|

পাসপোর্ট সংকট: রাজস্ব ও রেমিটেন্স ঘাটতির সম্ভাবনা

ডেস্ক রির্পোট:   হাজার হাজার বিদেশ গমনকারী দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট না পেয়ে মহাসংকটে রয়েছেন। দেশের সবকটি অফিস থেকে পাসর্পোট আবেদনকারীরা নির্ধারিত ফিস দিয়ে যথা নিয়মে আবেদন করলেও উল্লেখিতরা মাসের পর মাস পাসপোর্ট পেতে ঘুরে বেরাচ্ছেন। এমনতাবস্তায় বিপাকে পড়েছে ভ্রমন, উন্নত চিকিৎসা গ্রহণকারী, নতুন উদ্যোমী জনশক্তি ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

 

একাধিক পাসপোর্ট অফিস কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বই সংকটের কারনে এমন উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে কখন এর সমাধান হবে তা অনিশ্চিত। সরকারের উর্দ্ধতন মহল এ বিষযে দ্রুত হস্তক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের চরম বিপাকে পড়তে হবে বিভিন্ন মহল মত প্রকাশ করেন।

 

সরকারি তথ্য মতে, দেশের বাইরে থেকে আসা বিশাল রাজস্ব আসে বৈদেশিক জনশক্তির পাঠানো রেমিটেন্সে। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট পুনঃ প্রদান জটিলতায় এমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রবাসীদেরও। অপরদিকে কর্মের তাগিদে নতুন পাসপোর্ট না পেয়ে হাজার হাজার কর্মমুখি তরুন উদ্যমী জনশক্তিরা বিদেশে যেতে না পারায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছে। এদের মধ্যে হতাশাগ্রস্থ অনেকেই নানা জটিলতার কারনে দীর্ঘ সময়েও পাসপোর্ট না পেয়ে একাধিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে রেমিটেন্স ঘাটতিসহ অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

একাধিক প্রবাসিদের মতে, বিদেশে অবস্থানকালে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট পূনঃ প্রদান করতে যথা নিয়মে জমা দিয়ে দীর্ঘ সময়ে না পাওয়ায় পাসপোর্ট জটিলতায় কর্মস্থল থেকে বাধ্য হয়ে দেশে ফেরৎ আসতে হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে কর্মস্থল থেকে ছুটিতে আসা জনশক্তির পাসপোর্ট পূনঃ প্রদান আবেদন করে না পেয়ে ছুটিভোগের দীর্ঘ সময় পরও বিদেশে কর্মস্থলে যেতে না পেরে মহাবিপাকে পড়েছে।

 

একইসাথে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আবেদনকারীরা পাসপোর্ট জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের পরেও পাসপোর্ট না পেয়ে রোগে ভূগে বিনা চিকিৎসায় অনেকেই মৃত্যুবরন করছে বলে একাধিক আবেদনকারী জানান।

 

দেশের প্রধান পাসপোর্ট অধিদপ্তর আগারগাঁও অফিস সরেজমিন গিয়ে আমাদের ঢাকা প্রতিনিধি বেশ কয়েকজন পাসপোর্ট আবেদনকারীর সাথে কথা বলে জানান, দুমাস ধরে অফিসে এসেও পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। জটিল রোগে দীর্ঘদিন থেকে ভূগছেন এমন সাধারণ মানুষের সংখ্যাও কম নয়। দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়া মানুষদের পাসপোর্ট চাহিদা ঠিক মতো দিতে পাচ্ছে না দপ্তরগুলো।

 

এ নিয়ে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে, তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, পাসপোর্ট বই সংকট। আবার কেউ বলেন, অফিস দাপ্তরিক জটিলতায় এ সংকটের সৃষ্টি। একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্ট বই শেষ, আন্তঃর্জাতিক দরপত্র আহবান, অনুমোদন, আলোচনা-বৈঠক না হওয়ায় জটিলতা ক্রমেই বাড়ছে। তবে কবে নাগাদ ব্জটিলতা নিরসন হবে তা অনিশ্চিত। কর্মকর্তাদের এ ধরনের পাল্টা-পাল্টি জবাবে আবেদনকারীদের মাঝে আরো শঙ্কা বাড়ছে।

বর্তমানে চার লাখেরও বেশী আবেদনকারীর পাসপোর্ট আটকা পড়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানান। সরকার পাসপোর্ট আবেদন থেকে প্রতিদিন কোটি-কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও নির্ধারিত সমযে পাসপোর্ট না দেওয়ায় অসংখ্য আবেদনকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এতে এ খাত থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ছুটিভোগের পর আবারো বিদেশে কর্মস্থলে যেতে না পারা এবং বিদেশে কর্মস্থল থেকে পাসপোর্ট জটিলতায় বাধ্য হয়ে দেশে ফেরৎ আসায় দেশ হারাচ্ছে কোটি-কোটি টাকার বৈদেশিক রেমিটেন্স। দেশে বিদেশে সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে।

দ্রুততম সময়ে এ সমস্যার সমাধান না হলে সরকারের রাজস্বসহ বৈদেশিক মুদ্রা-রেমিটেন্স ঘাটতি বাড়তেই থাকবে। যা সরকারের রির্জাভ তহবিলে মারাত্মক আঘাত হানবে বলে অভিজ্ঞ মহল দাবি করছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:০১ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯