|

ছাত্রলীগের সভাপতির পদ নিশ্চিত করতেই শাওনকে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার:   ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আল রাফি শাওন হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে নিহতের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলনে শাওনের পিতা জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এম এ কুদ্দুস কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমি মানুষের সাথে দীর্ঘদিন রাজপথে কাজ করেছি।

 

কোনোদিন কারো কোনো ক্ষতি করি নাই। আমার একমাত্র সন্তানকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সহযোগিতা কামনা করছি। যারা আমার একমাত্র পুত্র শাওনকে হত্যা করেছে তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হোক এটাই আমার দাবি।

 

তিনি আরো বলেন, সন্তানের শোকে আমি আমার স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। নিহত সন্তানের লাশ কাটাছেড়া হোক এটা আমি ও আমার পরিবারের কারো কাম্য ছিল না বিধায় কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে শাওনের লাশ দাফন করি। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাদীন আমার পুত্রের দেয়া তথ্য ও অন্যান্য স্বাক্ষিদের দেয়া বিবরণ সংগ্রহ করে অনেকের সাথে পরামর্শ করে হত্যাকারীদের তথ্য এবং মূল রহস্য উদঘাটন করে মামলা দায়ের করতে দেরি হয়েছে।’

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে হত্যার শিকার শাওন ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। এ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় দত্ত। আসন্ন ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে শাওন ও সঞ্জয় দত্ত দুজনই সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। সভাপতির পদ নিশ্চিত করতে সঞ্জয় দত্ত পরিকল্পিতভাবে তার অনুসারীদের সহায়তায় শাওনকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে নিহত শাওনের মা নিলুফা সুলতানা পপি, একমাত্র বোন ফৌজিয়া আক্তার ফ্লোরা, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, বিশিষ্ঠ ব্যাবসায়ি ও আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল হক শামীম,এডভোকেট পিযুষ কান্তি সরকার, শওকত জাহান মুকুল, আহাম্মদ আলী আকন্দ,ফিরোজ আহম্মেদ, দীন ইসলাম ফকরুল,হুমাযূন কবির হিমেল,শামসুল আলম প্রমূখ উপন্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য গত ২৫ ফেব্র“য়ারী শাওনকে ডেকে নিয়ে গুলি করে মারাত্বক করে। পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ মার্চ তার মৃত্যু হলে বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ পুলিশ বাদি হয়ে মামলা নং ৪৮(৩)১৮ দায়ের করে। পুলিশ সঞ্জয় দত্ত, আরিফুল হক ও আমিনুল ইসলাম হিমেলকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

 

এদের মধ্যে সঞ্জয় দত্ত হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বিকার করে বলে জানান গেছে। অপরদিকে গত বুধবার নিহত শাওনের পিতা এম এ কুদ্দুস বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত সঞ্জয় দত্ত, আরিফুল হক ও আমিনুল ইসলাম হিমেল ও দীপ্ত দত্তের নামে আদালতে মামলা করে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ২২, ২০১৮