|

মাইকিং করে পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনতাই!

লোক লোকান্তরঃ  নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউপির আমাদা গ্রামে ডাকাত বলে মাইকিং করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে চার আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

 

রোববার গভীর রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় লোহাগড়া থানা পুলিশের একজন এসআই ও তিনজন এএসআই আহত হয়েছেন।

 

এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে শর্টগানের ৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। সোমবার ভোর ৪টার দিকে গুরুতর আহত পুলিশ কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এসআই গোবিন্দ আকর্ষন, এএসআই আনিসুজ্জামান, কাজী বাবুল ও বাবুল হাসানকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

‘গ্রামে ডাকাত পড়েছে’ এমন ঘোষণা দিয়ে আসামিপক্ষের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ৪ জন আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন । তবে এ ঘটনায় পুলিশ কোন আসামীকে আটক করতে পারেনি।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের আমাদা গ্রামে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য লোহাগড়া থানা পুলিশ ওই গ্রামে অভিযানে যায়।

 

এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, আসামিরা পাশের কামালপ্রতাপ গ্রামে একটি মাছের ঘেরে ঘুমিয়ে আছে।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ওই মাছের ঘের থেকে অভিযান চালিয়ে আমাদা গ্রামের আলী আহম্মেদ খানের ছেলে রাঙ্গু খান (২৭), অহিদার খানের ছেলে নাইস খান (২৫), গ্রাম পুলিশ দাউদ মল্লিকের ছেলে সোহেল মল্লিক (২৩) ও মন্টু মল্লিকের ছেলে সোহেল মল্লিককে (২০) গ্রেফতার করে।

 

আসামী গ্রেফতার করার পরে আমাদা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা করা হয়, গ্রামে ডাকাত পড়েছে।

 

এ ঘোষণায় আসামিপক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লোহাগড়া থানার এসআই গোবিন্দ আকর্ষন, এএসআই আনিসুজ্জামান, কাজী বাবুল ও বাবুল হাসানকে গুরুতর আহত করে। সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে সোমবার ভোরে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ওই গ্রাম থেকে ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করার পর ‘গ্রামে ডাকাত পড়েছে’-মর্মে আমাদা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেয়া হয়।

 

আমাদার হামিদ মল্লিক মসজিদের মাইকে এই অপপ্রচার করেন। এ সময় আসামী পক্ষের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ৪ জন কর্মকর্তাকে আহত করে গ্রেফতার হওয়া ৪ জন আসামীকে ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ শর্টগানের ৪ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে আত্মরক্ষা করে।

 

পুলিশের ওপর হামলা ও আসামী ছিনতাইয়ের ঘটনায় সোমবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।

 

প্রসঙ্গত, লোহাগড়া উপজেলার আমাদা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় আট মাস ধরে আবুল কাশেম খান সমর্থিত লোকজনদের সাথে একই গ্রামের আলী আহম্মেদ খান সমর্থিত লোকজনদের মধ্যে দ্ব›দ্ব-সংঘাত ও সংহিসতা চলে আসছে। পুলিশের গৃহীত তৎপরতায় ওই গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামবাসী আশ্বস্ত হতে পারছেন না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৩৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৬, ২০১৮