|

ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতিতে বাবুল চিশতীসহ গ্রেপ্তার চার

লোক লোকান্তরঃ  ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী) চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

মঙ্গলবার দুপুরে সেগুনবাগিচার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান।

 

এর আগে সকালে ঋণ আলোচিত এ ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৬০ কোটি আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

 

মামলায় ফারমার্স ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, তার স্ত্রী রোজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান, ও ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেনকে আসামী করা হয়।

 

ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় অনুসন্ধান চলাকালে গত ৩ এপ্রিল মাহবুবুল হক চিশতী, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে নোটিশ পাঠায় দুদক।

 

মাহবুবুল হক চিশতি ও তার স্ত্রী রোজী চিশতি ছাড়া অন্য যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল তারা হচ্ছেন- রাশেদুল হক চিশতী, রিমি চিশতি, মাজেদুল হক চিশতী, ফারহানা আহমেদ, ফারমার্স ব্যাংকের বর্তমান সিইও একেএম শামীম, ডিএমডি মো. আব্দুল মোতালেব পাটোয়ারী, এসইভিপি গাজী সালাহ উদ্দিন, ইভিপি মো. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, ভিপি মো. লুৎফুল হক, ভিপি মো. মনিরুল হক, এফভিপি মো. তাফাজ্জল হোসেন, এভিপি মোহাম্মদ শামসুল হাসান ভূঁইয়া, এইও মাহবুব আহমেদ এবং ইও মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

 

২০১৩ সালের ৩রা জুন চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে ফারমার্স ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির শাখার সংখ্যা ৫৬ ও এটিএম বুথ রয়েছে ১১টি।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি মোট ঋণ বিতরণ করেছে ৪ হাজার ৪১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে গত বছর এই ব্যাংক থেকে দেয়া ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৮৩৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফারমার্স ব্যাংকের মোট আমানত সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালে ছিল ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

 

সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক চিশতী। গত ১৯শে ডিসেম্বর ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম শামীমকেও অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৪২ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১০, ২০১৮