|

গাজীপুরে নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৪২ শতাংশ গৃহিণী

লোক লোকান্তরঃ  গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা ৮৪ জনের মধ্যে ৭১ শতাংশ অষ্টম শ্রেণি থেকে উচ্চ শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষিত বলে হলফনামায় জানিয়েছেন। তাদের ২১ শতাংশ ব্যবসা করেন, চাকরি করেন প্রায় ১৭ শতাংশ। আর ৪২ শতাংশ প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা গৃহিণী।

 

নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের ৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জন অষ্টম ও ২ জন দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। ১০ জন এসএসসি ও ৭ জন এইচএসসি পাশ করেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জন স্নাতক ও ৬ জন স্নাতকোত্তর করেছেন। স্নাতকদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর আইনের ডিগ্রি (এলএলবি) আছে। অর্থাৎ মোট প্রার্থীর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারীর সংখ্যা ২০ শতাংশ।

 

পাঁচজন প্রার্থী হলফনামায় জানিয়েছেন, তাদের অক্ষরজ্ঞান আছে। আটজন বলেছেন, তারা ‘স্বশিক্ষিত’। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামি ১৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। মোট ৫৭টি ওয়ার্ডের এই সিটিতে ভোটার আছেন ১১ লাখ ৩৭ হাজার ১১২ জন।

 

নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনে প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন করে নারী কাউন্সিলর থাকেন। এই হিসাবে গাজীপুরে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৯টি।

 

১০ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী গতবারের কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার বলেন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের উচ্চশিক্ষা থাকলে তাদের বিভিন্ন কাজ করতে সুবিধা হয়। কারণ বিদেশি অনেক প্রকল্পর কর্মকর্তারা বাংলা বোঝেন না।

 

তারা সভায় বক্তব্য দেন ইংরেজিতে। সেগুলো বুঝতে না পারলে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়। আইনের ডিগ্রিধারী এই প্রার্থী বলেন, নারী কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা ও শালিশ বৈঠকে সমাধান দিতে হয়। বিভিন্ন দেশি বিদেশি প্রকল্পে অংশ নিতে হয়। ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের প্রকল্প বরাদ্দও তারা দেন। এসব কাজে আইন ও বিধি জানা থাকা জরুরি। মোবাইল কিংবা ই-মেইলে অনেক তথ্য আসে ইংরেজিতে। লেখাপড়া না থাকলে কাউন্সিলর সমস্যায় পড়বেন। তখন অন্যের কাছে বুঝতে হবে; তাতে সময় নষ্ট হবে, যা বোঝাবে তাই বুঝতে হবে। এ ছাড়া বিচার-শালিস ও আইনের ধারা নিয়েও ভোগান্তি হবে।

 

৫ নম্বর ওয়ার্ডে গতবারের কাউন্সিলর বকুল আক্তার এবারও প্রার্থী হয়েছেন। হলফনামায় শিক্ষার ঘরে তিনি লিখেছেন ‘স্বশিক্ষিত’। লেখাপড়া কম থাকলেও আমি জনগণের পাশে থাকি। জনগণও আমাকে ভালভাবে গ্রহণ করেছে বিধায় এবারও আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আমি ইংরেজি বলতে বা পড়তে না পারলেও আমার বিএ পাস সচিব রয়েছেন। তিনি আমাকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন। এতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। এই জনপ্রতিনিধির ভাষায়, এখানে জনগণের কাজ করার মানসিকতাই বড় কথা। তবে নিজে শিক্ষিত থাকলে নিজের কাজ নিজেই করা সম্ভব হয়।

 

প্রার্থীদের শিক্ষা ও পেশা: ১ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন এইচএসসি পাশ, দুইজন অষ্টম শ্রেণি পেরিয়েছেন। দুইজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের দুইজন ব্যবসায়ী ও দুইজন গৃহিণী। ২ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুইজন এইচএসসি, একজন অষ্টম শ্রেণি পাস। দুইজন শিক্ষার ঘরে লিখেছেন ‘অন্যান্য’। তাদের তিনজন গৃহিণী ও দুইজন ব্যবসায়ী। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন এসএসসি পাশ, একজন দশম শ্রেণি এবং একজন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তাদের একজন গৃহিণী, দুজন ব্যবসায়ী।

 

৪ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে একজন এসএসসি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস। একজন জানিয়েছেন, তিনি অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন চাকরিজীবী, একজন গৃহিণী ও বাকিরা ব্যবসায়ী। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় প্রার্থীর মধ্যে একজন স্নাতক। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন দুইজন, তিনজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন ব্যবসায়ী বাকিরা গৃহিণী। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাত প্রার্থীর মধ্যে একজন মাস্টার্স পাস। দুইজন এইচএসসি, একজন এসএসসি এবং একজন পঞ্চম শ্রেণি পাস। আর দুইজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন চাকুরিজীবী, একজন ব্যবসায়ী ও পাঁচজন গৃহিণী।

 

৭ নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর সবারই শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। তারা সবাই গৃহিণী। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাতজনের মধ্যে দুইজন এলএলবি, একজন এসএসসি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন। অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন দুইজন। তাদের দুইজন চাকরিজীবী, একজন ব্যবসায়ী ও চারজন গৃহিণী। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন এলএলবি করেছেন। একজন সম্মান, একজন এইচএসসি, এবং বাকি দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস; আর একজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের মধ্যে একজন চাকরিজীবী, একজন ব্যবসায়ী এবং তিনজন গৃহিণী।

 

১০ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন এলএলবি পাস এবং দুইজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। তাদের একজন চাকরিজীবী, দুইজন ব্যবসায়ী। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তিনজন অষ্টম শ্রেণি এবং একজন এসএসসি পাস করেছেন। তাদের একজন ব্যবসায়ী, তিনজন গৃহিণী।

 

১২ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে একজন এইচএসসি ও বাকি তিনজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন বলে হলফনামায় জানিয়েছেন। তারা সবাই গৃহিণী। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন মাস্টার্স ও একজন এসএসসি পাস করেছেন। তাদের একজন চাকরিজীবী, অন্যজন গৃহিণী।

 

১৪ নম্বর ওয়ার্ডে তিন প্রার্থীর মধ্যে একজন এলএলবি পাস। একজন এইচএসসি ও একজন এসএসসি পর্যন্ত পড়েছেন। তাদের মধ্যে একজন চাকরিজীবী, একজন গৃহিণী এবং একজন ব্যবসায়ী। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে একজন মাস্টার্স, একজন স্নাতক, একজন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তিনজন স্বশিক্ষত। তাদের মধ্যে একজন সাংবাদিক, একজন ব্যবসায়ী ও বাকিরা গৃহিণী।

 

১৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে একজন এলএলবি পাস; একজন স্নাতক, একজন এসএসসি, ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তাদের একজনের পেশা চাকরি, অন্যরা গৃহিণী। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে স্নাতক একজন, একজন দশম শ্রেণি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস। তাদের একজন গৃহিণী, একজন চাকরিজীবী ও দুইজন ব্যবসায়ী।

 

১৮ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজনের মধ্যে দুইজন মাস্টার্স ও একজন স্নাতক পাস। তারা সবাই চাকরিজীবী। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন এসএসসি ও দুইজন অষ্টম শ্রেণি পাস। তাদের মধ্যে তিনজন গৃহিণী, একজনের পেশা ব্যবসা।

 

গাজীপুর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহ সভাপতি মুকুল কুমার মল্লিক বলেন, প্রার্থী হলফনামার বিস্তারিত তথ্য লিফলেট আকারে প্রকাশ করা উচিত, যাতে ভোটাররা তাদের যোগ্যতা দেখে ভোট দিতে পারেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ২০, ২০১৮