|

ময়মনসিংহে রেলওয়ে সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে-রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার

জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথে ডবল লাইনের নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ও জামালপুর রেল লাইনের ডবল রেলপথ নির্মাণ কাজের দরপত্র আহবান প্রক্রিয়াধীন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে অতি সত্বর গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক যাত্রী সম্পন্ন এই রেলপথের ডাবল রেল লাইনের নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার সরদার শাহাদাত আলী।

 

তিনি বলেন, রেলপথে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

 

আজ ২০ মার্চ, মঙ্গলবার সকালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের সাফল্য উদযাপন উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশনে রেলওয়ের সেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরদার শাহাদাত আলী এসব কথা বলেন।

 

ময়মনসিংহ জংশন রেলওয়ে স্টেশন সুুপার জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অরো বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ পৌরসভার কাউন্সিলর শরাফ উদ্দিন, এটিএস টিসি (সিসিএম এর স্টাফ অফিসার) প্রণবেশ সরকার, আইআরপি স্বপন কান্তি বড়ুয়া ও জিআরপি ওসি আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

 

প্রধান অতিথি আরো বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেই লক্ষ্যে এ অঞ্চলের ট্রেন গুলোতে অতিরিক্ত বগিসহ আসন বৃদ্ধি এবং আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি আনার জন্য ভারতসহ অন্যান্য দেশের সাথে চুক্তি হয়েছে, এছাড়াও রেলওয়ের বিভিন্ন কারখানায় বেশ কিছু বগি মেরামত কাজ চলছে।

আশা করছি, আগামী এক দেড় বছরের মধ্যে এ সকল বগি রেলওয়ের সাথে যুক্ত হবে, আসন সংখ্যা কম থাকায় যাত্রী দুর্ভোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ডাবল রেললাইন নির্মাণ হলেই দুর্ভোগ কমে যাবে, তিনি রেলের কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাত্রীরা যাতে অধিক স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে চলতে পারে সেই লক্ষ্যে আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

 

পরে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ রেলওয়ের পুর্বাঞ্চলের চীফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার সরদার শাহাদাত আলী আন্তঃ নগর হাওর ট্রেনের লোকো মোটিভ মাষ্টার (ড্রাইভার),পরিচালক (গার্ড) এবং যাত্রীদের হাতে রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক ও চকলেট প্রদান এবং বেলুন উড়িয়ে রেলওয়ের সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন করেন।

 

এর আগে, সোমবার রেলপথ মন্ত্রনালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০ থেকে ২৫ মার্চ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, রেলওয়ে ভবন, বিভাগীয় ভবন আলোকসজ্জায় সজ্জিত থাকবে। বাংলাদেশের এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণ এবং দেশব্যাপী ২০ থেকে ২৫ মার্চ বিশেষ সেবা সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০ থেকে ২৫ মার্চ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, রেলওয়ে ভবন, বিভাগীয় ভবন আলোকসজ্জায় সজ্জিত থাকবে।

 

বিশেষ সেবা সপ্তাহ চলাকালে, সকল গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রী সেবায় স্কাউটস সদস্যদের নিয়োগ করা হবে। সকল আন্তঃনগর, মেইল এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনের নির্ধারিত রেক এবং সকল কোচের ভিতরের আসন, ফ্যান, পর্দা এবং টয়লেটসমূহ, সকল বিশ্রামাগার ও প্লাটফর্ম পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ও হকার মুক্ত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বিশেষত, মহিলা, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধিসহ অসুস্থ যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দময় ভ্রমণ এবং স্টেশনে আরামদায়ক অবস্থা নিশ্চিত করা এবং ট্রেন ও স্টেশনে ফার্স্ট এইড বক্স সকলের দৃষ্টিগোচরে রাখা এবং এর মধ্যে রক্ষিত ওষুধ ও যন্ত্রসমূহ হালনাগাদ রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

যাত্রীদের টিকেট প্রাপ্তির বিষয়টি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করাসহ টিকেট প্রাপ্তিতে যাত্রীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় তার প্রতি সার্বক্ষনিক দৃষ্টি রাখা হবে। বিশেষ সেবা সপ্তাহ চলাকালে, ট্রেনের ইঞ্জিনে, ছাদে, বাফারে এবং দরজার হ্যান্ডেলে ঝুলন্ত অবস্থায় যাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ট্রেনের দায়িত্বরত লোকোমাস্টার, গার্ড, রেলওয়ে পুলিশ এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

 

এসময়, ট্রেনে মালামাল বুকিং, বোঝাই, পরিবহন ও গন্তব্য স্টেশনে খালাসে ব্যবসায়ীরা যেন হয়রানীর শিকার না হয় সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখাসহ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ | মার্চ ২০, ২০১৮