|

সংগঠন থেকে বহিষ্কার

ছয় নারীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা

লোক লোকান্তরঃ  গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে প্রথমে গৃহবধূর ভিডিও ধারণ করেন ছাত্রলীগ নেতা। পরে সেই ভিডিও ভয় দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেন। এমনকি সেই ধর্ষণের ভিডিও গোপনে ধারন করেন এই নেতা। এভাবে ফাঁদে ফেলে ছয়জন নারীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে।

 

আরিফ হোসেন হাওলাদার শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

 

গত ১৫ই অক্টোবর থেকে ওই নারীদের সঙ্গে আরিফের ধর্ষণের ভিডিও গ্রামের মানুষের মুঠোফোনে ছড়িয়ে পরে। ১৭ই অক্টোবর থেকে ওই ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়াতে থাকে। যে ভিডিও ধারণ করেছে তাদের মধ্যে দু’জন স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী, দু’জন গৃহবধূ। আর দু’জনের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

 

ভুক্তভোগী ওই নারীরা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি নিয়ে কোনো মামলা করেননি। এদের মধ্যে একজন গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকেন। ওই নারীর শ্বশুর-শাশুড়ী তাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। আরেক গৃহবধূ গ্রাম থেকে চলে গেছেন।

 

ভুক্তভোগী নারীরা জানান, ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে আরিফ অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। তবে লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে মুখ খুলছেন না। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। আবার এক নারীকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।

 

ভুক্তভোগী এক কলেজছাত্রী বলেন, আরিফ আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে। লজ্জায় এখন আমি কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন জানায়, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। এর আগে চাচাতো বোনের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে তার মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়।

 

এরপর তার ফেসবুকে ফোন করে এক নারী ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। তখন সে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে।

 

আরিফ বলে, কে বা কারা আমাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য এসব ভিডিও প্রকাশ করেছে। এ ভিডিও ছড়ানোর বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

 

ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াসিম তালুকদার বলেন, নারীদের সঙ্গে নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন হাওলাদারের অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘ঘটনা শুনে আমরা এলাকায় যাই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলি। আরিফের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আরিফ হোসেন হাওলাদারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

সুত্র জানায়, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পদ থেকে বহিষ্কারের পর আরিফ হোসেন এলাকা থেকে পালিয়ে যান। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বাড়ি গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, তাও পরিবারের সদস্যরা বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

 

নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এ কাজ করতে পারে না। তবে ঘটনাটি সত্য, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের অভিভাবকরা বলেছেন ওর বিচার আল্লাহ করবেন, মানসম্মানের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারি না। এ ঘটনাটি এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ঘৃণার সৃষ্টি করেছে। আমি আরিফের বাবাকে নির্দেশ দিয়েছি তাকে হাজির করার জন্য। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানো হয়েছে। তাকে পাওয়া গেলে সামাজিকভাবে বিচার করা হবে।

 

ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, আরিফ হোসেন হওলাদারের সঙ্গে নারীদের অশ্লীল ভিডিও বিভিন্ন মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়েছে- এমন খবর পেয়ে আরিফদের বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি।

 

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভেদরগঞ্জের ছাত্রলীগের নেতা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা বড় ধরনের একটি সাইবার ক্রাইম। ভেদেরগঞ্জ থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। যে কোনো উপায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

ছবিঃ ছয় নারীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন হাওলাদার।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১১, ২০১৭