|

গর্ভবতীকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বামী, রাস্তায় সন্তান প্রসব

লোক লোকান্তর:নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় গর্ভবতী স্ত্রীকে রাস্তায় ফেলে চলে গেল তার স্বামী।

 

রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করে যখন তিনি মৃত্যুর মুখে, তখন খবর পেয়ে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া।

 

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবনের পেছন থেকে রাস্তায় সন্তান প্রসব করা হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করার বিষয়টি ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া তা নিশ্চিত করেন।

 

হালিমা বেগমের সন্তান রাস্তায় প্রসব হলেও তিনি তার সন্তান খুঁজে না পেয়ে কান্নাকাটি করলেও সন্তানকে কাছে পাননি। তবে যেখান থেকে হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তার একশ গজ দূর হতে পুলিশ এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। নবজাতকের লাশটি হালিমা বেগমের কিনা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

 

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গনলবন্দ এলাকার হালিমা বেগম। তাকে বরিশালের আল আমিন বিয়ে করে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

 

হালিমা যখন গর্ভবতী হন, তখন তার স্বামী আলামিন তাকে সন্তান নষ্ট করতে বলেন। এতে হালিমা অনীহা প্রকাশ করলে তার উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে হালিমাকে ইনজেকশন দিয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করারও চেষ্টা করেন স্বামী। তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করলে হালিমা অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে হালিমাকে তার স্বামী তাকে তুলে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবনের পেছনে ফেলে চলে যান। ওই সময় সম্ভবত রাস্তায় হালিমা সন্তান প্রসব হয়ে শিশুটি মারা যায়। আর হালিমা রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে থাকে ও নিজেকে বাঁচাতে হাসপাতালের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অসুস্থ হালিমা মাটিতে লুটে পড়ে যান।

 

ওই সময় হালিমাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে। এসময় নজরুল ছুটে যায় ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়ার কাছে। তখন সকলের সহযোগিতায় নজরুল হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

পরে হালিমার চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে তুলতে সকল দায়িত্ব নেন ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া। তিনি চিকিৎসার সকল খরচ বহন করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডা. শান্তা জানান, হালিমা বেগমের ৮ মাসে সন্তান প্রসব হয়। তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে তাকে অপারেশন করে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হালিমা বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া বলেন, হালিমা বেগমের স্বামী তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। আর রাস্তায় হালিমা বেগমের সন্তান প্রসব হয়। তার সন্তান রাস্তায় মারা গেলে সন্তান ফেলে সে নিজেকে বাঁচাতে ছটফট করতে থাকে।

 

তখন তাকে দেখে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল সকলের সহযোগিতা নিয়ে হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তখন আমার টাকা খরচ করে হালিমাকে চিকিৎসা শুরু করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

আড়াইহাজার থানা পুলিশের এসআই মজিবুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটু দূর হতে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নবজাতকের পরিচয় পাওয়া না গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বলছে- নবজাতকের লাশটি হালিমা নামে মহিলার। তবে ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:২৮ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭