|

কুয়েত থেকে লাস হয়ে ময়মনসিংহে ফিরল নজরুল

লোক লোকান্তরঃ  নজরুল ইসলাম কুয়েতের ইফতি সামাদ ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে কাজ করতেন। গত ১ জুন শুক্রবার রাতে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। মৃত্যুর সংবাদটি পৌঁছার পর সন্তানহারা মা, স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী আর প্রিয় বাবাকে হারিয়ে সন্তানদের শুধুই আর্তনাদ।

 

১ জুন শুক্রবার ইফতারের পর কুয়েতপ্রবাসী স্বামী নজরুলের সঙ্গে কথা হয় সহধর্মিণী আছমা বেগমের। ঈদের আগেই বাড়ি ফিরবেন তিনি। সন্তানদের পছন্দের ঈদের জামাকাপড়ও কিনেছেন বলে স্ত্রীকে জানান নজরুল। মোবাইল কেড়ে নিয়ে সে সময় কথা হয় দুই সন্তানেরও। এটাই তাদের বাবার সঙ্গে শেষ কথা বলা।

 

স্ত্রী আছমা বেগম জানান, কত কথাই হয়েছে। কখনও ভিডিও কল দিলে মোবাইলের স্ক্রিনে সন্তানরা তার বাবাকে স্পর্শ করত। ওরা কত স্বপ্ন এঁকে রেখেছিল, বাবাকে কাছে পেলে এবার এই করবে, সেই করবে। সব স্বপ্ন আজ শেষ।

 

নজরুল ইসলামের দুই ছেলে। মো. আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। দু’জনই গৌরীপুর পৌর শহরের সুরযবালা পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।

 

আসন্ন ঈদুল ফিতরে সন্তান, বাবা-মা, পরিবার-পরিজনের জন্য জামাকাপড় নিয়ে আসার কথা ছিল কুয়েতপ্রবাসী নজরুল ইসলামের।

 

বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনের ৪ দিন আগেই তার নিথর দেহ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার নিজ বাড়ি অষ্টগড়ে পৌঁছেছে। তিনি অষ্টগড় গ্রামের মৃত আব্দুর রাশিদের ছেলে।

 

মা জুবেদা খাতুন সন্তানের লাশ দেখে বারবার মূর্ছা যান। এ নিয়ে ৪ সন্তানের মধ্যে না ফেরার দেশে চলে গেলো ৩ সন্তান। ১১ জুন সোমবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার।

 

বৃহস্পতিবার বোকাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাৎক্ষণিক শোক জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বোকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিব উল্লাহ, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. আবুল হাশিম, কালিপুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল হালিম ও নিহতের বড় ভাই আজিজুল হক। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার নজরুলের দাফন করা হয়।

 

ছবিঃ সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৮, ২০১৮