|

কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের পদত্যাগ ও শিক্ষকের শোকজ প্রত্যাহারে দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস, ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম আন্দোলনকারীদের

এইচ.এম জোবায়ের হোসাইন, ত্রিশাল : ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার এ এম এম শামসুর রহমানের পদত্যাগ, নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমীনের শোকজ প্রত্যাহার, অতিদ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

 

একই সাথে দাবীগুলো বাস্তবায়নের জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তাঁরা।রোববার বেলা ১২টায় থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ থেকেও একই দাবীতে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে একাত্বতা ঘোষণা করে অংশগ্রহণ করেন।

 

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ রফিকুল আমিন, সদস্য মুঞ্জুর এলাহী, সহকারী অধ্যাপক রেজওয়ান আহমেদ শুভ্র, নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিন, সঞ্জয় কুমার মুখার্জী, তহিনুর রহমান, সুশান্ত কুমার সরকার, দেবাশীষ বেপারী, মোঃ ফকর উদ্দিন, মেহেদী উল্লা, রাকিব হাসান, আলফারুন নাহার রুনা, ওয়ালিউল্লাহ, আহসান কবীর, রকিবুল হাসান, রকিব খান মেহেদী তানজির প্রমুখ।

 

মানববন্ধনে আন্দোলনের মুখপাত্র সহকারী অধ্যাপক রেজওয়ান আহমেদ শুভ্র দুপুর ১টায় মানববন্ধন শেষে আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যে দাবী আদায়ের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে দাবী আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি নিজেকে রাষ্ট্রপতির ‘ভাগিনা’ পরিচয় দিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এবং তার আত্মস্বীকৃত দূর্নীতির খবর মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন মহলে থেকে তার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

 

সহকারী অধ্যাপক রেজওয়ান আহমেদ শুভ্র বলেন, মিডিয়াতে নিজের মুখে নিজের দুর্নীতির এমন স্বীকারোক্তির পরও ঐ পদে এমন অযোগ্য প্রশাসক পুরো জাতির জন্য ঘৃনিত। তিনি বলেন, পুরো জাককানইবি ক্যাম্পাস আজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।

 

লোক প্রসশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার মুখার্জী বলেন, জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব দুর্নীতি অনিয়ম আমাদের জাতীয় কবির সম্মানকে পদদলিত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের সম্মান হানি করছে, তাই অতিদ্রুত ট্রেজারারের পদত্যাগ দাবি করছি তা না হলে জাতির বিবেক শিক্ষার্থীরা আরো বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দেবে।

 

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, এখানে আমাদের কিছু করার নাই, যেহেতু মিডিয়াতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছে, শুনেছি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলনেও নেমেছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাই বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করবে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:১০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ১৫, ২০১৭