|

ময়মনসিংহে যুবলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ২০, ছাড় পায়নি বঙ্গবন্ধুর ছবিও

স্টাফ রিপোর্টারঃ  ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে যুবলীগের কমিটি নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নবগঠিত আহবায়ক কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় রেহায় পায়নি বঙ্গবন্ধুর ছবিও । এ ঘটনায় প্রায় ২০জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত ২ প্লাটোন পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

 

জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগ গত ২২ জানুয়ারি প্রায় তিন বছর পূর্বে গঠিত আহবায়ক কমিটিকে বাতিল করে পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমনের ছোট ভাই আবুল খায়েরকে আহবায়ক করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহবায়ক কমিটি দেওয়ায় পূর্বের আহবায়ক কমিটির সদস্যরা ক্ষুদ্ধ হয়ে নতুন আহবায়ক কমিটির আনন্দ মিছিলে বাধা প্রদান করে।

 

এ নিয়ে বিকেল ৪টায় দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু হয়। সংঘর্ষে ইট, পাথর নিক্ষেপের ফলে উভয় পক্ষের প্রায় ২০জন নেতাকর্মী আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহতরা হলেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক দেলোয়ার জাহান মামুন(৪৩), সুজন মিয়া (৩০)। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় ।

 

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাস ভবনে হামলা চালিয়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিড়ে ফেলাসহ ১৫টি মটরসাইকেল ভাংচুর করে। এ সময় দুইটি বাসায় হামলা করে ভাংচুর করা হয়।

 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (অপরাধ) এস এ নেওয়াজী ও সহকারী পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) সাকের আহমেদ সিদ্দিকী এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খানের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষ্যে এক রাউন রাবার বুলেট, ১২টি টিআরসেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে এলাকায় ২ প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে।

 

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা মাহাবুবুর রহমান মাহবুব বলেন, নতুন আহবায়ক কমিটিতে জামাত, বিএনপি’র লোকজনকে অর্ন্তভূক্ত করায় আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা কর্মীরা প্রতিবাদ করেছে।

 

এ ব্যাপারে যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুছ সালাম বলেন, নতুন কমিটিকে নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিছিল বের করলে মাহাবুবুর রহমান ও মতিউর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের মিছিলে হামলা চালায়। তখন উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাস ভবনে হামলা করে ১৫টি মটরসাইকেল ভাংচুর করে ও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ছিড়ে ফেলে। এবং আমার বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়।

 

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্যে ১২টি টিআরসেল ও একরাউন্ড রাবার বোলেট নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে অতিরিক্ত ২ প্লাটোন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮