|

‘পাগলিটা মা হলেন, বাবা হল না কেউ’

লোক লোকান্তরঃ  ‘এই যে ফুটফুটে দেবশিশুটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মিটিমিটি হাসছে, গতকাল একুশের প্রথম প্রহরের কয়েক ঘণ্টা আগেই তার জন্ম। শিশুটি জন্ম নিয়েছে রাস্তায় ধারে এক বালির মাঠে, তাও সালমা নামে এক পাগলির গর্ভে।

 

রাতের আঁধারে সন্তান সম্ভবা এক পাগলী মায়ের প্রসব বেদনার গগণবিদারী চিৎকার ভারি করে তুলছিল শিবচরের জনপদ।এমন রাত্তিরে একটি নির্জন জায়গা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে শব্দকে গন্তব্য করে ছুটে গিয়েছিল কিছু মহৎ তরুণ। গিয়ে তাদের চক্ষু চড়কগাছ।’

 

এটা কোন বানানো গল্পের শুরু নয়। নির্মম জীবন বাস্তবতায় এক ফুটফুটে দেবশিশুর পৃথিবীতে আসার গল্প। লিখেছেন ওয়াজেদ মোহান নামে এক যুবক। তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসের সূত্র ধরেই জানা গেল গল্পের প্লট মাদারীপুরের শিবচরের।

 

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শিবচর পৌরসভাধীন হাতিরবাগান মাঠে সালমা বেগম (৩৫) নামের একজন মানসিক প্রতিবন্ধী বালুর উপরে এক কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। স্থানীয়দের মতে, সালমা বেগম প্রায় ৮-৯ মাস ধরে মানসিক অসুস্থ্য অবস্থায় শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করতেন।

 

প্রসববেদনায় মানসিক প্রতিবন্ধী সালমার চিৎকার শুনে স্থানীয় কিছু যুবক তাকে নবজাতকসহ উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছেন। র্ব্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ্য আছেন।

 

সেদিন রাতের অভিজ্ঞতার কথা উপস্থিত যুবকদের বরাত দিয়ে ওয়াজেদ লিখেছেন, ‘হুট করে এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে প্রথমে সবাই কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই তারা সামলে নিয়ে এদিক ওদিক ফোন দিয়ে জেনে নেন কী করতে হবে।

 

শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি। অদূরেই লোকালয় থেকে কয়েকজন নারীকে ডেকে আনলেও কেউ শিশুটির নাড়ি কাটতে রাজি হচ্ছিলেন না। তাদের এক বন্ধু ডাক্তার ডাকলেন, রাতের আঁধারে এ নির্জনে এক পাগলির সেবায় আসতে প্রথমে ডাক্তার আপত্তি জানান, পরে অবশ্য চলে আসেন। ফলাফল বাচ্চা আর পাগলি মা হাসপাতালে।’

 

সেই সন্ধ্যায় যারা দেবশিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন জাহিদ হাসান অমি। ওয়াজেদ মহান লিখেছেন, ‘আমি আসলে বুঝতে পারছিনা, অমিদের বীরত্বের কথা ভেবে গর্ববোধ করব, নাকি পাগলিটাকে মা বানিয়ে দেয়া পিশাচটার কথা ভেবে লজ্জিত হব।’ অমির সঙ্গে থাকা সাগর, ইব্রাহীম, আজিজ এবং অন্য যারা ছিলেন সবার প্রশংসা করেন তিনি।

 

ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দেয়ার পরপরই ভাইরাল হয়ে যায় ঘটনাটি। অনেকেই প্রশংসা করছেন যারা সালমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আবার আবার অনেকেই মানসিক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণকারীকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানিয়েছেন। একজন স্ট্যাটাসটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘পাগলিটা মা হলেন, বাবা হলেন না কেউ’।

 

আবার কেউ কেউ শিশুটিকে দত্তক নেয়ারও আবেদন করেছেন। জাহিদ হাসান অমি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশতাধিক মানুষ শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু আমরা চাই সে যেন

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির নাম রাখা হয়েছে জান্নাতুল হাবিবা নূরে (হুমায়রা)

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:২৯ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮