|

ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে ১০ টাকার বিরিয়ানি !

লোক লোকান্তরঃ   গত ৩/৪ বছর আগে দোকান ভেদে প্রতি প্লেট বিরিয়ানি বিক্রি হতো ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বর্তমানে প্রতিপ্লেট বিরিয়ানি দোকান ভেদে প্রতি প্লেট সর্বনিম্ম ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দামে বিক্রি হয়।

 

তবে কিছু ফাস্টফুড শপে ৭০ থেকে ৮০ টাকা প্লেট দামেও বিফ ও চিকেন বিরিয়ানি পাওয়া যায়। কিন্তু এই দুর্মূল্যের বাজারে বিস্মিত করার বিষয় হলো, ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রতি প্লেট বিরিয়ানি মিলছে ১০টাকা দামে।

 

 

 

পুরান ঢাকার বনগ্রাম জামে মসজিদের নিচ তলায় এই বিরিয়ানির দোকান চালান তানভীর আলম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিরিয়ানি বিক্রি করেন। কিন্তু এতদিন তার দোকানে উপচে পড়া ভিড় ছিল না।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে অনেকেই জেনেছেন তানভীরের ১০ টাকার বিরিয়ানির খোঁজ। তার পর থেকে সন্ধ্যা হলেই বিরিয়ানির স্বাদ আস্বাদন করতে আসা ভোজন রসিকের ভিড় লেগেই থাকে।

 

তানভীর কৈশোর থেকে বিরিয়ানি বিক্রি করে আসছেন। এখানে দোকান দিয়েছেন প্রায় কুড়ি বছর হলো। শুরুতে পাঁচ টাকায় বিরিয়ানি বিক্রি করতেন। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন পাঁচ টাকার বদলে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। তারপর ক্রেতাদের ভিড় সামলানো দায়। ১০ টাকার পাশাপাশি তানভীর ২০, ৩০ ও ৪০ টাকা দামের বিরিয়ানিও বিক্রি করে থাকেন করেন।

 

কম দামে বিরিয়ানি বিক্রি করার কারণ জানতে চাইলে তানভীর জানান, পুরান ঢাকার ওয়ারী ও আশপাশের বেশ কিছু এলাকার কর্মজীবী শিশু ও শ্রমিকদের দুপুরের খাবার কম দামে দেয়ার কথা তিনি ভেবেছেন। সাধ থাকলে বিরিয়ানি খাওয়ার সাধ্য হয় না এদের। তাই অনেক বছর ধরেই এভাবে কম দামে বিরিয়ানি বিক্রি করছেন তানভীরর আলম।

 

বিরিয়ানি বিক্রি করেই সংসার চলে তানজীরের। মাগরিবের নামাজের পর খোলেন ১০ টাকার বিরিয়ানি নামে পরিচিতি তার বিরিয়ানির দোকান। প্রতিদিন দু’পাতিল বিরিয়ানি রান্না করেন। রাত আট টা না বাজতেই বিক্রি শেষ।

 

১০ টাকার বিরিয়ানি খেতে যারা এসেছেন তাদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানার পর দূর থেকেও ছুটে গেছেন অনেকে। ক্রেতাদের মধ্যে আছেন শিশু, কিশোর, ছাত্র, বৃদ্ধ ও নারী।

 

 

এদিকে চট্টগ্রামের পাওয়া যাচ্ছে চর্বি বিরিয়ানি। মুরগির পাখা, পা, গিলা-কলিজা দিয়ে রান্না করা চিকেন বিরিয়ানিও পাওয়া যায় ১০ টাকা দামে।

 

চট্টগ্রামের সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ, রিক্সাচালক এবং বিভিন্নস্তরের শ্রমজীবি মানুষের কাছে এই বিরিয়ানি অনেক জনপ্রিয় খাবার হিসেবে ইতিমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মূল্য ১০ টাকা হলেও এই বিরিয়ানি বাসি কিংবা পরিত্যাক্ত বা কুড়িয়ে আনা বিরিয়ানি নয় বলে বিক্রেতারা জানান।

 

প্রতিদিন বিকেলে রান্না করে গরম গরম বিক্রি করা হয় এসব বিরিয়ানি। বিক্রেতাদের দাবি তারা ফ্রেশ বিরিয়ানি রান্না করে বিক্রি করেন।

 

চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় একটি বড় মেজবানি ডেকচিতে বিরিয়ানি বিক্রি করছিলেন ৩২ বছরের যুবক মনির।

 

মনির জানান, তার প্রতিপ্লেট বিরিয়ানির মূল্য ১০ টাকা। সাধারণত গরুর হার ও চর্বি দিয়ে এই বিরিয়ানি রান্না করা হয়। এখানে কোন ভেজাল নেই। বিরিয়ানিতে প্রয়োজনীয় মসলাপাতিও দেয়া হয়। ছোট প্লেটে আনুমানিক ২০০ গ্রাম ওজনের বিরিয়ানি সাথে ক্রেতাকে শশা পিয়াজের সালাতও দেয়া হয়।

 

বিক্রেতা মনির জানান, এই বিরিয়ানির ক্রেতা শুধু নিন্ম আয়ের মানুষই নয় সাধারণ স্কুল-কলেজের ছাত্র এবং অফিস ফেরত অনেকেই এই বিরিয়ানির স্বাদ গ্রহণ করেন।

 

মাত্র ১০ টাকায় বিরিয়ানি বিক্রি করা সম্ভব কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মনির বলেন, ‘আমরা ছোট প্লেটে বিরিয়ানি বিক্রি করি। খুব সীমিত লাভ করে বেশি পরিমানে বিক্রি করতে সক্ষম হই বলে আমাদের ভালোই মুনাফা থাকে।’

 

এই বিক্রেতা আরো বলেন, ‘আমাদের বিরিয়ানিতে গরুর চর্বি, হাড়, মুরগির পাখা, পা, গিলা-কলিজা ইত্যাদি দিয়ে থাকি। আর এসব মাংস উপকরণ বাজারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে কিনতে পাওয়া যায়। তবে চালটা বেশি দামেই কিনতে হয়। তবু আমাদের ভালো মুনাফা থাকে।’ প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বিরিয়ানি বিক্রি করেন বলে জানান মনির।

 

মনিরের মত নগরীর বহদ্দার হাট, জিইসি, অলংকার, আগ্রাবাদ, চকবাজার, মুরাদপুর, একে খান গেইট, ইপিজেড প্রভৃতি এলাকায় প্রায় শতাধিক ব্যাক্তি ১০ টাকার বিরিয়ানি বিক্রি করেন।

 

ছবিঃ সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ০১, ২০১৮