|

ময়মনসিংহের রামকৃষ্ণ মিশন ভবনসহ ১৫টি প্রকল্প হচ্ছে ভারতীয় অর্থায়নের

লোক লোকান্তরঃ  চতুর্থ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত রোবার দুপুরে ঢাকায় এসেছিলেন এবং সোমবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স ও দেশটির সরকারের অর্থায়নে ১৫ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

 

এদিকে সুষমা স্বরাজ ভারতীয় অর্থায়নের যে ১৫টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন তার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্য-প্রযুক্তি, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।

 

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহের রামকৃষ্ণ মিশন ভবনসহ পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১৫০ গভীর নলকূপ স্থাপন, সাভারে পাঁচতলা বৃদ্ধাশ্রম, আর কে মিশনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিবেকানন্দ ভবন, ইস্কন সিলেটে পাঁচতলা ভবন, ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক, চাঁদপুরের ফারাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে মহাত্মা গান্ধী ভবন ছাড়াও কয়েকটি স্কুলে কম্পিউটার ও খেলারসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম।

 

৭২ কোটি টাকা ব্যয়ের এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাছাই করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে।

 

এসময় সুষমা স্বরাজ বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশীদের বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয় উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, প্রতিবেশীরা আগে।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ এম মাহমুদ আলীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গে সুষমা বলেন, এরই মধ্যে আমরা দাদা-দিদি সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলেছি। চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধনের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তরুণদের ওপর বেশি করে বিনিয়োগ করতে হবে। এতে আমাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে। তিনি বলেন, নতুন চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স উদ্বোধন করতে পেরে আমি খুশি। এর ফলে এ বছর প্রায় ১৪ লাখ বাংলাদেশি নাগরিককে ভিসা দেওয়া যাবে বলে আশা করছি।

 

বারিধারা পার্ক রোডে প্রায় পাঁচ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স। গত বছরের অক্টোবর থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে চ্যান্সেরি ব্লকে কাজ শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সোমবার এর উদ্বোধন করলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

এর আগে রোবার বিকেলে সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

 

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পর্কে এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, ২০১৫ সালে ঢাকা সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার চলতি মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রোববারের বৈঠকে সুষমা স্বরাজকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সুষমা স্বরাজ বলেন, রাখাইন সংকটে উদ্বিগ্ন ভারত মনে করে, প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের অবশ্যই মিয়ানমারকে ফেরত নিতে হবে; তবে একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের অবসান, স্থিতিশীলতা এবং কাঙ্ক্ষিত আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ সংকট সমাধানে ভারত কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন চায় বলেও তিনি জানান।

 

এসময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধানে ভারত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠক শেষে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

 

ছবিঃ  রাষ্ট্রীয় সফরে গত রোববার দুপুরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।
ছবি : ভারতীয় হাইকমিশন

সর্বশেষ আপডেটঃ ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৮, ২০১৭