছে সরকার। লাল অঞ্চলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মঙ্গলবার যে আদেশ জারি করেছে সেখানে ‘জোনিং’ কার্যকরের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

 

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৈরি করা গাইডলাইনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। লাল অঞ্চলে জীবনযাত্রা ‘কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করা হবে। অফিস-কারখানা সব থাকবে বন্ধ। যানবাহন ও সাধারণের চলাচলে থাকবে কড়াকড়ি। বাজার বা মার্কেটও থাকবে বন্ধ। এসব বিধিনিষেধ চলবে অন্তত তিন সপ্তাহ।

 

পিডিএফ দেখতে ক্লিক করুন

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ | জুন ২২, ২০২০