|

জামালপুরে আটকদের কাছ থেকে প্রশ্নফাঁসের ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’

লোক লোকান্তরঃ  জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিন জনকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অবশ্য সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি ‘তদন্তের স্বার্থে’ সাংবাদিকদেরকে জানাতে চাইছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েই তারা চক্রের শেষ মাথা পর্যন্ত পৌঁছার আশা করছন।

 

গত ৭ জানুয়ারি ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলার আগে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশের সময় মুঠোফোনসহ পরীক্ষার্থী ইসতিয়াখ মাহমুদ নিলয়কে আটক করেন শিক্ষকরা। পরে তার ফোন সার্চ করে প্রশ্নপত্র দেখতে পান তারা।

 

পরে শিক্ষকরা বিষয়টি পুলিশকে জানলে তারা এসে নিলয়ের সহযোগী আরও নয় জন শিক্ষার্থীকে আটক করে। আর এই ঘটনায় কেন্দ্রসচিব বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

 

আর দেওয়ানগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ মিয়া জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বিচারক চার আসামি এহসানুল হক শান্ত, মোবারক হোসেন আকন্দ ও ইসতিয়াক মাহমুদ নিলয়কে চার দিনের রিমান্ডে দেয়।

 

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা কার মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের হোতাদের ধরার চেষ্টা চলছে।

 

জানতে চাইলে দেওয়ানগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, ‘আসামিদের একদিনের জিজ্ঞাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

 

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কী-সে বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’

 

জামালপুরে ১০ শিক্ষার্থী আটকের দিন মাদারীপুরেও ধরা পড়েছেন একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র। তিনি ফেসবুক ব্যবহার করে প্রশ্ন দিচ্ছিলেন বিভিন্ন জনকে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যদিও কী তথ্য জানা গেছে, সেটি এষনও প্রকাশ করেনি পুলিশ।

 

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া নানা উদ্যোগ এবারও ব্যর্থ হয়েছে।

 

প্রশ্ন ফাঁসকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে একেবারেই অল্প টাকার বিনিময়ে বা ক্ষেত্র বিশেষে কোনো টাকা ছাড়াই প্রশ্ন দিচ্ছে। ৪ ফেব্রুয়ারি প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদেরকে ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮