|

আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী’র চট্টগ্রাম সফর, চলেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

লোক লোকান্তরঃ  প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রাম আসছেন। তাঁর আগমন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এদিন বিকেলে জেলার পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রায় ১৭ বছর পর শেখ হাসিনা পটিয়া যাচ্ছেন। ওই জনসভায় তিন লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে আয়োজকরা জানান।

 

২১ মার্চ, বুধবার পটিয়া সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রায় অর্ধশত উন্নয়ন প্রকল্পের। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের পথে ঘাটে এখন শোভা পাচ্ছে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন-তোরণ।  চলেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

 

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম আসবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে (বিএনএ) বিএনএ ডকইয়ার্ডকে ন্যাশনাল স্ট্যাডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান এবং বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স উদ্বোধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত বিএনএ’তে নামাজ ও মধ্যাহৃ বিরতি নেবেন।

 

সেখান থেকে পৌনে চারটায় পটিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। পৌনে চার থেকে ৪টায় পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন।

 

জনসভার মঞ্চ তৈরি হচ্ছে নৌকার আদলে। অনেকে বলেছেন, এটি দেশের বৃহত্তম জনসভামঞ্চ হতে পারে।

 

সুত্র জানা যায়, এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য দু’শতাধিক মাইক আনা হয়েছে। সকাল থেকে তা বসানোর কাজ শুরু হয়। স্কুল মাঠ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা নেতাকর্মীদের জন্য বড় আকারের ৮টি স্ক্রিন বসানো হবে। এছাড়াও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বজ্রপাত নিরোধযন্ত্র বসানো হবে।

 

এদিকে, সভামঞ্চ লাগোয়া পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিশ্রামকক্ষ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কক্ষটি প্রধানমন্ত্রীর বিশ্রাম উপযোগী অত্যাধুনিকভাবে সাজানো হচ্ছে।

 

পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। এ উপলক্ষে সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

এতে দুই পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে এবং পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি জনসভায় তিন লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। এটি হবে চট্টগ্রামের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা। সেই লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।’

 

মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনসভার আশপাশে পাবলিক টয়লেট ও পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে। জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিম মাঠে থাকবে। প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আটটি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি মাইকিং, পোস্টার ও প্রচারপত্র বিলির মধ্য দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিকবার জনসভার মাঠ পরিদর্শন ও মনিটরিং করেছেন। দক্ষিণ জেলার সব সংসদ সদস্য সার্বিক সহযোগিতা করছেন। নিজ নিজ এলাকায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

 

সকাল ১১টা ৫ মিনিট থেকে শুরু হয়ে পৌনে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও আনোয়ারার দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেটা আমাদের মাথায় আছে। কক্সবাজার থেকে নগরমুখী যানবাহন আনোয়ার-বাঁশখালী সড়ক দিয়ে আসবে। জনসভার কারণে মানুষের তেমন কোনো দুর্ভোগ হবে না।’

 

একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘স্বাভাবিক কারণেই সামান্য জনদুর্ভোগ হবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় চট্টগ্রামের সব প্রান্ত থেকে মানুষ আসবে-এটা আবেগের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জনসাধারণ এই দুর্ভোগ মেনে নেবে। দল, প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করব জনদুর্ভোগ যেন কম হয়। যাতায়াতে যেন বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা না হয়।’

নগর থেকে জনসমাগমের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘নগরীতে যাঁরা বসবাস করেন তাঁরা মূলত উত্তর ও দক্ষিণ জেলারই মানুষ। নগরীর প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে লোক যাবে। লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে জনসভা। এই জনসভা স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা হবে।’

 

সংবাদ সম্মেলনে কালুরঘাট সেতু, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ে বন্দর সমপ্রসারণ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার-আরাকান সড়ক চার লাইন করার সরকারি ঘোষণা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

 

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, ‘দুপুর ১২টার পর যাঁরা জনসভায় আসবেন তাঁরা হয়তো মাঠে ঢুকতে পারবেন না। ওইদিন মানুষের ঢল নামবে। আর যাঁরা মাঠে ঢুকতে পারবেন না তাঁরা যাতে ভাষণ শুনতে পান সে জন্য মাইক থাকবে সড়কে। এলইডি স্ক্রিন থাকবে প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরা থাকবে বিভিন্ন স্থানে।’

 

চট্টগ্রাম নগর থেকে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটিয়া যাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ লক্ষ্যে জনসভাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পটিয়ার কচুয়াই ইউনিয়নের ফকিরপাড়ায় তৈরি করা হচ্ছে দুটি হেলিপ্যাড। পটিয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসের তত্ত্বাবধানে হেলিপ্যাড তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলছে পার্কিং ও সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ।

 

পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ দত্ত সাংবাদিকদের জানান, কচুয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়ায় দুটি হেলিপ্যাড তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এর মধ্যে ৮০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪০ মিটার প্রস্থের একটি এবং অন্যটি ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩০ মিটার প্রস্থের। হেলিপ্যাড এলাকায় ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি রাখার জন্য পার্কিং ও দুটি সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে মঙ্গলবার সকালেই এসব কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

 

ছবিঃ সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:৩৩ অপরাহ্ণ | মার্চ ২০, ২০১৮