|

ময়মনসিংহে জঙ্গলের অন্ধকার কুটির যেই শতবর্ষী নারীর ঠিকানা

ফাহিম মোঃ শাকিলঃ  চারিদিকে জঙ্গল আর ঘুটঘুটে অন্ধকার। জনমানব শূন্য। ভাঙ্গা বেড়া, ভাঙ্গা ঘর। ঘরে নেই কোন আলো। মশাগুলো ভুঁ ভুঁ করে উড়ে বেড়াচ্ছে। পোকামাকড় আর বন্য প্রাণীরা যার নিত্যসঙ্গী তিনি এক শতবর্ষী বৃদ্ধা নারী সমলা খাতুন। তার স্বামী মৃত দুবরাজ হাজী।

 

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের নড়াই ইউনিয়নের বাঘমা গ্রামে এই বৃদ্ধা নারীর সন্ধান মিলে।

 

প্রতিবেশী ও স্থানীয় সাংবাদিককের কাছ থেকে জানা যায়, ভাঙ্গা কুটিরের পাশেই বৃষ্টির জমাকৃত পানি পান করার জন্যে ছটফট করতে হয় তাকে। আকলিমা আর হালিমা নামে দুইটি মেয়ে আছে তার। কোন পুত্র সন্তান জীবিত নেই।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর এই পরিনতি হয়েছে বৃদ্ধা নারীর। দুই মেয়ে ও মেয়ের জামাতা সব সম্পত্তি ছিনিয়ে নেই কৌশলে। এখন দেখাশোনা করেননা তারা।

 

শতবর্ষী বৃদ্ধা সমলা খাতুন আমতা আমতা করে বলেন, এই ঘরে আমি একাই থাকি। বয়স্ক ভাতার টাকাটাও মেয়ে উত্তোলন করে।

 

তার মেয়ে আকলিমার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার মা ঐ ঘরেই থাকতে পছন্দ করে। তাছাড়া ওর চিল্লাচিল্লিতে রাতে বাড়িতে কেউ ঘুমাতে পারেনা। তাই তাকে আলাদা রাখা হয়েছে।

 

স্থানীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আকলিমা তার মায়ের খোজখবর ঠিকমতো নেননা এমন কথা অস্বীকার করে বলেন প্রতিদিন সকালে মায়ের কাপড় চোপড় পরিবর্তন করে দেন।

এঘটনা ছরিয়ে পরলে ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) জাতীয় সংসদ মি.জুয়েল আরেং ঐ বৃদ্ধার বাড়িতে শুকনো খাবারসহ অন্যান্য কিছু উপকরন পাঠান।

 

এসময় উপস্থিত যুবলীগ নেতা মাসুদ করিম বলেন, ‘স্থানীয় সাংসদ মি. জুয়েল আরেং ঢাকায় অবস্থানের কারনে তিনি বিষয়টি আমাদের অবহিত করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে মহিলার মানবেতর জীবনযাপন চিত্র দেখে আমরাও বিস্মিত হয়েছি। আমরা এমপি সাহেবকে বিষয়টি অবগত করেছি। উনি প্রাথমিক ভাবে সকল দায়-দায়িত্ব নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা বৃদ্ধা সমলাকে উনার মেয়ে আকলিমার হেফাজতে রেখে এসেছি।’

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাসুদ করিম, টিটু, মাহবুবুল আলম রোমান, সনি, পাপুল, সুলতান, পাপ্পু ও ছাত্রলীগ নেতা প্রভাকর সরকারসহ প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:১৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭