| সকাল ৮:৩২ - শুক্রবার - ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ - ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ - ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি

ময়মনসিংহ বিভাগে করোনায় আক্রান্তরোগী দ্রুত বেড়ে ১৬শ’ ছাড়ালো

ময়মনসিংহে প্রথম ২ মাসে ১০০০, পরবর্তী এক সপ্তাহে ৬০০ আক্রান্ত

মতিউল আলমঃ  বর্তমানে করোনাভাইরাসের রেড জোন হিসেবে খ্যাত এখন ময়মনসিংহ। আক্রান্ত, মৃত্যু, ঝুঁকি, আতংক এই বিভাগে সবই বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

 

গত ৮ এপ্রিল ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সাধারণ ছুটির শেষ দিন গত ৩০ মে ময়মনসিংহ প্রায় বিভাগে করোনায় আক্রান্ত ছিলো এক হাজার ছাড়িয়েছিলো

 

বিভাগে প্রথম ১০০০ রোগী শনাক্ত হতে এপ্রিল ও মে  ২ মাস সময় লাগলেও পরবর্তী ৩১ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৬০০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

 

গত এক সপ্তাহে নতুন ৬শতাধিক বেড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন দেড় হাজার অতিক্রম করেছে এবং ১৮জনের মৃত্যুবরণ করেছে। এপর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় সাড়ে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

 

অকারণে ঘোরাঘুরি, শপিংসহ সবকিছু খুলে দেয়ার প্রেক্ষিতে অবাধ চলাচলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ জানান।

 

গত ৮ এপ্রিল থেকে ৩০ মে পর্যন্ত এক হাজার এবং ৩১ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত আরো ৬ শতাধিক রোগী করোনায় আক্রান্ত হেয়েছে। গণপ‌রিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা‌নে স্বাস্থ‌্যবি‌ধি অমান্য করে চলছে এবং সামা‌জিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার প্রেক্ষিতে করোনা সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে।

 

দ্রুত আক্রান্তের লাগাম ধরে টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান।

 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য ডাঃ মোঃ আবুল কাশেম জানান, গত ৯জুন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে মোট ২০ হাজার ৬৫২টি নমুনা পরীক্ষায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬০৪ জন এবং মারা গেছে ১৮ জন।

 

জেলা ভিত্তিক করোনায় আক্রান্ত – ময়মনসিংহে ৭৯৮ জন, নেত্রকোনায় ৩০০ জন, জামালপুরে ৩৬৪ জন এবং শেরপুরে ১৪১ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬০২জন।

 

মোট চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৯৪৮জন। এনিয়ে বিভাগে সর্বমোট মারা গেছেন ১৮ জন। এরমধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৯ জন, নেত্রকোনা জেলায় ৩, জামালপুর জেলায় ৪ জন এবং শেরপুর জেলায় ২ জন।

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) অধ্যক্ষ প্রফেরর ডাঃ চিত্তরঞ্জন দেবনাথ জানান, মমেক পিসিআর ল্যাবে (৯ জুন, মঙ্গলবার)  ২টি মেশিনে সর্বোচ্চ ৭৫২টি নমুনা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জনের করোনা পজিটিভ। এরমধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৬৮ জন, নেত্রকোণায় ২, জামালপুর জেলায় ১১ জন এবং শেরপুর জেলায় ১৫ জন।

 

ময়মনসিংহ জেলায় আক্রান্ত ৬৮ জনের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকসহ সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলায়-১৮ জন, ভালুকা-৩৮ জন, ফুলপুর-৪ জন, মুক্তাগাছা-৪ জন, ঈশ্বরগঞ্জ-৩ জন, গফরগাঁও-৩ জন, ত্রিশাল-২ জন ও নান্দাইল-১ জন।

 

জামালপুর জেলায় ৯ জনের মধ্যে সদর-৫ জন, মাদারগঞ্জ-২ জন ও বকশিগঞ্জ-২ জন। শেরপুর জেলায় ১৫ জনের মধ্যে সদর-৯ জন, নকলা-৫ জন ও নালিতাবাড়ি-১ জন।

 

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় পরিষদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় করোনা মনিটরিং সেলের সমন্বয়ক, বি.এম.এ ময়মনসিংহ জেলা শাখা ও বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এইচ. এ. গোলন্দাজ তারা জানান, গণপ‌রিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা‌নে স্বাস্থ‌্যবি‌ধি অমান্য চলছে এবং সামা‌জিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার প্রেক্ষিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম ধরে টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।

 

ডাঃ এইচ. এ. গোলন্দাজ তারা আরো জানান, চিকিৎসক, নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কোভিডে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অন্যান্যদের চেয়ে বেশী। সাথে সাথে তাদের পরিবার পরিজনদেরও আক্রান্ত করছেন। ইতিমধ্যে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের দ্বারা পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন যাদের অনেকেই এখন না ফেরার দেশে।

 

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান জানান, গণপ‌রিবহন ও ব‌্যবসা প্রতিষ্ঠা‌নে স্বাস্থ‌্যবি‌ধি মে‌নে চলা ও সামা‌জিক দূরত্ব নি‌শ্চিতকরণে সকলেই এগিয়ে আসতে হবে।

 

জেলা পু‌লি‌শ (৮ জুন) সোমবার মাসকান্দা বাসস্ট‌্যান্ড, চরপাড়া এলাকাসমূ‌হে জেলা পু‌লি‌শের নিয়‌মিত ম‌নিট‌রিং ও চেক‌পোস্ট কার্যক্রম প‌রিচালনা ক‌রছে। এসম‌য়ে যারা মাস্ক আন‌তে ভু‌লে গে‌ছেন তা‌দের‌কে পু‌লিশ সুপার স‌্যা‌রের পক্ষ হ‌তে মাস্ক প্রদান করা হয়।

 

এক‌টি নিরাপদ ময়মন‌সিংহ গ‌ড়ে তু‌লতে সবাইকে স‌চেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | জুন ১১, ২০২০