|

রেলপথ ও সড়কে ঝরলো ১৪ প্রাণ, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

লোক লোকান্তরঃ  রোববার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশের চার জেলায় রেলপথ ও সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

এর মধ্যে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেন টঙ্গীতে দুর্ঘটনায় পড়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির এসআই মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে টঙ্গীর নতুনবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

তিনি বলেন, ট্রেনটির চারটি পেছনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর গতির কারণে ওই অবস্থায় ট্রেনটি কয়েকশ গজ এগিয়ে যায়। এক পর্যায়ে দুটি বগি কাত হয়ে যায়।

 

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো. ইয়াসিন জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।

 

আহতদের মধ্যে সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর মো. শাহাদাত (৩৮) নামে আরও একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে মেডিকেল ফাঁড়ির এএসআই বাবুল মিয়া জানান।

 

ঘটনাস্থলে নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে রেল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তবে ওই তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি।

 

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন জানান, দুর্ঘটনার পর লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

এর আগে, কুষ্টিয়ার মিরপুরে ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- উপজেলার আইলচারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আয়াতুল্লাহ ও একই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র মুবিন।

 

পোড়াদহ রেলওয়ে থানার এসআই আবুল হাশেম খন্দকার জানান, পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দগামী একটি শাটল ট্রেন পোড়াদহ ইঞ্জিন পরিবর্তন করছিল।

 

এ সময় ওই মোটরসাইকেলটি লেভেল ক্রসিং পার হতে গেলে ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মুবিন মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াতুল্লাহকে কুষ্টিয়া সরকারি হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, নওগাঁর পোরশায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও তিনজন।

 

রোববার দুপুরে উপজেলার কুসরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে পোরশা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান।

 

নিহতদের মধ্যে উপজেলার কসনা গ্রামের আব্দুল সালাম (৫০), একই গ্রামের আশরাফুল ইসলাম (৪২) ও হীরা বেগমের (৬০) পরিচয় জানা গেছে।

 

ওসি রফিকুল বলেন, উপজেলার সরাইগাছী থেকে অটোরিকশাটি কসনা যাচ্ছিল। পথে কুসরপাড়া এলাকায় পোরশাগামী একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশাটি উল্টে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়।

 

আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

 

অপরদিকে, কিশোরগঞ্জে ট্রাক্টর ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আটজন।

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় আগরপুর বাজারের কাছে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাক্টর ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।

 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- লালন মিয়া (৩৫), মো. শাহিন (২২) ও আবদুল করিম (২৮)। লালন মিয়ার বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার কৈলাক ইউনিয়নের কৈলাক গ্রামে। মো. শাহিনের বাড়ি বলিয়ারদি ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে ও আবদুল করিম কৈলাক ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের বাসিন্দা। আহত তিনজনের মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বাজিতপুর থেকে অটোরিকশাটি ভৈরবে আসছিল। অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন পাঁচজন। সকাল পৌনে সাতটার দিকে অটোরিকশাটি আগরপুর বাজারের কাছে আসামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

 

সংঘর্ষে ট্রাক্টরটি সড়কে থেমে গেলেও অটোরিকশাটি ছিটকে দূরে পড়ে যায়। যাত্রীদের কয়েকজন সড়কে পড়ে যান। ঘটনাস্থলে শাহিন ও আবদুল করিম নিহত হন। পরে ঢাকায় নেয়ার পথে অটোরিকশাচালক লালন মিয়া মারা যান। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ট্রাক্টরটি জব্দ করা গেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:০৯ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১৫, ২০১৮