|

‘জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে, তাদের দেশে থাকব না…’

লোক লোকান্তরঃ  ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করে আওয়ামী লীগ। ঢাকা ও আশেপাশের এলাকা থেকে এতে যোগ দেন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মী। আর সমাবেশে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে বাংলামোটরে একদল নেতাকর্মী একজন ছাত্রীকে যৌন হেনেস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

ভুক্তভোগী ছাত্রী বুধবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ জানান। ফেসবুক প্রোফাইল সূত্রে জানা যায়, তিনি রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

 

নারী দিবসের আগের দিন নিজের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি ফেসবুকে লিখেন, ‘শান্তিনগর মোড়ে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাস পেলাম না। হেঁটে গেলাম বাংলামোটর। বাংলামোটর যেতেই মিছিলের সামনে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাঁড়াল। ব্যস! যা হওয়ার থাকে, তাই। কলেজ ড্রেস পড়া একটা মেয়েকে হ্যারাস (নিগ্রহ) করতেছে। এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেছে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেছে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিঁড়ে গেছে। ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেছে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিছে। আমার দুইটা হাত এতগুলো হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাঁচাতে পারে নাই। একজন পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং (যৌন হেনস্থাকারীদের) চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে এবং একটা বাস থামিয়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি (নিরাপদে) আসছি। প্রচণ্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোনো কাটাছেঁড়া নাই। মেন্টালি (মানসিকভাবে) ভয়াবহ বিপর্যস্ত বাট (কিন্তু) শারীরিকভাবে ভালো আছি। আমি এই… দেশে থাকব না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট (যৌন হেনস্থা) করে তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না…।’

 

ফেসবুকে অদিতী তার এই স্টাটাস দেয়ার পরপরই তা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই শেয়ার দিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাক্তির ফেসবুকে, গ্রুপে পেইজে অদিতী বৈরাগীর স্টাটাসটি শেয়ার করা হয়। চার ঘন্টাতেই ১৪ হাজারের বেশি লাইক পড়ে ও প্রায় ৭ হাজার বার শেয়ার করা হয়।

 

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাকি বিল্লাহ লিখেছেন, ‘ ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব করতেন তার নাম ‘৭১ অবিনাশী সত্তা’। ৭১ কে অবিনাশী করে তুলতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে ৭ই মার্চ। আর আজ ২০১৮ সালের ৭ই মার্চ, মিছিলের মধ্যে পড়ে ভয়ংকর যৌন নিপীড়নের শিকার হলেন এই মেয়ে । এর চেয়ে করুণ, পীড়াদায়ক আর কিছু হতে পারে না।’

 

এ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। অবশ্য তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার সন্ধ্যায় প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এই ঘটনাটি সম্পর্কে আমার জানা নেই’।

 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অপরাধ বিজ্ঞানী তৌহিদুল হক  বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ৮ মার্চ নারী দিবস পালন করব। নারীদের সকল উন্নয়নের সাথে অংশ গ্রহণ রয়েছে। আজ ৭ মার্চের সমাবেশের দিনের ঘটনা নিয়ে এক মেয়ে যে পোস্টটি দিয়েছে, এ ঘটনার জোরালোভাবে নিন্দা জানাচ্ছি।’

 

‘সমাবেশে যাবার পথে যে একটি মেয়েকে লাঞ্ছিত করার যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা কোনোদিনই আমরা মেনে নিতে পারি না। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন যায়গায় যেহেতু সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সে সব সিসিক্যামেরায় সহযোগিতায় যারা এই কাজ করেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। এটা কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাপার? এটা পুলিশ চাইলেই পারে’, বলেন তিনি।

 

তৌহিদুল হক বলেন, ‘একই সাথে যে মেয়েটি ভিকটিম (ভুক্তভোগী) হয়েছে, তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা অর্থাৎ ঘটনার পরে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি তার যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হলো- এই যায়গা থেকে তাকে কাউন্সিলিং করতে হবে। তার বিশ্বাসের জায়গায় তাকে ফিরিয়ে নিতে হবে। এই ঘটনার যদি আমরা বিচারের ব্যবস্থা করতে পারি। তবে অনান্য ঘটনাগুলো কমে যাবে। আমাদের পাবলিক আচরণের মধ্যে যে শৃঙ্খলাবোধ ,সেটা কিন্তু নাই। আর রাজনৈতিক নেতাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে- তাদের অনুসারীদের সুস্থ বিকাশ ঘটানোর।’ সুত্রঃ প্রিয়

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:৩০ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৮, ২০১৮