|

ময়মনসিংহে রমজান ও ঈদকে ঘিরে বাড়ছে দাম, ঠকছে ভোক্তা

ফাহিম মোঃ শাকিলঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা সমূহে রমজান মাসকে ঘিরে কাঁচাবাজার গুলো মনিটরিং সহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। নেয়া হচ্ছে নানা রকম পদক্ষেপ, করা হচ্ছে জরিমানাও। এর ব্যতিক্রম নয় বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে। রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসলেও দ্রব্যমূল্যের দামের ঊর্ধ্বগতি বজায় রয়েছে। আসন্ন ঈদকে ঘিরে দ্রব্যমূল্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

প্রতিবছরই রমজানের আগে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা কাজে দেয় না। নজরে পড়ে না নজরদারিও। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

 

বাজারগুলোতে বেড়েছে পণ্যের দাম। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনির দাম। তা-ও আবার সরকারি চিনিকলের চিনি এখন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ বিশ্বব্যাংকের বাজার পরিস্থিতির তথ্যে উঠে এসেছে ডিসেম্বর থেকে চিনির দাম টনপ্রতি ৩২০ ডলার থেকে কমে এপ্রিলে ২৭০ ডলারে নেমে এসেছে।

 

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে অন্তত তিনবার বৈঠক করে সাংবাদিকদের জনানো হয়, এবার রমজানের সব পণ্যের চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ মজুদ রয়েছে, যে কারণে দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু মাঝ রমজান পর্যন্তও সেই আশ্বাসের সাথে বাজার পরিস্থিতির মিল দেখা যায়নি।

 

রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই কাঁচাবাজার গুলোতে সবজিসহ বিভিন্ন পন্যের মূল্যবৃদ্ধি হতে থাকে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।


ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ১৭ মে প্রথম রোজার দিন দুপুরে শহরের প্রধান কাঁচা বাজার মেছুয়া বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।

 

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের সাথে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী পরিচালক নিসাত মেহের, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালকবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় তারা বাজারের ব্যবসায়ীদের অহেতুক দাম না বাড়ানোর আহবান জানান এবং প্রতিটি দোকানে দ্রব্য মূল্য তালিকা লাগানোর জন্যে নির্দেশ দেন। এ ধরনের কার্যক্রম পুরো রমযান মাস জুড়ে নিয়মিত চলবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং কেউ দ্রব্য মূল্য বাড়ানোর কারসাজির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক।

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সরকারি মনিটরিং না থাকার সুযোগে অসৎ ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নিচ্ছে। মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও অতিরিক্ত দাম নেওয়াসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে।

 

বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভ্রাম্যমাণ আদালত রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের বাজারে দাম বৃদ্ধি ও জাল-জালিয়াতি নিয়ে নজর রাখবে এমনটাই কথা ছিল। ক্রেতারা মনে করে, এই নজরদারির অভাবেই ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮৫ টাকায়। বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৮-৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সবজির বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব চোখে পড়ার মত।

 

যদিও অন্য সুরে কথা বলছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা ন্যায্য মূল্যে পন্য সরবরাহ করছে দাবি করে মূল্যবৃদ্ধির তীর ছুড়চ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীদের দিকে।

 

ময়মনসিংহের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহ পরিচালক নিসাত মেহের জানান, মে মাসে ১৩ থেকে ১৪ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে ব্যর্থদের জরিমানা করা সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আগামী অর্থ বছর থেকে অভিযানের পরিমান আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ | জুন ১৪, ২০১৮