|

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা, সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা, প্রস্তুত বিজিবি

লোক লোকান্তরঃ  বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। নোম্যান্সল্যা‌ন্ডে আশ্রয় নেয়া রো‌হিঙ্গা‌দের ভয়ভী‌তি দেখা‌তে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছ‌ড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বা‌হিনী গু‌লিবর্ষণ করেছে। বৃহস্প‌তিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

 

যদিও এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে সীমান্তে ভারী অস্ত্র, গোলা বারুদ নি‌য়ে স্বাভা‌বি‌কের থে‌কে অ‌তি‌রিক্ত সেনা মোতা‌য়েনের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লোইন উকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়।

 

বিজিবি জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। নোম্যান্সল্যান্ডে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবস্থান নেয় দেশটির সেনারা। সেখানে আগে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা ছিল এখন তার চেয়ে অনেক কমসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

 

সকাল থেকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মিয়ানমারের বাড়তি সেনা সদস্যদের অবস্থান লক্ষ করা গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

 

তমব্রু সীমান্তের এক কিলোমিটার মধ্যে দুই শতাধিক সেনা সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।

 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই সীমান্তে ভারি অস্ত্রসহ সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, আতঙ্কে নোম্যান্সল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্ঠা চালাচ্ছে।

 

সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবিসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরওয়ার কামাল।

 

ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের অনেকে জানান, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে মিয়ানমার সেনারা। এ নিয়ে সেনা সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক দাবি করে বাংলাদেশে ঢুকতে অস্বীকৃতি জানায় রোহিঙ্গারা।

 

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মুজিবুর রহমান বলেন,  আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে। যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বিজিবি’র সদস্যরা দেশ মাতৃকার তরে নিবেদিত প্রাণ থেকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে।

 

যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। অন্যান্য ফোর্সকে সেখানে নিয়োজিত করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়নি যে অন্য ফোর্সকে সেখানে অবস্থান নিতে হবে। বর্ডারে যে পরিমাণ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

 

এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মিয়ানমার কেন হঠাৎ সীমান্ত এলাকায় এত জনবল ও অস্ত্র মোতায়েন করেছে তা জানার চেষ্টা চলছে। সেটা জানার জন্যই তাৎক্ষণিক ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের আহ্বান করা হয়েছে। আলোচনায় বসলে জানা যাবে।

 

বিজিবির গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এরমধ্যেই গতকাল সকালে তমব্রু বিওপির দায়িত্বাধীন সীমান্ত পিলার ৩৪ ও ৩৫-এর মধ্যবর্তী কোনাপাড়া শরণার্থী শিবিরের কাছে অবস্থান নেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

 

সীমান্ত থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ পূর্ব-দক্ষিণে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পাহাড়ের ওপর বাংলাদেশের দিকে মুখ করে একটি ৬০ কিলোমিটার মর্টার ও মেশিনগান স্থাপন করেছে বলে জানা গেছে। মোতায়েনকৃত অতিরিক্ত জনবলের নেতৃত্বে রয়েছেন টিওসি স্পেশাল কমান্ডার (কর্নেল পদবির) একজন সেনা কর্মকর্তা।

 

সূত্র জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে বিতাড়নের জন্য তারা সিসি ক্যামেরা, আইআর, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, বাইনোকুলারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি স্থাপন করেছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ০২, ২০১৮