|

ভালোবাসা দিবসে যেসব উপহারে প্রিয়জনকে খুশি করবেন

লোক লোকান্তরঃ  উপহার মানুষের মনকে সবসময়ই আনন্দে ভরিয়ে দেয়। কারো মন জয় করার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে উপহারের গুরুত্ব বরাবরই অদ্বিতীয়। তবে যার স্বরণে ভালবাসা দিবস সেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন তার প্রেয়সীকে একটি প্রেমের চিঠি ছাড়া আর কিছু উপহার দিয়েছিলেন কিনা তা আমাদের জানা নেই।

 

কিন্তু আজকাল উপহার ছাড়া ভালবাসা হয়তো অসম্ভব বলেই মনে হবে। যাই হোক দেখতে দেখতে ভালোবাসা দিবস প্রায় চলে এলোই বলে। এই দিনটিকে ঘিরে সকল প্রেমিক-প্রেমিকার থাকে নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা। তারা চায় যেভাবেই হোক প্রিয়জনকে উপহার দিয়ে খুশি করতে।

আর মাত্র একদিন পর ভ্যালেন্টাইনস ডে। এই বিশেষ দিনে সবাই চান প্রিয় মানুষকে খুশি রাখতে। এ জন্য কত আয়োজন।

লাল গোলাপ
লাল গোলাপ চিরকাল ভালোবাসার প্রতীক। প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দিতে পারেন একগুচ্ছ লাল গোলাপ। অভিনব উপহারগুলোর মধ্যে গোলাপ অন্যতম। ভালোবাসা দিবসে একগুচ্ছ গোলাপ হাতে হাটু গেড়ে নতুন করে প্রপোজ করুন প্রিয়জনকে। আর এর মধ্যে থেকে স্মরণীয় করে রাখুন এই ভালোবাসা দিবসটিকে।

 

একটি ছোট্ট চিরকুটঃ
সাধারণত এখন আর কেউ চিঠি লিখে না। ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এখন আমরা ব্যবহার করি মেসেজ, ফোন কল, মেইল ইত্যাদি। তাই আপনি আপনার প্রিয়জনকে যদি সম্পূর্ণ ভিন্নকিছু দিতে চান এই দিনে, তাহলে আপনার আপন হাতের ছোয়ায় লিখে ফেলুন একটা চিঠি। আপনি চাইলে প্রিয়জনকে নিয়ে আপনার নিজের রচিত কবিতার দুই একটা লাইনও লিখে দিতে পারেন এতে। আর এই চিঠিটা ভরে ফেলুন একটা রঙিন খামে। এরপর একটি লাল গোলাপ সমেত চিঠিটা প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দিন।

চকোলেট
আপনার ভালোবাসাকে আরো বেশি মিষ্টি করে তুলতে ভালোবাসা দিবসে উপহার হিসেবে দিতে পারেন তার প্রিয় কোনো চকোলেট। আপনার বুক পকেটে করে নিয়ে যান প্রিয় মানুষটির জন্য কিছু চকোলেট।

 

বই
আপনার প্রিয় মানুষটি কি বই পড়তে পছন্দ করে? বই পড়া যদি তার ভালোলাগা হয়ে থাকে তাহলে আর চিন্তা নয়। ভালোবাসা দিবসে তাকে নিয়ে সোজা বই মেলায় চলে যান। এরপর তার প্রিয় লেখকের প্রিয় কোনো বই কিনে উপহার দিন। এ ছাড়া প্রেমের করিতা, গল্প অথবা উপন্যাসের বইও দিতে পারেন। আপনি চাইলে বইয়ের প্রথম পাতায় কিছু লিখেও দিতে পারেন।

 

ফটোফ্রেম
আপনার আর আপনার প্রিয়জনের ভালোলাগার কিছু সময়ের ছবি ফ্রেম বন্দি করে উপহার হিসেবে দিতে পারেন এই ভালোবাসা দিবসে। আর এই উপহারটির মাধ্যমে আপনি তাকে চমকে দিতে পারেন।

 

গিফট বক্স
ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দিতে পারেন একটি গিফট বক্স। আকর্ষণীয় মোড়কে কয়েকটি ছোট থেকে বড় বক্স সাজিয়ে ফেলুন। প্রথমে একটি বড় বক্স তার, মধ্যে একটি মাঝারি বক্স, তার মধ্যে একটি ছোট বক্স, তার মধ্যে আরো ছোট একটি বক্স এবং সব শেষের বক্সের মধ্যে একটা কাগজে লিখে দিন আপনার ভালোবাসার কথা।

নিজের হাতের তৈরি উপহার
ভালোবাসা দিবসে আপনার প্রিয়জনের জন্য আপনি নিজেই একটু সময় নিয়ে উপহার তৈরি করতে পারেন। বানাতে পারেন কার্ড, ফোটোফ্রেম কিংবা অন্য কোনো কিছু। ভালোবাসা দিবসে আপনার প্রিয়জন আপনার নিজের তৈরি উপহার পেয়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হবে।

ঘুরতে চলে যানঃ
প্রিয়জনের এই বিশেষ দিনটির বিশেষত্ব বাড়াতে দুজনের স্মৃতিবিজড়িত কোথাও ঘুরতে চলে যান, উপহারের সাথে সাথে নিজেদের সম্পর্কটাও আরেকটু মধুর হয়ে উঠবে এতে। দেখতে যেতে পারেন রোমান্টিক কোন মুভি।

 

দুজনের সুন্দর কিছু মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটি সিডি বানিয়ে ফেলুনঃ
উপহার হিসেবে তাকে আপনার আর তার কিছু সুন্দর মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটি সিডি বানিয়ে দিতে পারেন, সাথে যোগ করতে পারেন তার পছন্দের গানের অংশ বিশেষ বা আপনার নিজের বলা কিছু ভালবাসার উক্তি। এর থেকে ভালো আর রোম্যান্টিক কোন উপহার তাকে বেশী খুশী করতে পারবেনা।

 

সম্পূর্ণ দিনটা তাকে উৎসর্গ করুনঃ
হোকনা বয়সটা একটু বেশী কিন্তু একটি দিন ছেলেমানুষি করতে কোন বাধা নেই। আপনার প্রিয়জনের এই দিনটিকে আরো স্মরণীয় করে তুলতে দিনের পুরো সময়টা তাকে দিন। তার ইচ্ছেমত সময়টা কাটিয়ে দিন দেখবেন এতে সে যতোটা খুশী হবে তার তুলনা আর অন্য কিছুতে হবেনা। আমাদের জীবনের এই ছোট ছোট মুহূর্ত গুলো চাইলেই আমরা সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারি। সময় চলে গেলেও এই স্মৃতিগুলো আমাদের আরো অনেক বছর ভালভাবে বাঁচতে প্রেরণা দেবে।

উপহার যাই হোক না কেনো তার উপস্থাপনা করুন আকর্ষণীয় ভাবে। আর এর মধ্যে থেকেই স্মরণীয় করে রাখুন আপনার এই ভালোবাসা দিবসটিকে।

 

ভালোবাসা দিবস যেভাবে এলো

 

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে অনেক ধরনের কাহিনী জানা যায়। প্রধান যে কাহিনীট প্রচলিত আছে, তা হলো – রোমান একজন কৃশ্চিয়ান পাদরি সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এর নাম অনুসারে। তিনি ছিলেন একজন পাদরি এবং একইসাথে একজন চিকিৎসক। কিন্তু সেই সময় রোমানদের দেবদেবীর পূজার বিষয়টি মুখ্য ছিল। তারা কৃশ্চিয়ান ধর্মে বিশ্বাসী ছিল না। কৃশ্চিয়ান ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমের দ্বিতীয় সম্রাট ক্লডিয়াস এর আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছিল।

 

তিনি যখন জেলখানায বন্দী ছিলেন, তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানারা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। বন্দী অবস্থাতেই জেইলারের অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করে দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। মেয়েটির সাথে তার যোগাযোগ ঘটে চিঠিতে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানান তার ভালোবাসার কথা। চিঠির শেষে লেখা ছিল ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন।

 

অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম অনুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে “সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে” হিসেবে ঘোষণা করেন।

 

আরও একজন ভ্যালেন্টাইন এর নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুদ্ধের জন্য ভালো সৈন্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওই রাজ্যের যুবকদের বিয়ে করতে নিষেধ করেন। কিন্তু এই ভ্যালেন্টাইন নিয়ম ভেঙে প্রেম করেন, তারপর বিয়ে করেন। ফলে তার মৃত্যুদন্ড হয়।আদিকালে রোমানরা মনে করত ১৪ ফেব্রুয়ারিকে পাখীরা তাদের জীবন সঙ্গী খুঁজে নিত। তাই, তারা এই দিনটিকে ভালোবাসা দিবসের জন্য উপযুক্ত মনে করত।

 

এই সকল বিভিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখেই বিশ্বজুড়ে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে“ভ্যালেন্টাইন্স ডে” পালিত হয়।

 

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:২২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮