|

ভারতে বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

লোক লোকান্তরঃ  যত দিন জাচ্ছে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা ক্রমে বেড়ে চলেছে। এ বছর ভারত ভ্রমণ করা বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের সংখ্যাই ছিলো সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের জুন মাসে ভারতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে ২২.৫ ভাগ।

 

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৭ সালের জুনে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৭০ হাজার। গত বছর যা ছিল ৫ লাখ ৪৭ হাজার। ২০১৫ মাসে এটি ছিল ৫ লাখ ১২ হাজার।

 

ভারতে পর্যটকদের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশ (২৯.২৩ শতাংশ)। এর ঠিক পরেই আছে যুক্তরাষ্ট্র (১৯.৭০ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (৬.১৪ শতাংশ), মালয়েশিয়া (৩.৮২ শতাংশ), অষ্ট্রেলিয়া (২.৫৬ শতাংশ) এবং চীন (২.৫২ শতাংশ)।

 

উন্নত মেডিকেল সেবা, ভিসা প্রোসেসিং সহজতর করা, যাতায়াত ব্যবস্থা প্রসার করার কারনেই মুলত ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।

 

ভারত এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় একটি দেশ। আছে বিশাল মরুভূমি, রয়েছে বরফের দেশ কাশ্মীর-দার্জিলিং, রয়েছে বিশাল বন, রয়েছে উজাড় করা মাঠ।

 

ভারত দেশ হিসেবে সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম ও ভূসংস্থানের বৈচির্ত্র্যের কারনে অনন্য এক পর্যটন স্থান দখল করে রয়েছে।  ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সম্পদগুলির মধ্যে ভারতে রয়েছে আগ্রা ফোর্ট, অজন্তা গুহা, সাঁচির বৌদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, গোয়ার গির্জা ও মঠ, এলিফ্যান্টা গুহা, ইলোরা গুহা, ফতেহপুর সিকরি, গ্রেট লিভিং চোলা মন্দির, হুমায়ুনের সমাধি, খাজুরাহোর মনুম্যান্টের সমষ্টি, বোধ গয়ার মহাবোধি মন্দির ভবন, কুতুব মিনার ও তার মনুম্যান্ট, লাল কেল্লা ভবন, ভীমবেতকার রক সেল্টার, সূর্য মন্দির, কোণার্ক, তাজ মহল এবং জন্তর মন্তর। লাদাখ, উটি, দার্জিলিং, মানালি ও নৈনিতাল হল দৃষ্টিনন্দন চমৎকার পর্যটন এলাকা।

 

তাজমহল

পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যগুলোর মাঝে তাজমহল অন্যতম। এটি একাধারে স্ত্রীর প্রতি সম্রাট শাহজাহানের ভালোবাসা এবং মুঘল স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন। তাজমহল মূলত একটি সমাধি প্রাসাদ। সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ বেগমের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তাজমহল তৈরির কাজ শুরু করেন। ১৬৪৮ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।

 

কোনারকের সূর্যমন্দির

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরীর উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত কোনারকের সূর্যমন্দির খুবই বিখ্যাত। মূলত সূর্যদেবতার উদ্দেশ্যে প্রণতি জানাতেই এই মন্দির নির্মাণ করা হয়। এটি প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের ঐশ্বর্য এবং রুচিশীলতার এক উজ্জ্বল সাক্ষী। মন্দিরটি প্রায় ২২৮ ফুট উঁচু। ওড়িশার রাজা নরসিংহ দেব ১২৪৩ থেকে ১২৫৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই মন্দির নির্মাণ করেন। প্রায় ১,২০০ শ্রমিক টানা ১২ বছরের পরিশ্রমে এই মন্দির গড়ে তোলে। মন্দিরটিকে সূর্য দেবতার রথ ভাবা হত এবং সেই আদলেই এটি তৈরি।

 

টিপু সুলতানের প্রাসাদ

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন মাইসোরের সম্রাট টিপু সুলতান। মাইসোর বর্তমান কর্ণাটক রাজ্যে অবস্থিত। ব্যাঙ্গলোর শহরে রয়েছে টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ। এটি ফরাসি স্থাপত্য রীতিতে তৈরি একটি কাঠের দোতলা প্রাসাদ। বর্তমানে এটির সাথে একটি ছোট্ট জাদুঘর রয়েছে যাতে সংরক্ষিত আছে সুলতানের ব্যবহৃত তরোয়াল, টাইগার অর্গান সহ বেশকিছু নিদর্শন।

 

খাজুরাহোর ভালোবাসার মন্দির

মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত চত্তরপুর জেলার খাজুরাহো গ্রামটি মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতকে খাজুরাহো গ্রামে বহু সংখ্যক মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরগুলো ইন্দো-আর্য স্থাপত্য রীতির। প্রতিটি মন্দিরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একজন করে পূজ্য দেবতার প্রতিমূর্তি। বেশিরভাগ মন্দিরই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শত্রুর আক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে সর্বসাকুল্যে প্রায় ২০টি মন্দির টিকে আছে।

 

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

কলকাতা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারতের রাজধানী ছিল। সেইসময় প্রয়াত রাণী ভিক্টোরিয়ার সম্মানে কলকাতায় এটি নির্মাণ করা হয়। মহিমার দিক দিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল তাজমহলের পরেই গণ্য হয়।

 

স্বর্ণ মন্দির

স্বর্ণ মন্দির হল একটি প্রার্থনা স্থান। এটি শিখদের পঞ্চম গুরু, গুরু অর্জন দেব দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আফগান আক্রমণের পর মন্দিরের কিছু অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় যা পরে পুর্নস্থাপিত কর হয়েছে। ঊনবিংশ শতকের দিকে, মহারাজা রঞ্জিত সিং স্বর্ণের দ্বারা মন্দিরটিকে সজ্জিত এবং আবৃত করেছিলেন, এর পর থেকেই মন্দিরটিকে ‘স্বর্ণ মন্দির’ নামে ডাকা হয়।

স্বর্ণ মন্দিরটি প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ মানুষ দ্বারা পরিদর্শিত হয়। এর চূড়াটি সোনা দ্বারা নির্মিত।

 

দার্জিলিং

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, দার্জিলিং শহর অবস্থিত। ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা ও হিমালয় রেলওয়ের জন্য দার্জিলিং বিখ্যাত।
দার্জিলিং -এ বেশ কিছু আকর্ষণ রয়েছে যেগুলি পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হল,  দ্য দার্জিলিং টয় ট্রেন, টাইগার হিল, দার্জিলিং রোপওয়ে, ফালুট ভ্রমণ, প্যারাগ্ল্যাইডিং।

 

জিরো ভ্যালি

অসাধারণ সবুজে ঢাকা পাহাড় এবং উপত্যকার প্রদেশের জিরো ভ্যালি।

 

ছবিঃ সংগৃহীত

সর্বশেষ আপডেটঃ ২:২৪ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০১৭