|

‘শক্তি দেখালে জঙ্গি-সন্ত্রাসী, না দেখালে দুর্বল’

লোক লোকান্তরঃ  এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পরও বিএনপি কঠোর কোনো আন্দোলনের ডাক দেয়নি। দলটির শক্তি দেখানোর ক্ষমতা নেই বলে অনেকে সমালোচনা করলেও এটা মানতে পারছেন না ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। তিনি বলেন, ‘শক্তি দেখাতে গেলে বলবেন জঙ্গি-সন্ত্রাসী, আর না দেখালে বলা হবে দুর্বল।’

 

মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভিতে আয়োজিত এই টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ‘কোন পথে রাজনীতি’ শীর্ষ টক শো সঞ্চালনা করেন ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

 

উপস্থাপককে উদ্দেশ্য করে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনি বলছেন সরকার এমন নরম নরম ভাব দেখাচ্ছে। কিন্তু গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নিরবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এবং নিরবে গ্রেপ্তার বাণিজ্য হচ্ছে। এটাতো তেমন প্রচার হয় না।’

 

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করে বকশিবাজারের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া তারেক রহমানসহ মামলার অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়।

 

রায় ঘোষণার পর বিএনপি বিক্ষোভ কর্মসূচি, প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করলেও বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি দেয়নি।

 

শক্তি নাই দেখে বিএনপি আন্দোলন করছেন না এমন প্রশ্ন করা হলে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘এখন শক্তি দেখাতে গেলে বলবেন জঙ্গি-সন্ত্রাসী, না দেখালে বলবেন তুমি দুর্বল। এটা মহা একটা সংকট।’

 

রায়ের পর থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে তাদের দলীয় প্রধানকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই এই রায় দেয়া হয়েছে। সেজন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রধানকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয় দলটি।

 

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘বেগম জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ঠিকই নিয়েছে। কিন্তু সরকারও ইনক্লুসিভ নির্বাচনের স্বার্থে, পৃথিবীর মানুষের মতের প্রতি সম্মান দেখাতে গিয়ে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে ইনক্লুসিভ নির্বাচন করতে চাইবে। আর সেটা করতে গেলে বিএনপির সঙ্গে আলাপ আলোচনা করবে। সেটা ঘোষণা দিয়ে হোক বা ঘোষণা না দিয়েই হোক।’

 

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে সরকার ভয় পায়। আর এই জনপ্রিয়তা এত বেশি যে ক্ষমতাসীন দল মনে করছে এতে বিএনপি অনেক সিট পেতে পারে। বেগম জিয়াকে বিপদে রাখলে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিবে নির্বাচনে আসবে না এখন একটা কৌশল নিচ্ছে তারা।

 

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলাকে রাজনৈতিক ‍উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যায়িত করে ইবরাহিম বলেন, ‘এর উদ্দেশ্যই হলো তাকে (খালেদা জিয়া) যেন নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের দুই থেকে চার মাস আগে বিএনপির শরিক কিছু দল বর্তমান ক্ষমতাসীনদল থেকে প্রলোভনের স্বীকার হয়েছিল। বলা হয়েছিল ‘তোমরা জোট ছাড় নির্বাচনে আস।’ এখনও আমরা বলছি জোটের সিদ্ধান্তই আমরা মানবো, বেগম জিয়াকে ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাবো না।

 

টক শোতে আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা এটা রাজনৈতিক মামলা নয়। রাজনৈতিক আবরনে দুর্নীতি বিষয়ক মামলা। রাজনৈতিক বিষয়ে মামলা ভিন্ন হয়। যেমন বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার যখন মামলা দিয়েছিল রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে দুর্নীতি ছিল না। সেখানে সরাসরি জনগণের অধিকারের কথা ছিল, রাষ্ট্রদ্রোহীতার কথা ছিল।’

 

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বেগম জিয়া কারাগারে থাকলে নির্বাচন বন্ধ করা বিএনপির জন্য হবে সুইসাইড।’

 

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘বিএনপির প্রতি সহিংস আন্দোলন করার যে অভিযোগ আছে তারা সেটা থেকে সরে এসেছে। এটা একটা ভালো দিক। তারা বুঝতে পেরেছে জনগণ সহিংসতা চায় না।’

 

টক শোতে আরও অংশ নেন বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এস এম ফায়েজ, জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ার রোজেন, বিতার্কিক রুবায়েত ইবনে রায়হান।

 

মূল লেখাঃ ঢাকা টাইমস

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩:২০ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮