|

নতুন বিভাগ পদ্মা’র নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রধান কার্যালয় হবে ফরিদপুরে

লোক লোকান্তরঃ  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, পদ্মা নামে নতুন বিভাগ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফরিদপুরে স্থাপন করা হবে এ বিভাগের প্রধান কার্যালয়।

 

শনিবার সকালে ফরিদপুর শহরের জসিম উদ্দীন হলে সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। নবনির্বাচিত ১১ জন চেয়ারম্যান, ৩৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য ও ৯৯জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের দাবি জানিয়ে আসছেন বৃহত্তর ফরিদপুরের মানুষ। সবশেষ গত বছরের ২৯ মার্চ ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে ফরিদপুরকে বিভাগ করার দাবি তোলা হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী তখন বিভাগের ঘোষণা না দিয়ে বলেন, ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর নিয়ে একটি বিভাগ করা হবে। তবে বিভাগীয় সদরদপ্তর কোথায় হবে তা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি।

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ঢাকা বিভাগকে ছোট করা হবে এবং দেশে বিভাগের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা বাড়বে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

দেশে বর্তমানে বিভাগের সংখ্যা আটটি। সম্প্রতি ঢাকা বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে নতুন ময়মনসিংহ বিভাগ গঠন করা হয়। ঢাকা বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলা নিয়ে ফরিদপুর বিভাগ করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই হয়েছে। ময়মনসিংহ নতুন বিভাগ হওয়ায় ঢাকা বিভাগের জেলা সংখ্যা এখন ১৩টি।

 

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন এলজিআরডি মন্ত্রী। বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করার নিয়ম নেই। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সেই সুযোগ করে দিয়েছে।’

 

মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির কথা বলে। কিন্ত কোনো নির্বাচনেই সরকারি দলের কেন্দ্রীয় নেতা কিংবা মন্ত্রী সাংসদ স্ব স্ব এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারে না। এটা কিন্তু অযৌক্তিক। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিরোধীদল ও সরকারি দলের সকল স্তরের নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। তবেই লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে।

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খাঁন, ইউএনও প্রভাংশু সোম মহান, কোতয়ালি আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. রাজ্জাক মোল্লা, নবনির্বাচিত কানাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফকির মো. বেলায়েত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২১, ২০১৮