|

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধুটিলায় একদিন

আবুল বাশার মিরাজঃ   টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার চাপে অস্থির জীবন। তারপরও হুট করে হাতে পেয়ে গেলাম কিছু অবসর। যদিও সময় কম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল অনুষদের বন্ধুরা মিলে পরিকল্পনা করতে থাকি, কোথায় যাওয়া যায়।

 

ভ্রমণ পাগল শফিক জানায় ময়মনসিংহের অদূরে মধুটিলায় যাওয়া যেতে পারে। আমরাও সবাই মিলে তার সাথে সুর মিলিয়ে বললাম তবে তাই হোক!

 

ভোরবেলা বন্ধুরা একসাথে রওনা দিলাম ক্যাম্পাস থেকে। ঘন্টা দেড়েকের মধ্যেই আমরা ময়মনসিংহ থেকে শেরপুর জেলায় পৌঁছে যাই। কিন্তু এখান থেকে মধুটিলা আরো খানিকটা দূরে।

 

গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে… গানের সাথে মাতোয়ারা। একটি গান শেষ না হতেই আরেকটি গান শুরু হয় আরেক পাশ থেকে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে আমরা যত দূরেই যাই, ততই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমারোহ। অবশেষে আমরা পৌঁছে যাই আমাদের কাঙ্খিত গন্তব্যে।

 

১৯৯৯ ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে “মধুটিলা ইকো পার্ক” নামে মনোরম পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়। মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চূড়া বীটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার উপর এটি গড়ে তোলা হয়েছে।

 

পার্কের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই আমাদের নজরে পড়লো উঁচু গাছের সারি। রাস্তা থেকে ডান পাশে খোলা প্রান্তর আর দুই পাশে রকমারি পণ্যের দোকান আর পাহাড়ি ঢালুর আঁকাবাঁকা রাস্তা। পাহাড়ের প্রবেশ পথেই অভ্যর্থনা জানালো ধূসর রঙের বিশাল আকৃতির শুঁড় উঁচানো পাথরের তৈরি দুটি হাতি।

এরপর যতই এগোই, ততই মন ভরে যেতে থাকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে। হাঁটার পথে চোখ মেলে দেখলাম গাছপালার ফাঁকে ফুটে থাকা হরেক রকমের বুনোফুল, তাতে বাহারি প্রজাপতির বিচরণ। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার পথে ঝোপঝাড়ে দেখা মিললো হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, হৃদের ধারে কুমির, ব্যাঙ আর মৎস্যকণ্যার অতি চমৎকার সব ভাস্কর্য।

 

ইকোপার্কে ঢুকতে জন প্রতি ১০টাকায় টিকিট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে আলাদা ফি দিয়ে হৃদে প্যাডেল বোট চালিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে ভারতে অবস্থিত উঁচু উঁচু পাহাড় আর সীমান্তবর্তী সবুজ গারো পাহাড় দেখতে পাবেন। ভাগ্য ভালো হলে ওয়াচ টাওয়ার থেকেই মিলতে পারে বুনোহাতির দলের দেখা।

 

তারা সাধারণত শেষ বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় গভীর অরণ্য থেকে নেমে আসে। বিভিন্ন রাইড নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা করে গড়ে তোলা হয়েছে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক। এখানে ভ্রমণ পীপাসুদের দিনের বেলায় ব্যবহারের জন্য রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায় মহুয়া রেস্টহাউস। এছাড়া এখানে রয়েছে তথ্যকেন্দ্র, গাড়ি পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, মিনি চিড়িয়াখানা। ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রজাতির বৃক্ষ, মৌসুমি ফুলসহ বিভিন্ন রঙের গোলাপের বাগান। রয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পটও। পার্কটিতে জীববৈচিত্র ও প্রাণির সমাহারও চোখে পড়বে।

 

যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুরে আসতে হবে। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে। নন্নী বাজার থেকে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়ায় পাওয়া যায়।

 

অথবা ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি নালিতাবাড়ী পর্যন্ত গেটলক সার্ভিস রয়েছে। জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। নালিতাবাড়ী থেকে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে ২০-২৫ মিনিটে মধুটিলায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া যায়।

 

লেখক : শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:৫৯ অপরাহ্ণ | মার্চ ২২, ২০১৮