|

ময়মনসিংহে শিশুর গলায় ছুরি রেখে গৃহবধুকে ধর্ষণ

আজহারুল হক, গফরগাঁওঃ    ‘হয় আমাদের ধর্ষণ করতে দাও, বাধা দিলে দিলে তোমার শিশুর গলায় চালানো হবে ছুরা। এহেন পরিস্থিতিতে নিজের সম্ভ্রমের চেয়ে দুই বছরের কন্যা শিশু হাবিবার জীবনের মূল্যকেই অনেক বেশি মূল্যবান বিবেচনা করলেন গৃহবধু রোজিন আক্তার (২৮) গৃহবধূ।

 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের খারুয়া বড়াইল গ্রামের নিরীহ গৃহবধু তিন সন্তানের জননী রোজিনার দুই বছরের কন্যা শিশুর গলায় ছুরি ধরে তাকে ধর্ষণ করে এলাকার দুই বখাটে। নির্যাতিতা গৃহবধু ওমান প্রবাসী রুবেল মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় গৃহবধু রোজিনা বুধবার রাতে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

এ ধর্ষণের নির্মমতা হতবাক করে দিয়েছে স্থানীয়দের। ধর্ষণের বীভৎসতায় আঁতকে উঠছে সবাই।

 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্ষিতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, গত শনিবার (সেপ্টেম্বর ১) রাত ৯টার দিকে বসত ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ধোপাঘাট গ্রামের তাফাজ্জলের ছেলে শাহীদ ও রশিদের ছেলে রানা ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে দুজনেই ছুরা বের করে আমার উপর হামলে পড়ে। তাদের বাধা দেয়ায় আমার দুই বছরের মেয়ে হাবিবার গলা কাটতে উদ্যত হয় তারা। ফলে বাধ্য হয়েই সন্তানকে বাঁচাতে আমাকে চুপ থাকতে হয়েছে।

 

নির্যাতিত গৃহবধুর শাশুড়ি আমেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর বিচারের আশায় থেকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ.লীগ নেতাদের দারস্থ হই। পরে চেয়ারম্যানসহ আ.লীগ নেতারা উপস্থিত থেকে বুধবার রাতে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়।

 

অপরদিকে একই ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামের সুমন মিয়ার (৩৫) স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মার্জিয়া খাতুনকে (২৩) জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রভাবশালী প্রতিবেশি এক যুবক।

 

গৃহবধুর স্বামী সুমন মিয়া জানান, গত ২৮ আগষ্ট রাত ১০টার দিকে তিনি বসত ঘরে বসা ছিলেন। সে সময় প্রতিবেশি প্রভাবশালী রেজাক ফকিরের ছেলে আনসারুল ফকির (২৭) বাহির থেকে বসত ঘরে দরজা শিকল দিয়ে আটকে দেন।

 

সে সময় তার স্ত্রী মার্জিয়াকে রান্না ঘরে একা পেয়ে বখাটে আনসারুল জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি তার স্ত্রীর চিৎকার শুনে ঘরের দরজার শিকল ভেঙ্গে স্ত্রীকে রক্ষা করেন। পরে বাড়ির অন্যরা উপস্থিত হয়ে তাকে আটক করলেও প্রভাবশালী হওয়ায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

 

এ ঘটনায় স্বামী সুমন ইউনিয়ন পরিষদসহ আ.লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার প্রার্থী হলেও এখনো পর্যন্ত তিনি আশ্বাসই পেয়েছেন।

 

এদিকে সুমনের বড় ভাই আঃ ছামাদ অভিযোগ করে বলেন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টাকালে বাড়ির লোকজন আটক করলেও প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে হয়। পরে এ ঘটনায় বিচার প্রার্থী হওয়ায় এবং বেশ কয়েক দিনেও বিচার না হওয়ায় উল্টো বখাটে আনসারুল ও তার লোকজনের হুমকির মুখে আমার ভাইকে সপরিবারে এলাকা ছাড়তে হয়েছে।

 

স্থানীয় রাওনা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অস্ত্র ঠেকিয়ে শিশু সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধুকে ধর্ষণের মতো বীভৎস ঘটনায় আমরা হতবাক। এ ঘটনায় বুধবার রাতে ইউনিয়ন আ.লীগের নেতৃবৃন্দ ও আমার উপস্থিতিতে থানায় নির্যাতিতা গৃহবধু অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপরদিকে পাঁচুয়া গ্রামের গৃহবধুকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগের বিষয়টিরও সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর স্বামী বিচার প্রার্থী হয়েছেন। বিভিন্ন ঝামেলার দরুণ বিবাদীকে নোটিশ দেয়া হয়নি। শিশগির নোটিশ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনা হবে।

 

এ ব্যাপারে গফরগাঁও থানার ওসি আব্দুল আহাদ খান বলেন, খারুয়া বড়াইল গ্রামের এক গৃহবধুকে ধর্ষণের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:২৪ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৮