|

ধর্ষণের শিকার সাত বছরের শিশুকে গ্রামছাড়া

লোক লোকান্তরঃ  টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় গ্রাম্য সালিশে সাত বছরের এক ধর্ষিতা শিশুকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।রোববার রাতে উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের দেউপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, দেউপুর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম (৫০) গত শনিবার তার মুরগির ফার্মে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রোববার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। সালিশে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত দেন মাতব্বররা।

 

ভিকটিম শিশুটি ওই এলাকার দিনমজুর ইয়াকুব আলীর মেয়ে। সে দেউপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।

 

দেউপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, শুনেছি আমাদের ওই ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার প্রথম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বাংলা পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষায় ওই ছাত্রী অংশগ্রহণ করেনি। তবে ওই ছাত্রী কোথায় গেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ। গ্রাম্য সালিশেই বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। তবে এই বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বলেন তিনি।

 

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত আব্দুস সালাম। তার বাড়িতে ও মুরগির ফার্মে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় মেয়েটির চাচি আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি সোমবার সকালে এসে আমাদের সবাইকে শাসিয়ে বলে গেছেন ‘বিষয়টি তোরা কারও কাছে বলবি না’।

 

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েটির চাচা আয়নাল হক ঢাকায় চাকরি করেন। তার সঙ্গে মেয়েটিকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

 

মেয়েটির মা সূর্যবানু বলেন, ‘হুনছি এলাকার মাতব্বররা ম্যালা রাইতে এইডা মিটমাট করছে। ভোরবেলায় ম্যায়ার চাচার সঙ্গে ম্যায়াকে পাঠাইয়া দিছি।’

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

 

কালিহাতী থানার ওসি (তদন্ত) মুনসুর আলী আরিফ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

 

সুত্রঃ যুগান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:০২ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৪, ২০১৮