| সকাল ৮:৫১ - শুক্রবার - ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ - ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ - ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

ময়মনসিংহে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

অমিত রায়:  ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় (ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা) হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

 

গত দুদিনে দেড় শতাধিক রোগী পজিটিভ শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগসহ সচেতন নগরবাসীর মধ্যেও। আতঙ্ক বেড়েছে সর্বসাধারণের মাঝে।

 

যত বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, ততই বাড়ছে বিভাগ ও জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা। উদ্বেগজনক হারে আক্রান্ত হচ্ছেন র‌্যাব-পুলিশ সদস্যসহ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

 

ময়মনসিংহ জেলায় মাত্র কয়েকদিনেই পজিটিভ শনাক্তের সংখ্যা বারোশ’ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে চরপাড়া, নয়াপাড়া ও মাসকান্দাসহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, আকুয়া ও কাঁচিঝুলি। উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন।

 

প্রশাসনের পক্ষ থেকেই এ সব এলাকা রেড জোন চিহ্নিত করে লাল পতাকা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে দু-একদিনের মধ্যে রেড জোন হিসেবে এলাকা লকডাউন অথবা চলাচলে বিধি-নিষেধ জারি হতে পারে ওই সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো।

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে আগেও ৩শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ নমুনা পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু এখন প্রতিদিনই ৬শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরপরও প্রতিদিনই ২শ’ থেকে ৩শ’ নমুনা ল্যাবে জমা থাকছে।

 

জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটি যান্ত্রিক ক্রুটি ও জনবল সংকটে বন্ধ থাকায় চাপ বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, জেলায় দিন দিনই করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্ণিত করা হয়েছে।

 

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে গঠিত কমিটি রেড-ইয়েলো জোন বা লকডাউন বিবেচনায় কাজ করছে।

 

শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য কমিটির প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি করোনার এই দুঃসময়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মসিউল আলম জানান, গত দু’দিনে র‌্যাব-পুলিশ, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ জেলায় ২৭০ জনের মতো করোনা পজেটিভ হয়েছে। যা সর্বোচ্চ রেকর্ড।

 

বর্তমানে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪ জন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ জন। সুস্থ্ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫০ জন।

 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবুল কাসেম জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা করোনা আক্রান্তের সংখ্য ২ হাজার ২০২ জন। এরমধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ১ হাজার ২ জন, নেত্রকোনা জেলায় ৩৬৬ জন, জামালপুর জেলায় ৪৪০ জন এবং শেরপুর জেলায় ১৯২ জন।

 

চার জেলায় মারা গেছে ২৩ জন (ময়মনসিংহ-১২ জন, নেত্রকোনা-৩ জন, জামালপুর-৫ জন এবং শেরপুর-৩ জন)। সর্বমোট সুস্থ্ হয়েছেন ৮২৯ জন।

 

ফাইল ছবি

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:৩১ অপরাহ্ণ | জুন ১৭, ২০২০