|

ময়মনসিংহে হতদরিদ্র রিকশাচালকের ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উধাও!

আজহারুল হকঃ  ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের আঠারদানা গ্রামের আরফান আলীর ছেলে হতদরিদ্র রিকশাচালক বাচ্চু মিয়া তার একমাত্র কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মাটির ব্যাংকে টাকা জমান। সেই জমানো টাকার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ২০১২ সালের ১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংক গফরগাঁও শাখায় তার নামে একটি সঞ্চয়ী হিসেব খুলেন। কিছু দিন আগে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার একাউন্টে টাকা নেই!

 

সেই সঞ্চয়ী হিসেব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ টাকা আত্মসাত করেছে প্রতারক চক্র। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্র নিজেরাই চেক বই ইস্যু ও সংগ্রহ করে তাতে ভুয়া সই করে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করে। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে রিকশাচালকের সারা জীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্যাংক গ্রাহকদের মাঝে।

 

প্রসঙ্গত গত ২০১৫ সালে এই ব্যাংকে একই রকম প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামের প্রবাসী খায়রুল ইসলাম। পরে তা পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খায়রুল ইসলামকে টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।

 

জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে বাচ্চু মিয়া তার একাউন্টে কত টাকা জমা হয়েছে জানার জন্য ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের সাথে যোগাযোগ করেন।

 

তখন শাখা ব্যবস্থাপক জানান, ৯৯ হাজার টাকা জমা হয়েছিল, লাভসহ তা বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৪’শ ২ টাকা হয়েছিল। সেই টাকা ২০১৫ সালের ২১ মে একটি চেকে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তার নামে চেক বই, কে বা কারা তুলল কিংবা চেকে কে স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করল এ রকম ঘটনায় হতবিহবল বাচ্চু মিয়া। তার কষ্টে অর্জন করা টাকা উদ্ধারের জন্য গত চার-পাঁচ মাস যাবত ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ ওই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঘোরাঘুরি করছেন, তাদেরকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

 

লোক লোকান্তর প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাচ্চু মিয়া তার সঞ্চয়ী হিসেবের বিপরীতে হিসেব খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত চেক বই ইস্যুর জন্য কোনো আবেদনই করেননি। বাচ্চু মিয়া আবেদন না করলেও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একটি চক্র বাচ্চু মিয়ার সঞ্চয়ী হিসেবের বিপরীতে গত ২০১৫ সালের ২১ মে একটি চেক বই ইস্যু করে ওই তারিখেই স্বাক্ষর জাল করে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে।

 

ইস্যুকৃত চেক বইয়ে বাচ্চু মিয়ার পিতার নাম আরফান উদ্দিনের বদলে ফয়েজ মিয়া লেখা হয়েছে। উত্তোলনের সময় ব্যবহৃত চেকের লেখাগুলোও এই শাখায় ওই সময়ে কমরত একজন ব্যাংক কর্মকর্তার।

বাচ্চু মিয়া জানান, ব্যাংকের লোকজন গত কয়েক মাস ধরে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও ফেরত দিচ্ছে না।

 

ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান খান ঘটনা স্বীকার করে বলেন, বাচ্চু মিয়ার চেক বই উত্তোলনের কোনো আবেদন বা কাগজপত্র ব্যাংকে নেই। ওই সময়ে ব্যাংকে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

 

এই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ময়মনসিংহের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পান্না লাল কর্মকার জানান, বিষয়টির তদন্ত এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ছবিঃ প্রতীকী, সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৮, ২০১৮