|

ভারতীয় মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বিভেদের সৃষ্টি, তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

লোক লোকান্তরঃ  রাজধানী ঢাকার কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্রে (মারকাজ) সংঘর্ষে জড়িয়েছে সংগঠনটির দুটি পক্ষ। শনিবার সকালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর কাকরাইল মসজিদ দখলে নিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধীরা।

 

এখনো ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ভারতীয় নাগরিক ও তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বিভেদের সৃষ্টি হয় সর্বশেষ বিশ্ব ইজতেমা থেকে। ওই সময় তাকে টঙ্গীতে ইজতেমায় যেতে দেওয়া হয়নি। বিরোধিতার মুখে কাকরাইলে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিভিন্ন সময় ইসলাম ধর্ম নিয়ে তার কিছু বক্তব্যের জের ধরে এই বিরোধের সূত্রপাত হলেও নেপথ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বলে জানা গেছে।

 

জানা গেছে, মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিতে গতকাল শুক্রবারেই বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কাকরাইল মসজিদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। ভারতীয় নাগরিক ও তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর দেয়া কোনো সিদ্ধান্ত আর এ দেশে বাস্তবায়িত হবে না বলেও তারা ঘোষণা দেন।

 

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই মারকাজে পুলিশ মোতায়েন ছিল। দুপুরের দিকে পুলিশের রমনা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও সেখানে যেতে দেখা যায়। পুলিশ সেখান থেকে মোবাইল ফোনের জ্যামারের মতো যন্ত্রও উদ্ধার করেছে।

 

কাকরাইলের মুসল্লিরা জানান, সাদ-বিরোধীরা কয়েক দিন ধরে মারকাজ ও এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের জড়ো করতে শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তারা মারকাজ সংলগ্ন কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার দুটি কক্ষে মোবাইল ফোন ‘জ্যামার’ বসান। এতে পুরো মারকাজের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সকালে দৈনন্দিন পরামর্শ সভা থেকে সাদের সিদ্ধান্ত আর না মানার ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

দেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১১ জন শুরা সদস্য আছেন। এরমধ্যে কাকরাইল মসজিদের খতিব ও পার্শ্ববর্তী উলুম উদ দুনিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম জুবায়ের আহমদের নেতৃত্বে পাঁচজন মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

 

অন্যদিকে রয়েছেন ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বাকি ছয়জন। এই ১১ জনের যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন ছয়জন, যাঁদের ফয়সাল (সিদ্ধান্তদাতা) বলা হয়। শুরা সদস্যের মধ্যে কারা ফয়সাল হবেন, তা এত দিন মাওলানা সাদ নির্ধারণ করে দিতেন।

 

সম্প্রতি আরও দুজন শুরা সদস্যকে তিনি ফয়সাল হিসেবে নিয়োগ দেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন জুবায়ের আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ শুরা সদস্য।

 

মারকাজে প্রতিদিন সকালে পরামর্শ সভা বা মাসোয়ারা বসে। এর নেতৃত্বে থাকেন একজন ফয়সাল। প্রতি সাত দিন পরপর এই নেতৃত্ব বদল হয়। এখন নেতৃত্বে রয়েছেন শুরা সদস্য মো. রবিউল হক, যিনি জুবায়ের আহমদের অনুসারী।

 

শনিবার সকালে তার নেতৃত্বে যখন পরামর্শ সভা বসে, তখন বাইরে থেকে আসা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের ঘিরে রাখেন।

 

এ ব্যাপারে রমনা মডেল থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক আকরাম বলেন, ‘সকালে সেখান কিছু সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছি। সেখানে আমাদের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। এ ব্যাপারে তারা ভাল বলতে পারবেন।’

 

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘কাকরাইল মসজিদে দুই গ্রুপের উত্তেজনা ছিল। আমরা গিয়ে মীমাংশা করে দিয়ে এসেছি। এখন আর কোনো ঝামেলা নেই।’

 

ছবিঃ সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৮, ২০১৮