|

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৪০০ পদে স্থায়ী নিয়োগ হচ্ছে

লোক লোকান্তরঃ  দীর্ঘ ৩০ বছর পর চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) অনুমোদন হয়েছে। ১৯৮৮ সালের প্রস্তাবিত এ জনবল কাঠামো সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর ফলে চারশোরও অধিক শুন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে চসিক।

 

ইতোমধ্যে ১৯৮৮ সালের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত সকল শুন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার জন্য চসিককে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চিঠিতে শুন্য পদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

 

চসিক সচিবালয় বিভাগ সূত্র জানায়, তৎকালীন মেয়র মাহমুদল ইসলাম চৌধুরীর আমলে ১৯৮৮ সালে প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে মোট ৩ হাজার ১৮০টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে চারশোর অধিক পদ শুন্য আছে। যদিও এসব পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে চসিকে স্থায়ী এবং অস্থায়ীসহ প্রায় ৯ হাজারের মত জনবল রয়েছে।

 

চসিক সূত্রে জানা গেছে, শুন্য পদ পূরণের অনুমতি ও তালিকা চেয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বরাবর চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত সকল শুন্য পদ দ্রুততার সাথে পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। চিঠিতে, সিটি করপোরেশনে শুন্য পদের তালিকা তিন দিনের মধ্যে প্রেরণের জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বিষয়টি অতীব জরুরি’।

 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের শূন্যপদগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি।’ আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রবিধানমালা ও নিয়োগ বিধি নিয়ে বৈঠক হবে।

 

এদিকে, সিটি করপোরেশনে নিয়োগ বিধি নিয়ে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা এবং সহকারি সচিব নজরুল ইসামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৮৮ সালের অর্গানোমের অনুমোদন নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা ছিল। সে অর্গানোগ্রাম মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানতো না। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অর্গানোগ্রাম অনুমোদন দিয়েছে। আমরা চারশোরও অধিক শুন্য পদের তালিকা গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। শুন্য পদে ‘নিয়োগ বিধি’ বিষয়ে একটি সভা আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এতে কীভাবে শুন্য পদ পূরণ করা হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রভৃতি বিষয়ে নির্ধারিত হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘চসিকের অর্গানোগ্রাম নিয়ে একটা জটিলতা ছিল। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অর্গানোগ্রামের ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে।’

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি শুন্য পদ পূরণের জন্য নির্দেশনা এসেছে। আমরা শুন্য পদের একটি তালিকাও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। শুন্য পদ নিয়োগের জন্য ‘সরাসরি নিয়োগ’ এবং ‘পদোন্নতি’ এ দুটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। নিয়োগের ব্যাপাারে আমরা শিগগিরই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেব। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠেয় সিটি করপোরেশনের ‘নিয়োগ বিধি’ ও ‘প্রবিধি’ বিষয়ে একটি সভার কথাও উল্লেখ করেন মো. সামসুদ্দোহা।

 

আটকে আছে ২০১৭ সালের জনবল কাঠামো : ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল ১৩ হাজার ৪৫৫ জনবলের একটি নতুন অর্গানোগ্রাম স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পঠিয়েছিল চসিক। ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (প্রস্তাবিত) সাংগঠনিক কাঠামো–২০১৭’ শিরোনামে এই অর্গানোগ্রাামে চসিকের সচিবালয় বিভাগ ভেঙ্গে প্রশাসন বিভাগ, পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ করার প্রস্তাব ছিল। এছাড়া প্রকৌশল বিভাগ থেকে আলাদা করে নগর পরিকল্পনা বিভাগ নামে একটি নতুন বিভাগের প্রস্তাব ছিল।

 

চসিকের সচিবালয় সূত্র জানায়, নতুন অর্গানোগ্রামে প্রশাসন বিভাগে ৯২৬ জন, রাজস্ব বিভাগে ৬৩৭ জন, শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ২৩৮ জন, হিসাব রক্ষণ বিভাগে ১১২ জন, স্বাস্থ্য বিভাগে ১ হাজার ৯৭০ জন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৫ হাজার ৩০৫ জন (ডোর টু ডোর বাদে), প্রকৌশল বিভাগে ২ হাজার ৭৫ জন এবং নগর পরিকল্পনা বিভাগে ১৯২ জন জনবল চাওয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে ওই অর্গানোগ্রাম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে অর্থ বিভাগ এবং আইন বিভাগ অথবা মন্ত্রিপরিষদ হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাবে এই অর্গানোগ্রাম। ফলে দীর্ঘ সূত্রিতায় এই অর্গানোগ্রামের বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।

 

১৯৮৮ সালের জনবল কাঠামো নিয়েও আছে প্রশ্ন : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যমান জনবল কাঠোমো (১৯৮৮) নিয়েও আপত্তি ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। নিয়োগ বিধি ছাড়া ওই জনবল কাঠামোর বিপরীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গত বছর চসিকের কাছে তথ্য চেয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর প্রেক্ষিতে চসিক জবাব পাঠায় মন্ত্রণালয়ে।

 

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার স্বাক্ষরিত চসিকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘চসিকের সাংগঠনিক কাঠামো ১৯৮৮ সালে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের পর ১৯৯৩ সালে নিয়োগ বিধি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। নিয়োগ বিধি অনুমোদন সময় সাপেক্ষ বিধায় ১৯৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নিয়োগবিধি সরকারি গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় সৃষ্ট প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদসমূহ পূরণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়।

 

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বাছাই কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। এই কমিটি দুটির নির্দেশনা মোতাবেক পূর্বের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ‘দ্যা লোকাল কাউন্সিল সার্ভিস রুলস ১৯৬৮ এর তফশিল অনুসরণ করে নিয়োগ যোগ্যতা নির্ধারণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতো।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:২৭ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮