|

ময়মনসিংহে আইন অমান্য করে কৃষি জমিতে অবাধে গড়ে উঠছে ইটভাটা

স্টাফ রিপোটারঃ   ২০১৩ সনের (৫৯ নং আইন) ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে অমান্য করে এবং কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কৃষি জমিতে অবাধে গড়ে উঠছে ইটভাটা। চলতি বছরেও কয়েকটি ইটভাটা স্থাপনের জন্য কাজ চলছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে উপজেলার বইলর ইউনিয়নের হদ্দেরভিটা গ্রামে প্রায় ১৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। ওইসব জমিতে ৩ মৌসুমেই ধান উৎপাদন হয় বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

 

চলতি মৌসুমে ধানক্ষেত গুলোতে “ইট ভাটার নির্ধারিত স্থান” লিখে বড় বড় ৮টি সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। একপাশে ৩ একর জমিতে বোরো আবাদ বন্ধ রেখে মাটি কেটে ইটভাটা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই ১০ একর কৃষি জমিতে ওই ইটভাটা স্থাপনের কাজ করছে স্থানীয় সেলিম, শওকত, সুজন ও হালিম। আশেপাশে রয়েছে আরো কয়েক একর কৃষি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি।

 

এছাড়াও কানিহারী ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে সোহেল নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৮ একর কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। নির্মানাধীন ভাটাগুলোসহ অন্য ইটভাটাগুলোর ইট ও ইটের কাঁচামালবাহী ভারি যানবাহন চলাচলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। কৃষি জমিতে অবাধে ইটভাটা স্থাপনের ফলে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি ও বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের। ৩ ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের ঘটনায় ত্রিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্বীপক কুমার পাল জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইতিমধ্যে ত্রিশাল উপজেলায় ৫৫ টি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ভাটাগুলো কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে। সেখানে অবাধে পুড়ানো হচ্ছে কাঠ।

 

গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করে ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহন করায় বেহালদশায় পরিনত হচ্ছে রাস্তাগুলোর। বর্ষাকালে সাধারন মানুষের চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়লেও এসব অনিয়ম যেন দেখার কেউ নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া অবাধে গড়ে উঠার পরও জেলা পরিবেশ কর্মকর্তার কোন ধরনের তৎপরতা না থাকার কারণে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ছবিঃ হদ্দেরভিটায় কৃষি জমির উপর নির্মাণাধীন ভাটা। লোক লোকান্তর

অথচ আইনে আছে, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার জন্য কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে তা ব্যবহার করতে পারবে না। ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। ছাড়পত্র থাকুক বা না থাকুক, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষি জমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে ইটভাটা স্থাপন করতে পারবে না।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা বা ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহন করতে পারবে না। যদি কেউ আইন লঙ্ঘন করে তাহলে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড বা অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে, হদ্দেরভিটায় নির্মাণাধীন ভাটার মালিক সদস্য শওকত বলেন সময় হলে অনুমতি নেব।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্বীপক কুমার পাল বলেন, ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন সম্পর্কে অবগত করে হালিম গংদের ৩/৪ ফসলি জমিতে ভাটা স্থাপনে নিষেধ করেছিলাম। নিষেধ অমান্য করায় জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি।

 

তিনি আরো বলেন, এভাবে কৃষি জমিতে ইটভাটা গড়ে উঠলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ইউএনও আবু জাফর রিপন বলেন, ইটভাটা নিয়ন্ত্রন আইনে ফসলি জমিতে ইটভাটা করা যাবে না। এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ২২, ২০১৮