|

মিয়ানমারের উপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে ইইউ

লোক লোকান্তরঃ  রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

 

দেশটির সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট শীর্ষ দুটি কোম্পানির ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে অর্থনৈতিক জোটটি।

 

পুরো দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কায় আবার কোনো কোনো দেশ বিকল্প নিষেধাজ্ঞার কথাও ভাবছে।

 

সে ক্ষেত্রে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও তাদের সম্পত্তি জব্দ করা হতে পারে। ইইউর তিন কূটনীতিকের বিস্তারিত আলোচনার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো রোববার এ খবর জানিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৭ শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর আগেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ।

 

সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলেছে।

 

ওই মিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই নতুন নিষেধাজ্ঞার চিন্তা করছে ইইউ। সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় ইইউর ৩ কর্মকর্তা জানান, রাখাইনে রোহিঙ্গা নৃশংসতায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জোটটি।

 

মিয়ানমারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে জড়িত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তারা।

 

এ ছাড়া মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবে ইইউ।

 

দেশটির শীর্ষ দুটি ব্যবসায়িক কোম্পানি দি ইউনিয়ন অব মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড ও মিয়ানমার ইকোনমিক কর্পোরেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এ দুটি কোম্পানির অধীনে দেশটি রত্ন, কপার, স্বর্ণ, পোশাক, সিমেন্ট বাণিজ্য পরিচালনা করে।

 

তবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের অর্থনীতির বিপর্যন্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় এসব কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করছে। নিষেধাজ্ঞার আরেকটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে এককভাবে অথবা যৌথভাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

 

এর মধ্যে থাকতে পারে সম্পত্তি জব্দ ও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে থাকতে পারেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং ও তার সহকারী জেনারেল সোয়ে উইন।

ফেসবুকে বার্মিজ অনুবাদ বন্ধ :

ফেসবুকে অন্য ভাষা থেকে বার্মিজ ভাষায় অনুবাদের অপশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফেসবুকের বার্মিজ অনুবাদ ব্যবহার করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাবিরোধী পোস্ট ও মন্তব্য করা হচ্ছে রয়টার্সের এমন এক প্রতিবেদনের পর এই পদক্ষেপ নিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি।

 

গত ১৫ আগস্ট এ নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গত ২৮ আগস্ট থেকে বার্মিজ অনুবাদ ফিচারটি ‘বন্ধ’ করে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮