|

শাহবাগ-টিএসসি রণক্ষেত্র, আহত অর্ধশত

লোক লোকান্তরঃ  টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ থেকে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশত। এ ঘটনায় শাহবাগ-টিএসসি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।

 

সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এদের অনেকের আঘাত গুরুতর। এ সময় আন্দোলনকারিদের ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন ৫ জন পুলিশ সদস্য।

 

৮ এপ্রিল, রবিবার শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হটানোর জন্য রাত ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ শুরু করে। রাত ১২টার পরও শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ করছেন।

 

রাত ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীরা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার বিচার ও কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় তারা ‘কোটা সংস্কার চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

 

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছাত্রভঙ হয়ে গেলে তারা পথের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হন। ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করার সময় সংবাদকর্মীদেরও হেনস্থার শিকার হতে হয়।

 

সাদা পোশাকের বেশ কয়েকজন যুবককে পুলিশের সাঁজোয়া যানের আড়াল থেকে আন্দোলনকারিদের দিকে ইট পাটকেল ছূড়তেও দেখা যায়।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করাসহ ৫ দফা দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। বঙ্গবন্ধুর ছবি ও জাতীয় পতাকা হাতে রোববার দুপুর আড়াইটার পর থেকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন তারা।

 

শিক্ষার্থীদের অবরোধে শাহবাগে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দফায় দফায় তাদেরকে সরে যেতে অনুরোধ জানায় পুলিশ। কিন্তু আন্দোলনকারিরা অনড় থাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশি এ্যাকশন শুরু হয়।

 

৭টা ৫০মিনিটে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ। জলকামান থেকে গরম পানিও ছোড়া হয়। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। ফলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শাহবাগ ও আশপাশের এলাকা।

 

পুলিশি এ্যাকশনে সাড়ে ৮টার দিকে সংঘর্ষ কিছুটা থেমে গেলেও রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ফের শাহবাগের দিকে আসতে শুরু করেন।

 

এ সময় পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। টিএসসি’র কিছুটা দূরে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার শিক্ষার্র্থী। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশও টিয়ারসেল ছুড়ে।

 

রাত সাড়ে ৯টার পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফের পুলিশের ধাওয়া পাল্টা শুরু হয়। পুলিশ কিছুটা এগিয়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের কাছে অবস্থান নেয়।

 

রাত ১১টা ২০ পর্যন্ত এমন অবস্থা চলে। এ সময় ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একে এম গোলাম রাব্বানি। তিনি পুলিশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে কিছুটা সরে যেতে অনুরোধ করেন।

 

প্রক্টরের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পুলিশ একটু পিছিয়ে যাওয়ার সময়ই শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ধাওয়া করে। একই সঙ্গে ইটপাটকেলও ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

আরেকদফা জলকামানও ব্যবহার করা হয়। ফলে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ফের রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। দ্বিতীয় দফার এ সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

 

তাদের সংখ্যা তাৎনিকভাবে জানা না গেলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

একইসঙ্গে পুলিশের অন্তত ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। মধ্যরাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল।

 

এদিকে রাত সাড়ে ১১টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যাণ্টিনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারনের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

 

রাত পৌণে ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রাস্তায় পুলিশের চারটা সাঁজোয়া যান মোতায়েন ছিল। রাস্তায় অবস্থান করছিল ২ শতাধিক পুলিশ সদস্য।

 

 

আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজকের এ গণপদযাত্রা কর্মসূচি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও জেলা-উপজেলা শহরেও পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

কোটা সংস্কারকারীদের অন্যান্য দাবি গুলোর মধ্যে আছে- কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:০৫ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ০৯, ২০১৮