|

‘ব্লু হোয়েল’ আসক্ত চবি শিক্ষার্থী পুলিশ হেফাজতে

লোক লোকান্তরঃ  ‘ব্লু হোয়েল’-এ আসক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

 

বুধবার তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।  ‘ব্লু হোয়েল’-এ আসক্ত ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র বলে জানা গেছে। তবে এই বিষয়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।

 

ফার্মগেটে এক মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর ‘ব্লু হোয়েল গেম’ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

গত সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশে কেউ আত্মহত্যা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

 

ব্লু হোয়েল গেম কী?

এটি অনলাইনভিত্তিক একটি গেম। অনলাইনে একটি কমিউনিটি তৈরি করে চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে। আর ধাপগুলো খেলার জন্য ওই কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দেবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে। শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া হয়। যেমন- মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা ইত্যাদি।

 

তবে ধাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাৎ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে আত্মহত্যা করতে হবে। তবে এই গেমের শেষ ধাপে যাওয়ার আগেই খেলোয়াড়ের মৃত্যু হতে পারে। যেমন- ছাদের কিনারায় হাঁটা বা রেললাইনে হাঁটার মতো যেসব কাজ করতে বলা হয়, ওইসব কাজ করার সময় মৃত্যু হতে পারে।

 

গেমটির বেশিরভাগ ধাপই এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, ওইসব ধাপ অতিক্রম করতে করতেই খেলোয়াড়ের মৃত্যু হতে পারে। ব্লু হোয়েলের কবলে পড়ে ৫০তম ধাপে গিয়ে যারা আত্মহত্যা করছে কেবল তাদের খবরই প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু এর আগে যারা মারা যাচ্ছে তারা ব্লু হোয়েলের ফাঁদে পড়ে মারা যাচ্ছে কিনা- তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

কীভাবে এলো এই গেম?
২০১৩ সালে রাশিয়ায় এই গেম তৈরি হয়। রাশিয়ায় শুরু হলেও এই গেমের শিকার এখন এশিয়ার অনেক দেশ। সাধারণভাবে গোপন গ্রুপের মধ্যে অপারেট করা হয় এ গেম। এক্ষেত্রে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মতো জনপ্রিয় স্যোশাল প্লাটফর্মকে কাজে লাগায় এডমিনরা।

 

২০১৬ সালে রাশিয়ায় ব্লু হোয়েল গেমের কিউরেটর সন্দেহে ফিলিপ বুদেকিন নামের ২২ বছরের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জেরায় ফিলিপ স্বীকার করে, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এই সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে আমি সমাজ সংস্কারকের কাজ করছি।

 

তরুণ-তরুণীরা কেন আকৃষ্ট হচ্ছে?
ব্লু হোয়েলে সাধারণত অবসাদগ্রস্ত তরুণ-তরুণীরা আসক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গভীর রাতে বা একাকী দীর্ঘ সময় যারা ইন্টারনেটে সামাজিকমাধ্যম জগতে বিচরণ করে তারা এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার যে আগ্রহ সেটাকে কাজে লাগিয়ে ফাঁদে ফেলে এর কিউরেটররা।

 

অংশগ্রহণকারীদের প্রথমে সাহসের প্রমাণ দিতে বলা হয়। এজন্য তাদের ছোট ছোট কিছু সাহসী কাজ দিয়ে এগিয়ে নেয়া হয়। একবার এতে জড়িয়ে পড়লে আর সহসা বের হওয়ার সুযোগ থাকে না।

 

সহজ ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সাহস আছে কি না- এমন কথায় সাহস দেখাতে গিয়ে দিনকে দিন যুবক-যুবতীরা আকৃষ্ট হচ্ছে এই গেমে। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব।

 

 

সুত্রঃ যুগান্তর

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১২, ২০১৭