|

ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জন সাথে কোথায় ঘুরতে যেতে পারেন

লোক লোকান্তরঃ   বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন দিবসের শুরুটা অনেকখানি বিতর্কিত হলেও এখনকার তরুণদের মাঝে এর প্রভাব নিয়ে কোন বিতর্ক করার সুযোগ নেই। স্কুল কলেজ এর কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে বয়স্ক দম্পতি, সবাই আজকাল এই দিবসটা একটু ভিন্ন ভাবে পালন করার সুযোগ পেলে ছাড়েন না। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জন সাথে নিয়ে অনেকেই বেড়াতে বের হন।

 

তাই ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলার এবং চট্টগ্রামের কিছু আকর্ষণীয় জায়গার কথা আজ আমরা বলব যেখানে আপনি আপনার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে যেতে পারেন।

 

ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলা

 

টি এস সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: টি এস সি এলাকাটি সবসময়ই তরুণদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে থাকে। এরই মাঝে নিজেদের আলাদা করে নেন কেউ কেউ। টি এস সির ভেতরে বারান্দায় বা মাঠে বসে অনেকেই সময় কাটাতে পছন্দ করেন। তারুণ্য মুখরিত এলাকাটিতে এসে বয়স্ক মানুষও যেন বয়স হারিয়ে তরুণ হয়ে যেতে চান।

 

 

দোয়েল চত্বর ও কার্জন হল:  কার্জন হল জায়গাটির একটি বিশেষ আকর্ষণ আছে। পুরো এলাকাটি পুরনো স্থাপত্যের যে ছাপটি আছে, তা একটি প্রাচীন ভাব এনে দেয়। এখানকার বিভিন্ন ভবনের পুরনো কাঠের সিঁড়িতে বসে খানিকটা সময় কাটিয়েই দেয়া যায় নির্জনে। কার্জন হল থেকে বেরিয়েই আছে দোয়েল চত্বর। সেখানে আপনি বিভিন্ন হস্তশিল্প কেনাকাটা করতে পারবেন। আরও আছে বেশ কিছু ছোট নার্সারি, যেখান থেকে আপনি বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় গাছ কিনতে পারবেন, উপহারও দিতে পারবেন।

 

বই মেলা: বই মেলা জায়গাটা ঠিক ঘোরার জায়গা নয়, সেখানে মানুষ বই দেখতে বা কিনতেই যায়। আপনার ভাললাগার মানুষটিকে সাথে নিয়ে তাকে কিনে দিতে পারেন একটা কবিতার বই। নিশ্চয়ই খুশি হবেন তিনি।

 

মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন। ছবিঃ সংগৃহীত

মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন: মিরপুরে অবস্থিত এই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি বিশাল। সেখানে রয়েছে দেশি বিদেশি অনেক গাছ আর জায়গা যেখানে আপনি একটু খানি বসে সময় কাটাতে পারেন। তবে একটু খেয়াল রাখবেন যেন মূল এলাকা ছেড়ে ভেতরে কোথাও চলে না যান।

 

মিরপুর বেড়িবাঁধ: মিরপুর বেড়িবাঁধে এলে হারিয়ে যেতে পারেন ট্রাফিক জ্যাম মুক্ত হাইওয়েতে। দেখতে পাবেন দু’পাশে গাছের সারি, দিগন্ত বিস্তৃত খোলা প্রান্তর, দূরে সবুজ গ্রাম আর রুপালি পানির নদী। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ভাসমান রেস্তোরা এবং বিনোদন পার্ক। সেখানেও সময় কাটাতে পারেন। রয়েছে অনেক পুরনো কিছু বটগাছ। অনেক নাটকেরও শুটিং হয় এখানে। আলো থাকতে থাকতে এখান থেকে চলে যাওয়াটা ভাল হবে।

 

সোনার গাঁ: বাংলার এক প্রাচীন রাজধানী সোনার গাঁ, যেখানে আপনি এক দিনে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।উপভোগ করার মত আছে অনেক কিছুই। জাদুঘরের ভেতরে রয়েছে প্রধান ফটকে দুজন অশ্বারোহী, গরুর গাড়ির ভাস্কর্য, লাইব্রেরি ও ডকুমেন্টেশন সেন্টার, সদ্য নির্মিত জয়নুলের আবক্ষ ভাস্কর্য, ক্যান্টিন, লোকজ রেস্তোরা, সেমিনার হল, ডাকবাংলো, কারুশিল্প গ্রাম, কারুপল্লি, জামদানি ঘর, কারু-মঞ্চ, কারু-ব্রিজ, মৃৎশিল্পের বিক্রয়কেন্দ্র। এছাড়াও গ্রামীণ উদ্যান, আঁকাবাঁকা দৃষ্টিনন্দন লেক, বড়শিতে মাছ শিকার. নৌকায় ভ্রমণ ও বনজ, ফলদ, ঔষধিসহ শোভাবর্ধন প্রজাতির বাহারি বৃক্ষরাজি ইত্যাদিও আপনাকে দিতে পারে অসাধারণ একটি সময়। এছাড়াও আছে পানাম নগরী, ভগ্নপ্রায় এই জায়গাটিতে পুরনো সব বাড়ি আর বিভিন্ন স্থাপনার মাঝ দিয়ে হেঁটে যেতে আপনার অনুভূতিটাই অন্যরকম হয়ে যাবে।

 

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়: এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বহু ভ্রমণকারীদের প্রিয় স্থান। দিনে গিয়ে দিনে ঘুরে আসা খুবই সহজ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হতে পারে প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে এক দিনের একটি গন্তব্য।

 

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। ছবি: মিনহাজ মিশু।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক: এশিয়ার বৃহত্তম সাফারি পার্কটি যে গাজীপুরে, সেটা হয়ত আমরা জানিই না। ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল গড়ে ৩৬৯০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়ে এই আধুনিক জীবজন্তুদের অভয়ারণ্য। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ১২২৫ একর জায়গা নিয়ে কোর সাফারি, ৫৬৬ একর জায়গা নিয়ে সাফারি কিংডম, ৮২০ একর জায়গা নিয়ে বায়ো-ডাইভার্সিটি, ৭৬৯ একর এলাকা নিয়ে এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি এবং ৩৮ একর এলাকা নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। পার্কে বন ও অবমুক্ত প্রাণীর নিরাপত্তার জন্য ২৬ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকগণ বাস বা জীপে বসে ঘুরে বেড়ানো অবস্থায় বন্যপ্রাণী দেখতে পারেন। পার্কে বাঘ, সিংহ, ভালুক চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, জেব্রা, জিরাফ, ওয়াইল্ডবিষ্ট, ব্লেসবক, উটপাখি, ইমু প্রভৃতি রয়েছে যারা স্বাধীনভাবে পার্কে ঘুরে বেড়াতে পারে।

 

দিয়া-বাড়ি: সাম্প্রতিককালে ঢাকাবাসীর একটি পছন্দের বেড়ানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে উত্তরার দিয়া বাড়ি। শহরের কোলাহল থেকে দূরে নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত একটি স্থান দিয়া বাড়ি। উত্তরার সেক্টর ১৫ তে অবস্থিত এই স্থানটি পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বেড়াবার জন্য চমৎকার জায়গা। বিশেষ করে শরৎকালের কাশফুল দিয়া বাড়ির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। যদিও বছরের এই সময়টাতে আপনি কাশফুলের সৌন্দর্য দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন। দিয়া বাড়িতে খাবার ব্যবস্থা খুব ভালো। অনেকগুলো দোকান আছে। আপনার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে কিছু মুহূর্ত কাটিয়ে আসতে পারেন সেখান থেকে।

 

হাতির ঝিল। ছবিঃ সংগৃহীত

হাতির-ঝিল: ইট-কাঠ আর জ্যামের নগরী ঢাকার এক ব্যতিক্রমী সুন্দর জায়গা হাতির ঝিল। সন্ধ্যা নামলেই ভ্রমণকেন্দ্রে পরিণত হয় হাতির ঝিল। শান্তি ও স্বস্তির খোঁজে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এখানে আসেন। সন্ধ্যায় বাহারি আলোয় সেজে ওঠে হাতির ঝিল। এর পাশাপাশি হাতির-ঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি রাইড হতে পারে আর একটা চমৎকার বিনোদন।

 

ধানমন্ডি লেক ও রবীন্দ্র সরোবর: যে জায়গাটির কথা না বললে লেখাই সম্পূর্ণ হয় না, তা হল ধানমন্ডি লেক। এই লেক আর লেকের পার্শ্ববর্তী জায়গা গুলো সবসময়ই বিভিন্ন মানুষ দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে, এর পাশাপাশি বিশেষ দিনগুলোতে তরুণদের ভিড় দেখা যায় রবীন্দ্র সরোবর এর মুক্ত মঞ্চ এলাকায়।

 

এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন রেস্তোরা ভালবাসা দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্যাকেজ অফার করছে। কোন স্কাই ভিউ রুফটপ রেস্তোরায় আপনি আপনার ভালবাসার মানুষটিকে পাশে নিয়ে এক কাপ কফি খেতেই পারেন। খিলগাঁও তালতলা এলাকায় আপনি পাবেন বিভিন্ন ধরনের রেস্তোরার এক বিশাল সমারোহ। বেইলি রোড, ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোড, গুলশান এবং বনানী এলাকা এবং সম্প্রতি ৩০০ ফুট রাস্তার ধারে আপনি বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন মূল্যমানের রেস্তোরা পাবেন।

 

ময়মনসিংহ

শশী লজঃ  শশী লজ ভালোবাসার এক অপূর্ব নিদর্শন। এতো বড় শ্বেত মার্বেল পাথরের ভেনাসের পূর্ণাঙ্গ মূর্তি দেশের আর কোথাও নেই। ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এটি। স্থানীয়ভাবে এটি ময়মনসিংহ রাজবাড়ি নামেও পরিচিত। এ লজের অদূরে ব্রহ্মপুত্র নদ। বিভিন্ন ফুলের বাগান, পুকুর আর শিল্পকর্মের এক অপূর্ব নিদর্শন। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জন সাথে নিয়ে অনেকেই বেড়াতে আসেন এখানে।

 

বোটানিক্যাল গার্ডেন ময়মনসিংহ

বোটানিক্যাল গার্ডেনঃ  বিলুপ্তপ্রায় গাছপালাকে সংরক্ষণ এবং মানুষের কাছে পরিচিত করানোর জন্য ১৯৬৩ সালে এ বোটানিক্যাল গার্ডেনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেনের মধ্যে ঢুকেই প্রাণ জুড়িয়ে যাবে সারি সারি অচেনা সব গাছ দেখে। সুন্দর বাঁধানো রাস্তা আর তার দুই পাশের সুশোভিত বৃক্ষরাজি ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করবে না। জেনে অবাক হবেন যে এ গার্ডেনে ৫৫৮ প্রজাতি কয়েক হাজার গাছ রয়েছে। এর মধ্য রয়েছে ফুল, ফল, ঔষধি, লতাপাতাসহ নানা জাতের গাছ। প্রজাতি সংখ্যার দিক থেকে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বাগান। আপনার প্রিয়জনকে নিয়ে পুরো একটা দিন এখানেই কাটাতে পারেন।

 

ময়মনসিংহ পার্ক ও জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালাঃ  ব্রহ্মপুত্রের তীরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা । ১৯৭৫ সালে এ সংগ্রহশালাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে শিল্পাচার্যের ৭০টি চিত্রকর্ম ছিল কিন্তু কিছু ছবি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন মোট ৬৩টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। এসব ছবির মধ্যে আছে শম্ভুগঞ্জ ঘাট, শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ, স্কেচ, বাস্তুহারা, প্রতিকৃতি এবং অন্যান্য অনেক ছবি। এসব ছবি ছাড়াও রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত জিনিস এবং তাঁর কিছু স্থিরচিত্র।

 

সংগ্রহশালার ঠিক পাশেই পৌর পার্ক। সুন্দর সাজানো গোছানো ব্রহ্মপুত্র নদীতীরের এ পার্কটিতে অনায়াসে একটা বিকেল কাটিয়ে দেওয়া যায়। এ পার্কের একপাশে রয়েছে নানা মানের রেস্টুরেন্ট আর স্ট্রিট ফুড শপ। ব্রহ্মপুত্রে নৌভ্রমণ করতে চাইলে রয়েছে তারও ব্যবস্থা, আছে গাছপালার অপূর্ব সমারোহ। মোট কথা, একটি প্রাকৃতিক নির্মল পার্কে যা থাকা দরকার সবই আছে।

 

সিলভার ক্যাসেল

সিলভার ক্যাসেলঃ  ময়মনসিংহে শহরের খাগডহরে বিশাল এলাকাজুড়ে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন হোটেল সিলভার ক্যাসেল। খাগডহর এলাকায় এই হোটেলটির মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। শহরের পশ্চিম সীমান্তে নদের মোহনাতে গড়ে ওঠা হোটেলে অটোরিকশা নিয়ে খুব সহজেই চলে আসা যায়। নিসর্গ উপভোগের দারুণ স্থান এটি। হোটেলটির চারিদিকের প্রাকৃতিক দৃশ্য নজর কাড়ার মতো। সূর্যাস্তের আলো পড়ে নদের ওপর। এ সময় মৃদু হাওয়ার দাপট এক অন্যরকম দোলা দেয় মনে। এখানকার সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের দৃশ্য উপভোগ করার মতো। এবার ভ্যালেন্টাইনে এটি হতে পারে আপনার দর্শনিয় স্থান।

 

 

ইস্টার্ন হেরিটেজ রিসোর্ট

ইস্টার্ন হেরিটেজ রিসোর্টঃ  ময়মনসিংহের শহরতলীর তালতলা এলাকার নদের উপারে গড়ে উঠেছে ওয়েস্টার্ন হ্যারিটেজ রিসোর্ট। ব্যাক্তি মালিকানায় গড়ে উঠা ময়মনসিংহের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র “Estern Heritage Resort”  ব্রহ্মপুত্র নদের কূল ঘেসে নতুন ময়মনসিংহ শহরে (নদের ওপারে, সিলভার ক্যাসেলের বিপরীত পার্শে) প্রায় ৫০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে । সম্পূর্ণ কোলাহলমুক্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পরিবেশ সব বয়সি মানুষের ভাল লাগবে। প্রিয় মানুষটির সাথে অগচরে সময় কাটানোর মত উপযুক্ত একটি স্থান। এখানে বারবিকিউ সহ উপভোগ্য সব ধরনের ব্যবস্থাও রয়েছে।

 

 

 

 

চট্টগ্রামের কিছু আকর্ষণীয় জায়গা

ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জন সাথে নিয়ে বেড়ানোর জন্য চট্টগ্রাম বাসিন্দাদের জন্য হাতে অনেক অপশনই রয়েছে। দেশের বেশিরভাগ দর্শনীয় স্থান সমূহ এই জেলায় অবস্থিত। সমুদ্র নগরী চট্রগ্রাম, এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত এবং ঘুরে দেখার মত অসংখ্য প্রাকৃতিক স্পট। চট্রগ্রামের অসাধারণ পাহাড় এবং লেক আপনার এবং আপনার প্রিয়জনের মনকে ভরিয়ে তুলতে যথেষ্ট।

 

ভাটিয়ারী গলফ কোর্স এবং লেকঃ চট্রগ্রাম শহর সিটি গেইট থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে ভাটিয়ারীতে রয়েছে অসাধারণ প্রাকৃতিক রূপে বৈচিত্র্য। এখানে আপনি সব কিছুই পাবেন, পাহাড়, কাক চক্ষুর মত স্বচ্ছ লেকের পানি, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত গলফ কোর্স। সম্পূর্ণ অঞ্চলটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এবং একই যায়গায় চট্রগ্রাম সেনানিবাস অবস্থিত বলে এখানে নিরাপত্তা নিয়ে আপনাকে চিন্তিত হতে হবে হবেনা। আপনি চাইলে প্রিয়জনকে নিয়ে লেকে নৌকা চড়তে পারবেন এবং নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে লেকের পানিতে ছিপ দিয়ে মাচ শিকার করতে পারবেন। মোট কথা শহরের খুব কাছেই আপনার সময়টি অসাধারণ কাটবে।

 

সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক। ছবিঃ সংগৃহীত

সীতাকুণ্ড ইকো পার্কঃ চট্রগ্রাম শহর থেকে ৪০ মিনিটের পথ সীতাকুণ্ড, সেখানেই রয়েছে অসাধারণ এক পর্যটন স্পট। আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকেও। সীতাকুণ্ডে আপনি দেখতে পাবেন দুইটি ঝর্ণা, এদের একটির নাম সহস্র ধারা ঝর্ণা এবং অন্যটি শত সহস্র ধারা ঝর্না। ঝর্না সমূহ আপনার মন ভরিয়ে দিতে সক্ষম। যদিও ঝর্ণার ধারে যেতে হলে আপনাকে পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে উপরে এবং নিচে নেমে যেতে হবে পাড়ি দিতে হবে দুর্গম পথ। আপনি যদি এডভেঞ্চার প্রিয় হন তবে অবশ্যই এই সুযোগ লুফে নিতে পারেন।

 

মিরসরাই মহামায়া লেকঃ  মহামায়া লেক একটি প্রাকৃতিক লেক বিশাল এলাকা জুড়ে পাহাড়ি লেকের পানি দিয়ে এই এলাকা গঠিত। এখানে রয়েছে অসাধারণ পাহাড়ি গুহা এবং ঝর্ণা। আপনি বোটে করে লেক পার হয়ে দূর পাহাড়ে অবস্থিত ঝর্ণার শীতল পানির ছোঁয়া নিয়ে আসতে পারেন। মহামায়া লেকের ঝর্ণার পানিতে গোসল করার অনুভূতি অসাধারণ।

 

ফ’য়েজ লেক। ছবিঃ সংগৃহীত

ফ’য়েজ লেকঃ  বন্দরনগরীর অন্যতম আকর্ষণ ফ’য়েজ লেক। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে রেলকর্মীদের পানির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে এলাকাটি। কেউ কেউ এটিকে প্রাকৃতিক লেক ভেবে ভুল করে। আসলে এটি কৃত্রিম লেক। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে নাতিদীর্ঘ লেক, লেকের এপারে-ওপারে সৌন্দর্য নিয়ে গর্বিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় এ দৃশ্য সহজেই মুগ্ধ করার মতো।

 

ওয়ার সিমেট্টি : নগরীর প্রবর্তক মোড় পেরিয়ে বাদশা মিয়া রোডে এর অবস্থান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের একাংশ এখানে সমাহিত করা হয়েছে। ফুলের বাগান বেষ্টিত মনোরম এ স্থান স্মরণ করিয়ে দেয় সেইসব সৈন্যদের শৌর্যবীর্য ও বীরত্বগাথা। ছোট ছোট সমাধিফলক সারিবদ্ধভাবে সাজানো।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস :  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের তুলনা নেই। নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পাহাড়ের উপরে স্থাপিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় চারদিকেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়। পাহাড় কেটে কেটে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে তা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। দুইপাশে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা যমজ পাহাড়, মাঝখানে পাহাড়ের বুক চিরে চলে গেছে সরু রাস্তা। মনোমুগ্ধকর দৃশ্যই বটে।

 

পতেঙ্গা সৈকত এবং নেভাল সৈকত। ছবিঃ সংগৃহীত

পতেঙ্গা সৈকত এবং নেভাল সৈকতঃ অনেকেই চট্রগ্রামের পতেঙ্গা সৈকতের কথা শুনেছেন তবে যারা যাননি কিংবা যেতে আগ্রহী তারা খুব সহজেই চলে যেতে পারেন এই অসাধারণ সৈকতে। শহরের ভেতরেই এই সৈকতের অবস্থান।

 

পার্কি সৈকতঃ  সৈকতের নগরী চট্টগ্রাম অনেক সৈকতের মাঝে এটি আরেকটি প্রাকৃতিক সৈকত যদিও এখানে যেতে হলে আপনাকে চট্রগ্রাম শহরের কর্ণফুলি নদী পার হয়ে অন্য পাড়ে যেতে হবে। এখানে রয়েছে লাল কাঁকড়া, ঝাউ বোন সহ অসংখ্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য।

 

কাছের মানুষের সঙ্গ উপভোগ করার জন্য আসলে বেশি কিছু লাগে না, একটি নিরাপদ কোলাহল-মুক্ত পরিবেশ আর প্রিয় মানুষ হলেই সময়টি চমৎকার কেটে যায়। এভাবে চিন্তা করলে খুব বেশি দূরে কোথাও যাবার প্রয়োজন হয় না, আশে পাশেই খুঁজে নেয়া যায় নিজেদের জন্য একটি বিশেষ স্থান। একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, আপনার ও আপনার প্রিয় মানুষটির নিরাপত্তা সবার আগে।

 

বিশেষ স্থানে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পরার চেয়ে সাধারণ একটি নিরাপদ জায়গা অনেক বেশি কাম্য হতে পারে। কোন নিরিবিলি এলাকায় গেলে চেষ্টা করুন সন্ধ্যা হয়ে যাবার আগেই চলে আসতে। আবার খুব ভিড় হবে এরকম কোন এলাকা থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

 

প্রচ্ছদ ছবিঃ ইস্টার্ন হেরিটেজ রিসোর্ট

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৩১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮