|

উন্নয়নের ছোঁয়ায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ॥ নেপথ্য উপাচার্য মোহীত উল আলম

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতাঃ   ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঐতিহ্যবাহী নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত স্থানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ত্রিশাল বঙ্গবন্ধুর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু হলেও ছিলনা তেমন গতিশীলতা। ২০১৩ সালে কবি নজরুলের একনিষ্ঠ অনুসারী চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ অঞ্চলের আলম পরিবারের সন্তান কবি-সাহিত্যিক, কলামিস্ট প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম কে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, একাডেমিক এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসে। ত্রিশালবাসী মনে করেন বর্তমান উপাচার্য গত চার বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছেন তা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রোল মডেল হতে পারে।

 

প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন দিকে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। তাঁর মধ্যে অন্যতম হলো দুই উইং বিশিষ্ট ২টি দশতলা একাডেমিক ভবন, ছাত্রদের আবাসিক সুবিধার জন্য দশ তলা ভবন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং ছাত্রীদের জন্য বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নিছা হল নির্মাণাধীন, শিক্ষক, কর্মকর্তা আবাসনের জন্য ডরমেটরি নির্মাণ করা হয়েছে, আধুনিক মানের একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী নির্মাণ করা হয়েছে এবং ই-লাইব্রেরী প্রক্রিয়াধীন, উপাচার্যের জন্য দুখুমিয়া বাংলো নামে বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে, ছাত্র/ছাত্রীদের যাতায়ত সুবিধার জন্য পরিবহনের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে, লিয়াঁজো অফিসের জন্য ঢাকায় ফ্লাট ক্রয় করা হয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’ এবং নজরুল জীবন ও কর্ম বিষয়ক গবেষণর জন্য পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে অবস্থিত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একটি দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। চারুদ্বীপ নামক স্থানে চারুকলা বিভাগের জন্য একটি আউটডোর, খেলাধুলার জন্য শেখ রাসেল নামে পাঁচ একর জায়গায় একটি বিশাল খেলার মাঠ তৈরি করছেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবির ভাষ্কর্য স্থাপনের কাজ চলছে,  সম্পন্ন হয়েছে এ দু’জন মহৎ ব্যক্তির নামে ম্যুরাল নির্মাণ। ১২টি বিভাগ থেকে ১৯টি বিভাগে উন্নীত করা হয়েছে। আধুনিকমানের চিকিৎসা সেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেন ব্যাথার দান নামক মেডিকেল সেন্টার এবং একটি আধুনিক এম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করেন, মহান স্বাধীনতায় নিহত শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য নির্মাণ করা হয়েছে চির উন্নত মম শির নামে মনোমুগ্ধকর স্মৃতিসৌধ, উন্নত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ‘সাব-স্টেশন’ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে এবং তাঁর প্রচেষ্টায় পিডিবির মাধ্যমে বিদ্যুতের জন্য এক্সপ্রেস ফিডার লাইন স্থাপিত হয়েছে, বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল’। এছাড়া, অডিটরিয়াম, জিমনেসিয়াম, একাডেমিক ভবন, ইনস্টিটিউট ভবন ও আইটি ভবন, মসজিদ, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য হলসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য ৪৮০ কোটি প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

এই সকল কর্মকান্ড নিজে তদারকি করছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। একাডেমিক কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য তিনি ইংরেজি বিভাগের প্রতি সেমিস্টারে একটি করে ক্লাস নিচ্ছেন। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে সফলভাবে সম্পন্ন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তন।

 

প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম, ব্যক্তি ও কর্মজীবনে অত্যন্ত ভদ্র , বিনয়ী, সৎ ও পরোপকারী। বর্তমান কর্মস্থলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ এবং সবাইকে তিনি সমানভাবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করছেন, তাঁর চলাফেরা একজন সহজ-সরল সাধারণ মানুষের মত। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম কে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’র উপাচার্য হিসাবে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং  ত্রিশালবাসী।

 

সামনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো অনেক উপাচার্য আসবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের নিজের মধ্যে একটা তাগিদ থাকতে হবে যে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়টার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে যাব সব ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই। সেক্ষেত্রে তার মধ্যে একটা ভিশন এবং কর্মদক্ষতা থাকতে হবে। সবাইকে এক সাথে আলসতা বর্জন করে এবং নিরলসভাবে কাজ করতে হবে ।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১:০৭ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ০৩, ২০১৭