|

ঢাকা টেস্টে রাজ্জাকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, নড়বড়ে শ্রীলংকা

লোক লোকান্তরঃ  একেই বলে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। লম্বা বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরেই আলো ছড়াচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক। তার স্পিনে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে নড়বড়ে অবস্থায় শ্রীলংকা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪৩  ওভারে ১৪৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা। এর ৪টিই শিকার করেছেন বাঁহাতি এ অভিজ্ঞ স্পিনার। বাকি ২টি ঝুলিতে ভরেছেন আরেক বাঁহাতি বিশেষজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

 

চার বছর পর হুট করেই চট্টগ্রাম টেস্টের আগে ডাকা হয় আব্দুর রাজ্জাককে। কিন্তু ম্যাচের দিন দেখা গেল একাদশে নেই। তবে তার হাত থেকেই ক্যাপ পরে অভিষেক হয় সানজামুল ইসলামের। তবে একাদশে ঢুকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাঁহাতি এই স্পিনারের। ঢাকা টেস্ট দিয়েই চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে রাজ্জাকের। আর প্রত্যাবর্তনের শুরুটা রাঙিয়েই চলেছেন ৩৫ বছর বয়সী এই স্পিনার।

 

ইনিংসের ষষ্ঠ ও ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই লঙ্কান ওপেনার দ্বিমুথ করুণারত্নেকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান রাজ্জাক। এরপর আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ফিরিয়ে উইকেট শিকারের মিছিলে যোগ দেন তাইজুলও। চার বছর পর ফেরা রাজ্জাক দ্বিতীয় স্পেলে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন।পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন দানুশকা গুনাথিলাকা ও দিনেশ চান্দিমালকে। সুযোগ ছিল হ্যাটট্রিকেরও। তবে রোশেন সিলভা ঠেকিয়ে দেন সে সুযোগ।

 

এখানেই শেষ নয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরও রাজ্জাক জাদু চলছে। মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফিরে দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ভয়ংকর হয়ে উঠা লঙ্কান ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরান রাজ্জাক। পরের ওভারে তাইজুল ফেরান নতুন ক্রিজে আসা নিরোসান ডিকভেলাকে। দুই বাঁহাতি স্পিনারের আক্রমণে বেসামাল লঙ্কান শিবির। শ্রীলঙ্কার ছয় উইকেটের সবকটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন রাজ্জাক-তাইজুল।

 

৪৩ ওভার শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৪৭ রান।

 

আগের টেস্টে টস ভাগ্যকে পাশে পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তবে ঢাকা টেস্টে জিতলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। বেছে নিলেন ব্যাটিং। দুই প্রান্তেই স্পিনার দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ওভার করেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ওভারে চার বছর পর দলে ফেরা রাজ্জাককে আক্রমণে আনেন মাহমুদউল্লাহ।

 

অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে বেশি সময় নেননি রাজ্জাক। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারেই আঘাত হানেন তিনি। ফিরিয়ে দেন তিন রান করা করুনারত্নেকে। রাজ্জাকের বলে ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন করুনারত্নে। তবে করুনারত্নেকে বেরিয়ে আসতে দেখে রাজ্জাক বল করেন তার পায়ের দিকে। বল করুণারত্নের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে যায় উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা লিটন দাসের হাতে। সঙ্গে সঙ্গে স্টাম্প ভেঙে দেন এই উইকেটরক্ষক।

 

রাজ্জাকের চোখে তখন চার বছর পর আবারও জাতীয় দলের হয়ে উইকেট শিকারের উচ্ছ্বাস। রাজ্জাক সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেই ম্যাচে মাত্র ৪ ওভার বল করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল চোট নিয়ে। ছিলেন উইকেটশূন্য। ২০১৩ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম টেস্ট উইকেটের দেখা পেলেন তিনি।

 

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই ওপেনার করুনারত্নেকে হারালেও রানের চাকা ঠিকই সচল রাখে শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিস ও তিন নম্বরে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাটে ইনিংসের ১৩তম ওভারেই পঞ্চাশ পেরোয় লঙ্কানরা। তবে প্রথম ঘণ্টার পানি বিরতির পরই ছন্দপতন ঘটে। আঘাত হানেন বাঁহাতি স্পিনার ফিরেই তাইজুল। তার বলে স্লিপে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়েন ১৯ রান করা ধনঞ্জয়া।

 

এরপর গুনাথিলাকাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মেন্ডিস। এরই মধ্যে এই ওপেনার তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি। তবে এই জুটির সংগ্রহ যখন ৩৫ রান তখন দ্বিতীয় স্পেলে রাজ্জাককে আবারও আক্রমণে ফিরিয়ে আনেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। এবারও অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

 

রাজ্জাকের করা ইনিংসের ২৭তম ওভারের প্রথম বলে মিড অফের উপর দিয়ে খেলার চেষ্টা করেন গুনাথিলাকা। তবে টাইমিং ঠিক না হোয়ায় মুশফিকুর রহিমের হাতে ধরা পড়েন ১৩ রান করা লঙ্কান এই ব্যাটসম্যান। পরের বলে সরাসরি বোল্ড হন লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। ওভারের তৃতীয় বলটি রোশেন সিলভা ঠেকিয়ে দিলে হ্যাটট্রিকে সুযোগ নষ্ট হয় রাজ্জাকের।

 

অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনারের আলো কেড়ে নেওয়ার দিনে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশন নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে ফেরার পরও ঘূর্ণিজাদু দেখিয়ে চলেছেন রাজ্জাক। ইনিংসের ৩২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেন্ডিসকে সরাসরি বোল্ড করেন বাঁহাতি এই স্পিনার। চার বছর পরে রাজ্জাকের টেস্টে ফেরাটা হল দুর্দান্ত। এরই মধ্যে তুলে নিয়েছেন চার উইকেট।

 

পরের ওভারে উইকেট শিকারের মিছিলে যোগ দেন তাইজুলও। ফিরিয়ে দেন ডিকভেলাকে। দারুণ এক ডেলিভারিতে ১ রান করা ডিকভেলাকে বোল্ড করেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

 

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস (উইকেটরক্ষক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ(অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, আবদুর রাজ্জাক, তাইজুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান

 

শ্রীলঙ্কা দল: দ্বিমুথ করুনারত্নে, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দিনেশ চান্দিমাল (অধিনায়ক), নিরোসান ডিকভেলা (উইকেটরক্ষক), রোশেন সিলভা, রঙ্গনা হেরাথ, কুশল মেন্ডিস, থিসারা পেরেরা, সুরঙ্গা লাকমল, আকিলা ধনঞ্জয়া ও দানুশকা গুনাথিলাকা।

 

ছবিঃ সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:১১ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৮