|

ময়মনসিংহে দুপুরে বাল্য বিয়ে বন্ধ করে পুলিশ, সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য এর সহায়তায় গোপনে বিয়ে

আজহারুল হক, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। উপ পরিদর্শক মো. নূরুল হুদা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে কনের জন্মনিবন্ধনে দেখতে পান কনের বয়স ১৪ এবং বরের ১৮।

 

এই অবস্থার বিয়ে না দিতে পরিবারের লোকজনকে নির্দেশ দেন। পরে কনের বাবার কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিয়ে চলে আসেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ঘটনাটি ঘটে রোববার আচারগাঁও গ্রামে।

 

পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহরাব উদ্দিনের সহায়তায় বাল্য বিয়েটি সম্পন্ন হয় বলে জানতে পেরে নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজী নুরুল ইসলাম ও কনের মা সাহারা খাতুনকে আটক করে থানায় আনলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাল্যবিবাহের শিকার ছাত্রীটি উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের উদং মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বরের বাড়ি পাশের সিংরইল ইউনিয়নের সিংরইল গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে অটো চালক হৃদয় মিয়া (১৮)।

 

ইউএনও হাফিজুর রহমান বলেন, প্রশাসনের সাথে ছলনা করার অভিযোগে কনের মা সাহারা খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করার অভিযোগে নিকাহ নিবন্ধক (কাজি) মো. নুরুল ইসলামকেও আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

এছাড়াও ইউএনও জানান, পুলিশ পাঠিয়ে নিষেধ করার পরও বাল্যবিয়ে দিয়েছেন পরিবারটি। আর এতে সহায়তা করেছেন ইউপি সদস্য সোহরাব উদ্দিন।

 

এই অবস্থায় আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একেএম মোফাজ্জল হোসেনকে বলা হয়েছে বাল্যবিবাহ আয়োজনে সহয়তাকারী ইউপি সদস্যকে সোমবার তাঁর (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির করার জন্যে। অন্যথায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৪, ২০১৭