|

ময়মনসিংহে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো :  ময়মনসিংহের  ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন নাওগাও, এই ইউনিয়নের শেষ গ্রামের নাম কৃষ্টপুর। আর এই পুরো গ্রামটি বন বিভাগের। এ গ্রামটিকে ঘিরে একটি বাজার স্থাপন হয়েছে বহুদিন আগে। নাম তার কৃষ্টপুর বা ঠান্ডুর বাজার।

 

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় তুলনামুলকভাবে বাজারের তেমন কোন উন্নয়ন সাধিত হয়নি। কৃষ্টপুরসহ কয়েক গ্রাামের মানুষ সরকারী জমিতে বাড়ীঘর করে প্লট আকারে জমি আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। একটা সময় ছিল যখন সরকারী বন বিভাগের জমির কাঠ চুরি হতো পর্যাপ্ত পরিমানে। তখন ঐ এলাকার বেশীর ভাগ পুরুষের নামে একাধিক মামলা ছিল।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে বন কমিটির সহযোগিতায় কৌশলে পরিবর্তন আসলে মামলার সংখ্যা কমতে থাকে। মানুষ মামলায় হাজিরা ও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক কাজে ফিরতে থাকে। তবে বর্তমানে যে কয়েকটি মামলা রয়েছে তা কেবলই বন কর্মকর্তার খাম খেয়ালির জন্য বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

উৎকোচ দিলেই বন বিভাগের জমি ভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে কৃষ্টপুর বা ঠান্ডুর বাজারে ২টি ঘর তোলতে বন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম খান কে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মৌখিক অনুমতি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

 

মঙ্গলবার ঠান্ডুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারের পশ্চিম দিক ২টি ঘর উত্তোলন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আ: কাদের। তিনি আবার এক পীরের ভক্ত, বাজারে রয়েছে তার ১টি ঘর- পাশেই খালি জায়গায় আরও ২টি ঘর উত্তোলন করার জন্য ইট গাথুনী শেষ করেছেন এখন উপরের চালা দিলেই ভাড়া হবে। বিনিময়ে আসবে প্রতি মাসে টাকা।

 

কিন্তু ঘর উত্তোলনে নেই লিখিত অনুমতি পত্র। সংবাদকর্মীদের টের পেয়ে বাড়ী ছেড়ে অন্য কোথাও পালিয়ে। মুঠোফোন দিয়েছেন বন্ধ করে। করা যায়নি যোগাযোগ।

 

বাজারে কথা হয় স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার মো: আব্দুল খালেক, আ. কদ্দুছ, সুরুজ আলী, আ. মান্নানসহ অনেকের সাথে তারা জানান, ‘ বনের জমিতে কিছু করতে চাইলে বিট অফিসার বাঁধা দেন। টাকা দিলে মৌখিক অনুমতি পাওয়া যায় তবে বিনিময়ে দিতে হয় টাকা, তিনি কম টাকা নেন না, শুনেছি গতকাল রাতে বিট অফিসার ২২ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় আমাদের। ঘুষ দিলে মামলা হয় না, প্রতিবাদ করলে বেআদবী হয়, ফলাফল বদলী হওয়ার সময় মামলার সারি দীর্ঘ হয়। আমরা অসহায় বিট অফিসারের কাছে। আপনারা লেখার পরে আবারও মামলা হবে, তখন আমাদের বাঁচাবে কে?”

 

সন্তোষপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো: আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, ঘুষ আমি গ্রহণ করিনি, এ অভিযোগ মিথ্যা। ঘর উত্তোলন বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

ছবিঃ  কৃষ্টপুর বাজারে বন বিভাগের জমিতে আব্দুল কাদের নামের এক ব্যক্তি ২ টি ঘর তোলছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ২১, ২০১৮