|

গাছের সাথে বিয়ে হলো আরেক গাছের!

লোক লোকান্তরঃ  বিষয়টিকে কেউ কেউ কাল্পনিক বা পাগলামি ভাবতে পারেন। এটি কাল্পনিক নয়, বাস্তব। বেশ ঘটা করে, গান বাজনা ও উৎসাহের মাধ্যমেই দেয়া হলো গাছে গাছে বিয়ে। গাছেরাও পেল নতুন সংসার।

 

শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরে অবস্থিত গ্রিন সেভারসে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের দক্ষিণ গেটে গ্রিন সেভারসের কার্যালয়। যৌথভাবে বিয়ের আয়োজন করেন গাছের ডাক্তার খ্যাত আহসান রনি এবং বেনাউল দ্যা পাইপার খ্যাত হাসান বেনাউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ড. সুলতান আহমেদ ও চিত্রনায়ক রিয়াজ। এছাড়া গাছে গাছে বিয়ে দেখতে এসেছিলেন অনেকে।

 

ভিন্নধর্মী এ আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসান বেনাউল ইসলাম বলেন, ‘বেনাউল দ্যা পাইপার নামে আমার একটা ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে আমি কিছু আইডিইয়া শেয়ার করি। পেজে গাছে গাছে বিয়ে দেয়ার একটা আইডিয়া শেয়ার করেছিলাম। আমরা যেভাবে সবুজ ধ্বংস করছি, তাতে আমরা এখন যদি সবুজটাকে সংরক্ষণ না করি। তাহলে রাজধানী ঢাকা বলেন আর সারাদেশ বলেন। একটা সময়ে গিয়ে সব বিষময় হয়ে যাবে।’

 

হাসান বেনাউল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে করতে আমরা একজনের থেকে অন্যজন আলাদা হয়ে যাচ্ছি। হয়ত অনলাইনে কথা হয়। কিন্তু সরাসরি দেখা করার বা কথা বলার সুযোগটা হয় না। এখন আমরা যদি একটা গাছের সঙ্গে অন্য একটা গাছকে বিয়ে দিই। তাহলে আপনি সেই গাছটা দেখতে যাবেন। সঙ্গে ওই পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হবে কথা হবে। একটা বন্ধন তৈরি হবে, গাছগুলোও একটা বিশেষ পরিচর্যা পাবে।’

 

গাছের ডাক্তার হিসেবে খ্যাত গ্রিন সেভার অনেক আগে থেকেই গাছ বাঁচানো এবং তা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। গাছে গাছে বিয়ের ব্যাপারটা নিছক পাগলামি বললেও তা ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদী গ্রিন সেভারসের স্থপতি ও পরিচালক আহসান রনি।

 

তিনি বলেন, ‘এটা এক ধরনের পাগলামি। মানুষ গাছেকে যত্ন করে না, পরিচর্যা করে না। তাই গাছকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি। তখন একটা দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। আমরা নিকাহনামার মাধ্যমে কিছু শর্ত জুড়ে দিচ্ছি। যেমন, যত্ন করা, পরিচর্যা করা, গাছের অসুখ হলে ঔষধ দেয়া। আর যখন এ কাজগুলো করা হবে, তখন গাছ ফুল দেবে, ফল দেবে। গাছ যখন ফুল, ফল দেবে তখন গাছের প্রতি একটা ভালোবাসা তৈরি হবে। আমরা এই ভালোবাসাটাই চাই।’

 

তিনি বলেন, ‘এই ভালোবাসাই গাছের বংশ বাড়াবে। একটা গাছ থেকে পাঁচটা, দশটা গাছ হবে। আমরা বিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছি না। আমাদের গাছের ডাক্তার আছে। ফেসবুকে একটা গ্রুপ করা হয়েছে ‘গাছে সংসার’ নামে। সেখানে কেউ চাইলে তার রুগ্ন গাছের ছবি দিয়ে আমাদের থেকে সমাধান নিতে পারেন।’

 

আহসান রনি আশা করেন, তাদের এ উদ্যোগ সফলতা পাবে। বৃদ্ধি পাবে গাছের বংশ বিস্তার ও পরিচর্যার হার।

 

বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে থেকে গাছ পাগলরা একে একে তাদের গাছ নিয়ে আসিতে শুরু করেন। বিয়ে বাড়িতে বড় কনে বরণ করার মতো করেই গাছ ও তাদের মালিকদের বরণ করা হয়। এ সময় ব্যান্ড পার্টি বাজায় বিয়ের গানের বাজনা। একে একে আট জোড়া গাছ এসে পৌঁছায় বিয়ের জন্য।

 

প্রথমেই আহসান রনির ক্রিসমাস গাছের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেয়া হয় হাসান বেনাউল ইসলাম এর লিলি গাছের। এ বিয়েতে ক্রিসমাস গাছের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ড. সুলতান আহমেদ। লিলি গাছের পক্ষে সাক্ষী ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। মালা বদল ও গাছ নিজ নিজ গাছের পক্ষে কামিন নামায় স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।

 

একই পদ্ধতিতে উপস্থিত অন্যন্য সাক্ষীদের সাক্ষের ভিত্তিতে বাকি বিয়েগুলোও সম্পন্ন হয়। বিয়েতে একটি বিশেষ নিয়ম রাখা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। বিবাহ পরবর্তী তালাকে বিধান যেকোনো বিয়েতে থাকলেও এবিয়েতে সে সুযোগ রাখা হয়নি।

 

সুত্রঃ ঢাকা টাইমস

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:৫৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮