|

ময়মনসিংহে সড়ক নির্মাণের কাজ সমাপ্ত না হতেই উঠে যাচ্ছে ৮৪ লাখ টাকার সড়কের কার্পেটিং!

এইচ.এম জোবায়ের হোসাইন, ত্রিশালঃ   স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ধানীখোলা ইউনিয়নের কুতুবখানা সড়কের সোয়া তিন কিলোমিটারের রাস্তা। বিটুমিনে কারসাজিসহ ব্যাপক অনিয়মের ফলে দুই তৃত্বীয়াংশ কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং।

 

দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর ওই সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের ঘটনায় হতাশ ও ক্ষুব্দ স্থানীয় এলাকাবাসি।

 

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে ধানীখোলা কুতুবখানা সড়কের সোয়া তিন কিলোমিটার রাস্তার কাজ পান ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার ঠিকাদার শামসুল আলম। গত তিন মাস আগে রাস্তা ও বালি সুরকির কাজ শেষ করে ৭/৮ দিন আগে শুরু হয় কার্পেটিং।

 

একটি বিশেষ সূত্র জানায়, কার্পেটিংয়ের আগে মেকাডমের ওপরের অংশ পরিস্কার না করেই নিন্মমানের প্রাইমকোট ব্যবহার, ষ্টোনডাস্টের ৩০% মধ্যে ৫% ব্যবহার করায় ও বিটুমিনে কারসাজি সহ নানা অনিয়মে শেষ হয়েছে রাস্তার দুই তৃত্বীয়াংশ কাজ। এর ফলে ১০ দিন আগের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে এখনই।

 

দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর খানাখন্দে ভরপুর ওই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্বস্তি ফিরে স্থানীয়দের মাঝে। কিন্তু সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিলে হতাশ হন তারা। ক্ষুব্দ স্থানীয় এলাকাবাসি নিন্মমানের কাজে বাধাঁ দিলেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে চলছে কাজ।

 

সোমবার সকালে সড়ক পরির্দশনে যান উপজেলা প্রকৌশলী শাহেদ হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শওকত হোসেন ও কার্য সহকারী শাহেব আলী।

 

উপজেলা প্রকৌশলী শাহেদ হোসেন সোমবার সড়ক পরিদর্শনের পর জানান, রাস্তার পাশে একটি স্থানে বৃষ্টির পানির কারনে বিটুমিন জমেনি। যার ফলে স্থানীয়দের হাতের টানে কার্পেটিং উঠে পড়েছিল। কার্পেটিং উঠে যাওয়া জায়গাটি মেরামত করা হয়েছে। আরো কয়েকটিস্থানেও এমন অবস্থার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছের নিচে ছায়া পড়ে না তাই বিটুমিন জমতে সময় লাগে।

 

উপ-সহকারী প্রকৌশলী শওকত হোসেনের বক্তব্য বিটুমিন জমতে ১৫/২০ দিন সময় লাগে। এখন একপাশ থেকে উঠলেও মাঝখান থেকে উঠবে না।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় পিচ ঢালাই রাস্তা (কার্পেটিং) না দেখলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনের রাস্তাটি ঝকঝকা দেখতে পান স্থানীয় কৃষক হেলাল উদ্দিন। তবে তড়িঘড়ি করে কি কারণে রাতের আধাঁরে কাজ হচ্ছে সেটা জানেন না তিনি।

 

ভুলত্রুটি মার্জনা করে কাজ শেষ করার সুযোগ চেয়ে ঠিকাদার শামসুল আলম বলেন, এইটা হইতে পারে যখন কার্পেটিং করছে তখন কাঁদাকোঁদা অথবা পানি ছিটে পড়ায় বিটুমিন জমেনি। এদিকে ২ঘন্টাব্যাপি সময় ওই সড়কে অবস্থান করে একটি ট্রাকের দেখা না মিললেও তিনি জানান সারাদিন দিনই পানিভর্তি মাছের গাড়ি চলাচলের কারনে হয়ত কার্পেটিং উঠে গেছে।

 

তবে ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ আসাদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, কাজে অনিয়ম হচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার সাহেবের বক্তব্য নিয়ে আপনারা পত্রিকায় রিপোট করুন। এই কাজের অনুমোদনের জন্য এলজিইডি মন্ত্রনালয়ে অনেক দৌড়ঝাপ ও অনেক টাকা খরচ করছি। এটা আমার বাড়ির রাস্তা, অবশ্যই কাজ ভাল হওয়া চাই।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৮