|

কোনো কোটা থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, শতভাগ নিয়োগ হবে মেধায়

লোক লোকান্তরঃ  সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোনো কোটা থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরিবর্তে মেধার ভিত্তিতে শতভাগ নিয়োগ হবে।

 

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন।

 

তিনি বলেন, আজ সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি আমাদের এ কথা বলেন।

 

পরে বুধবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখা পৃথক পোস্টেও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একই কথা জানান।

 

এতে উভয় নেতা বলেন, “বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন। বিগত দিনে কোটা পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে আজ সকালে আমরা (সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক; বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।

 

তিনি বলেন ‘সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা পদ্ধতি থাকবে না’। প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে ছাত্রসমাজ সাধুবাদ জানায়। অশেষ কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”।

জাকির লেখেন, ‘বিগত দিনে কোটা পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে আজ সকালে আমরা (সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করি। তিনি বলেন সরকারি চাকরিতে কোন কোটা পদ্ধতি থাকবে না।’

 

জানতে চাইলে জাকির বলেন, ‘আমি ও সংগঠনের সভাপতি (সাইফুর রহমান সোহাগ) আজ (বুধবার) সকাল নয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে ছিলাম সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে জানিয়েছেন সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না।’

 

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগের সমর্থন আছে বলেও জানান জাকির। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে ছাত্রসমাজ সাধুবাদ জানায়। অশেষ কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে জাকির লেখেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন।’

 

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা আছে। এদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ও জেলা কোটা হিসেবে ১০ শতাংশ করে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পাঁচ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্যে এক শতাংশ কোটা আছে।

 

বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। শুরুর দিকে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের অনুসারীরাই এই আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। তবে এবার কোনো বিশেষ কোটা বাতিলের দাবি না তুলে কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১১, ২০১৮