ময়মনসিংহে সরিষার আশানুরূপ ফলন, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠার স্বপ্ন দেখছে কৃষক

শাহ আলম উজ্জ্বল,ময়মনসিংহ:   শীত মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে মাঠের পর মাঠ যেন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ, সরিষা ফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুহুতেই সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। আগাম বপন করায় সরিষা গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে।

 

উর্বর মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত বছরের চেয়ে এ বছর সরিষার আশুনুরূপ ফলন হয়েছে। কোনধরনের প্রাকৃতিক দুযোর্গ না হলে কৃষকরা তাদের পরিশ্রমের সফলতা এবং দু দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠার স্বপ্ন দেখছে।

 

শীতের এই মৌসুমে ময়মনসিংহের মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুহুতেই সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। প্রাকৃতিক স্যেন্দর্য্যরে এ যেন এক লীলা ভুমি । জেলায় দুই দফা বন্যার ফলে কৃষরা ক্ষতিগ্রস্থ, তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় জেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলে সরিষার ফলন গত বছরের চেয়ে বেশী ভাল হয়েছে। বাজার মূল্য ভাল থাকলে সরিষা চাষীরা এবার অধিক লাভের আশা করছেন।

 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ এস.এস ফারহানা হোসেন বলেন উপজেলার চরঞ্চলের কৃষকরা এবছর নতুন জাতের সরিষা আবাদ করায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সরিষার আশানুরূপ ফলন হয়েছে, প্রাকৃতিক দুযোর্গ না হলে দুই দফা বন্যার ক্ষতি কৃষক পুষিয়ে উঠতে পারবে।

 

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল মাজেদ জানিয়েছেন চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় তিন হাজার আটশত হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জেলায় প্রচুর সরিষা উৎপাদন হবে, এ বছর জেলায় লক্ষ মাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে সরিষার আবাদ হয়। প্রাকৃতিক দুযোগ না হলে কৃষক সরিষা ঘরে তুলতে পারলে দুই দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে কৃষক ও কৃষিবিদরা জানিয়েছেন।

 

সঠিক পরিচর্যা প্রয়োজনীয় সার ও সময় মত জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ এবং ভাল বীজ ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে রোপনের ৮০/৯০ দিনের মধ্যে সরিষা ঘরে তোলা যায়। কম সময়ে সরিষা ফলন পাওয়া যায় বলে আমন ও বোরো ফসলের মাঝামাঝি সময়ে সরিষা চাষ করে কৃষকরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে পারে, অপর দিকে জমিতে সরিষা চাষ করলে জমি উর্বর থাকে বলে কৃষিবিদরা জানিয়েছেন।

 

ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনে দেশে সরিষার আবাদ বাড়ানো প্রয়োজন, কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতাসহ উৎপাদিত সরিষার ন্যায্য দাম পাবেন এমন প্রত্যাশা ময়মনসিংহের ১৩ উপজেলার সরিষা চাষীদের।

 

ছবিঃ লোক লোকান্তর