|

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ভূয়া সনদে একাধিক অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ দুদকে

এইচ.এম জোাবয়ের হোসাইন, ত্রিশাল: ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূয়া সনদের মাধ্যমে একাধিক অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এ বিষয়ে হাইকোটে রিট ও দুর্নীতি দমন কশিন (দুদক) বরাবরে অভিযোগ করেছেন প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পৃথক দুটি পদে আবেদনকারী এক ভুক্তভোগি।

 

দুর্নীতি দমন কমিশনে দেয়া অভিযোগে জানা যায়, ২০০৯ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগ চালু হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুইজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

 

শর্ত অনুযায়ী সহকারি অধ্যাপক পদের জন্য বাধ্যতামূলক তিন বৎসর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসহ বিএফ স্নাতকসহ স্নাতকতোর ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়।

 

প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পৃথক দুটি পদে আবেদনকারী ভুক্তভোগি প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক বিজ্ঞাপনের সকল শর্ত পূরণ করে বাছাই বোর্ডে অংশ গ্রহন করলেও বিজ্ঞপ্তির অন্যতম শর্ত তিন বৎসর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জাল সনদে সাফিন ওমরকে মনোনিত করে নিয়োগ বোর্ড।

 

এ ঘটনায় জাল সনদের অভিযোগ তুলে হাইকোটে রিট করেন হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক। অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে স্বেচ্ছায় চাকুরি থেকে অবসরে যান সাফিন ওমর।

 

সাফিন উমরের অভিজ্ঞতা সার্টিফিকেটের জালিয়াতি প্রমান পাওয়ায় তিনি সেচ্ছায় স্বীকারোক্তী দিয়ে চাকুরী থেকে অব্যাহতি নেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক প্রার্থী থাকা সত্বেও পূর্বের ন্যায় তিন বৎসরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দুলাল চন্দ্র গাইনকে নিয়োগ দেয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বিপুল পরিমান অর্থ আতœসাৎ করেন।

 

পরে হাইকোটের রিট পিটিশন মামলায় চারুকলা বিভাগের চাকুরি থেকে তিনিও পদত্যাগ করেন। চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএ স্নাতকসহ স্নাতকতোর ডিগ্রিধারীদের আবেদন করতে বলা হলেও ছাপচিত্র বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান বিএফএ পাস ডিগ্রি পাসের শিক্ষার্থী নগরবাসী বর্মন।

 

যার ইন্টারভিউ কার্ড পাওয়ারই কথা নয়। অথচ অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া নগরবাসী বর্মন বর্তমানে চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তৎকালীন সময়ে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বাছাই কমিটির ওই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন, তৎকালীন উপাচার্য ড. সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, ট্রেজারার ড. মো. আইনুল ইসলাম, চারুকলা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম শামছুদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংকন ও চিত্রায়ন বিভাগের অধ্যাপক, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রফিকুন নবী এবং অধ্যাপক নিসার হোসেন।

 

নিয়োগ পত্রে কপিতে দেখা যায় নিয়োগ বোর্ড কম্পিউটার কম্পোজের মাধ্যমে শুধুমাত্র সাফিন উমরকে নিয়োগ প্রদান করলেও একই কাগজে হাতে লেখা ঘষামাজা দিয়ে দুলাল চন্দ্র গাইনের নিয়োগ দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানাযায়, পুরো নিয়োগটি হাতে লেখা কাগজে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

 

অভিযোগকারী হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা তাদের পদে থাকার কোন এখতিয়ার নেই। দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের যে টাকা আত্বসাৎ করছে তা ফেরত দিতে হবে।

 

চারকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নগরবাসী বর্মণ বলেন, আমার যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করেছি। কর্তৃপক্ষ সকল বিষয় বিবেচনা করেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:০৭ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৪, ২০১৭