|

জাম্বুঘাস আবাদের দিকে ঝুঁকছে ভাঙ্গুড়ার কৃষকেরা

লোক লোকান্তর : দুগ্ধ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার ভাঙ্গুড়ার কৃষকেরা জাম্বুঘাস আবাদের দিকে ঝুঁকছে। ধানের খরসহ গো-খাদ্যের মূল্য  বৃদ্ধির ফলে  এলাকার কৃষকদের মাঝে  সবুজ এ ঘাসের আবাদ দিন,দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

 

এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ৬ শ’ হেক্টর জমিতে  বিভিন্নজাতের এ ঘাসের আবাদ করা হয় বলে  উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ   অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। আর চলতি বন্যায় ১ শ’ ২০ হেক্টর জমির জাম্বুঘাসের ক্ষতি হয়।

 

জানা যায়, জাম্বুঘাস গো-খাদ্য হিসেবে অতিউত্তম। এই ঘাস চাষ যেমন সহজ তেমনি এর উৎপাদন ব্যয়ও কম। এ ঘাস ছোট-ছোট করে কেটে গরুকে খাওয়াতে হয়। এই ঘাস গাভীর দুধ বৃদ্ধি করে, ফ্যাট বেশি হয়। চলবিলাঞ্চলের এই উপজেলায় বন্যা পরবর্তী মৌসুমে একবার জমিতে খেসারি বুনার পর সবুজ জাম্বুঘাস উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

 

এই ঘাস চাষের সুবিধা হলো সারা বছরই এটি আবাদ করা যায়। নিম্নাঞ্চলে বন্যার সময় কৃষকরা গবাদি পশুকে  ধানের খর এবং অন্য সময় সবুজ ঘাস হিসাবে জাম্বুঘাস  খাইয়ে থাকে। একবার বুনে জমিতে বন্যার পানি আসা পর্যন্ত ৩/৪ বার এই ঘাস কাঁটা যায়।

 

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুস্থির চন্দ্র সরকার বার্তা সংস্থা এফএনএসকে জানান, জাম্বুঘাস চাষের সময় বিঘা প্রতি ৫ কেজি বীজ, গোবর সার  ২ হাজার কেজি, ডি,এ,পি ১৫ কেজি, ইউরিয়া ৫ কেজি প্রয়োগ করা হয়।

 

প্রতি মাসে ঘাস কাটার পর ৫ কেজি ইউরিয়া সার ছিটিয়ে সেচ দিলে আবার ভালো ফলন পাওয়া যায়। এভাবে প্রতিবার ১ বিঘা জমি থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার কাঁচা ঘাস উৎপন্ন করা সম্ভব। এ ছাড়া এ ঘাসের ডাইজেষ্টটিবিলিটি ৫৬ থেকে ৬২% এবং ৯ থেকে ১৮% প্রোটিন সমৃদ্ধ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭